কলকাতা: আট মরশুম পর ক্লাব কলকাতা লিগ জয়ের দোরগোড়ায় পৌঁছেছে। কিন্তু মোহনবাগানে এখন ফুটবলের চেয়েও বেশি উজ্জ্বল দুই গোষ্ঠীর লড়াই। আসন্ন ভোটের কথা মাথায় রেখে বেশ কিছুদিন হল কলকাতা-হাওড়ায় প্রচার শুরু করে দিয়েছেন টুটু-সৃঞ্জয়-দেবাশিসরা। শাসক গোষ্ঠী সে পথে না হেঁটে এতদিন ব্যস্ত ছিলেন স্পনসর আনার চেষ্টায়। শেষ পর্যন্ত স্পনসর আনলেও সংস্থার বোর্ড অফ ডিরেক্টর্সে নিজেদের সংখ্যাগরিষ্ঠতার সুযোগ নিয়ে সেই স্পনসরকে বিশ বাঁও জলে পাঠিয়ে দিয়েছেন টুটুবাবুরা। কারণ, ওই স্পনসরকে মেনে নিলেই স্পনসর আনার কৃতিত্ব জুটে যাবে অঞ্জন মিত্রর। এবং ভোটে টুটুগোষ্ঠীর পরাজয়  কার্যত নিশ্চিত হয়ে যাবে।

এতদিন প্রচারে না নামলেও গত রবিবার স্পনসরকে আসতে না দেওয়ার প্রতিবাদে হাওড়ায় সভা করে অঞ্জনগোষ্ঠী। তাতে বিপুল জনসমাগম হয়। এমনকি দেখা যায় অঞ্জনগোষ্ঠীর সভায় প্রায় ২২০ জন সদস্য(ভোটার) রয়েছেন। টুটুগোষ্ঠীর সভাগুলিতে যথেষ্ট জনসমাগম হলেও সদস্য সংখ্যা খুব একটা দেখা যায়নি। এই পরিস্থিতিতে ১২ সেপ্টেম্বর, কাস্টমস ম্যাচের দিন থেকে সরাসরি ভোটের প্রচারে যাওয়ার পরিকল্পনা করছিলেন অঞ্জন মিত্র। পরিস্থিতি বুঝে নয়া চাল দিলেন টুটু বসু।

ওই দিন ম্যাচের আগে যে সময় অঞ্জনের প্রচার পরিকল্পনা ছিল, তখনই(দুপুর সাড়ে তিনটে) বেঙ্গল ক্লাবে মোহনবাগান ফুটবল ক্লাব ইন্ডিয়ার বোর্ড অফ ডিরেক্টর্সের বৈঠক ডেকেছেন টুটু বসু। আলোচনার বিষয়, ফুটবলারদের বেতন ও ক্লাবের স্পনসর। টুটুবাবুর এই নয়া চাল নিয়ে ধোঁয়াশায় রয়েছে শাসক শিবির। ঘনিষ্ঠ মহলে তাঁরা দাবি করছিলেন টুটু বসুর সংস্থার থেকে ক্লাবের বেশ কিছু টাকা পাওনা রয়েছে। খেলোয়াড়দের সেপ্টেম্বরের বেতন দেওয়ার জন্য সেই টাকা চাওয়ার ভাবনাও ছিল তাঁদের। এই অবস্থায় টুটুবাবু ডিরেক্টরদের বৈঠক ডেকে কী জানাবেন, সেটা তাঁদের কাছে এখনও স্পষ্ট নয়। এমনকি বিরোধী গোষ্ঠী সেদিন বৈঠকে নতুন কোনো স্পনসরের নামও জানাতে পারেন বলে মনে করছে অঞ্জনগোষ্ঠীর অনেকে। কারণ নিজেরা স্ট্রিমকাস্টের থেকে আরও বড়ো কোনো স্পনসর আনলেই সদস্যদের মন জয় করতে পারবেন টুটুবাবুরা। কিন্তু সেক্ষেত্রে অঞ্জন এবং সোহিনীর ভূমিকা কী হবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। সব মিলিয়ে নতুন কুনাট্যের অপেক্ষায় শতাব্দীপ্রাচীন ক্লাব।

প্রসঙ্গত, আগামী ৬ অথবা ৭ অক্টোবর মোহনবাগানে ভোট হওয়ার সম্ভাবনা। ১৫ সেপ্টেম্বর হতে পারে আনুষ্ঠানিক দিন ঘোষণা।

উত্তর দিন

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন