কলকাতা: ম্যাচ বাঁচালেন টুটু বসু। আর কিছুটা ছেড়ে অনেকটাই পেলেন অঞ্জন মিত্র। তাই মোহনবাগানের বোর্ড মিটিং-এর শেষে ফের হাসিমুখে দেখা গেল দুই বন্ধুকে।

এদিন হাঙ্গারফোর্ড স্ট্রিটে টুটুবাবুর অফিসে মোহনবাগান প্রাইভেট লিমিটেডের বৈঠক শেষ হওয়ার কথা ছিল ঘণ্টাখানেক পর। চলল তিনঘণ্টা। হাজির ছিলেন পাঁচ ডিরেক্টর টুটু, অঞ্জন, সৃঞ্জয়, দেবাশিস ও অঞ্জন কন্যা সোহিনী। বৈঠকের শেষে টুটুবাবু বলেন ‘ফুটবল সংক্রান্ত যে কোনো সিদ্ধান্ত সৃঞ্জয়-দেবাশিস-সোহিনী মিলে নিয়ে নিতে পারবে’। অর্থাৎ দেবাশিসকে যেমন মেনে নিলেন অঞ্জন মিত্র, তেমনই সোহিনীকেও মেনে নিতে বাধ্য হলেন টুটু-সৃঞ্জয়-দেবাশিস। টুটু এসব কথা বলার সময় পাশে দাঁড়িয়ে হাসছিলেন অঞ্জনবাবু।

পাশাপাশি মোহনবাগানকে পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি করার ব্যাপারেও নিজের নৈতিক সমর্থনের কথা জানিয়েছেন টুটুবাবু। এই ব্যাপারে আইনি পরামর্শ নেওয়া হবে বলেও জানিয়েছেন। এছাড়া বোধহয় কোনো উপায়ও ছিল না। পাবলিক লিমিটেডের কথা বলে যদি অঞ্জন ভোটে লড়তেন, তাহলে অনেকেরই বিপদ ছিল।

অন্যদিকে পদত্যাগী প্রেসিডেন্ট যে এক কোটি টাকা দিয়েছেন, তা রিপ্লে সংস্থার তরফে নাকি ব্যক্তিগত- কীভাবে দেখানো হবে, তা নিয়েও আইনি পরামর্শ নেওয়া হবে।

তবে এসব নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে ২৩ জুন বার্ষিক সাধারণ সভায়।

যদি মোহনবাগান পাবলিক লিমিটেড হয়ে সদস্যদের জন্য শেয়ার বিক্রি করে, তাহলে তা বাংলার ফুটবল ইতিহাসে এক মাইল ফলক হিসেবে গণ্য হবে। সামন্ততন্ত্র থেকে গণতন্ত্রের পথে যাত্রার মতোই হবে তাঁর গুরুত্ব। তাতে পুরোনো সামন্তপ্রভুরা কিছু বাড়তি সুবিধা ভোগ করবেন নিশ্চয়। কিন্তু বাংলার ক্লাব ফুটবল যে ফর্ম্যাটে চলে, তাতে আগামী দিনে দেশ জোড়া একটা লিগের জন্য বাড়তি টাকা জোগাড়ের বাধ্যতা এবং সামন্ত প্রভুদের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব ছাড়া পাবলিক লিমিটেডের প্রস্তাব দিতই বা কে?

এদিন স্পনসর নিয়ে কোনো কথা বলেননি কেউই। টুটু বলেছেন, আপাতত ক্লাবে একটাই স্পনসর রয়েছে, এমপি বিড়লা সিমেন্ট।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here