কলকাতা: কিছুদিন ধরেই বাজারে জোর খবর চলতি মরশুমেই আইএসএল খেলতে পারে লালহলুদ। ক্লাবের শীর্ষ মহল থেকে খবরের সত্যতা স্বীকার না করলেও খবরটি প্রকাশ্যে আনা হয়েছে ক্লাবকর্তাদের তরফ থেকেই। এমনকি শোনা যাচ্ছে, আগামী বছরের বদলে এই বছর থেকেই ‘এক শহর এক দল’ নীতি থেকে সরে আসার ব্যাপারে নমনীয়তা দেখাতে রাজি এটিকে-ও। ব্যাপারটা কী?

আসলে ইউবি গ্রুপ সরে যাওয়ার পর ইস্টবেঙ্গলের মতো ঐতিহ্যশালী দলকে স্পনসর করার ব্যাপারে আগ্রহী অনেকেই। কিন্তু তাদের মধ্যে সবচেয়ে নামজাদা এবং সবচেয়ে আকর্ষণীয় প্রস্তাব নিয়ে যে সংস্থাটি হাজির হয়েছে, আইএসএল-এ তাদের নিজেদের দল খেলে। কিন্তু ইস্টবেঙ্গলের স্পনসর যদি তাঁরা হতে পারে, সেক্ষেত্রে নিজেদের দল তুলে নিয়ে ইস্টবেঙ্গলকেই খেলাতে আগ্রহী তাঁরা। তাতে আইএসএল কর্তৃপক্ষও কোনো আপত্তি করবে না বলেই খবর।

কিন্তু সমস্যা রয়েছে এক জায়গাতেই। ওই সংস্থার দাবি, ক্লাব ও সংস্থাকে নিয়ে যে নতুন কোম্পানি তৈরি হবে তার বোর্ডে সংখ্যাধিক্য থাকবে ওই সংস্থার। অর্থাৎ সাত জনের বোর্ড হলে চার জন থাকবে সংস্থার প্রতিনিধি, তিন জন ক্লাবের। কিন্তু তাতে লালহলুদ রাজি নয়। তাঁদের দাবি নিজেদের প্রতিনিধি। শেষ পর্যন্ত কী হবে এখনও বলা না গেলেও ওয়াকিবহাল মহলের ধারণা ক্লাবের এক বা একাধিক শীর্ষকর্তার স্বার্থরক্ষা হলে ওই সংস্থার ফর্মুলাতেই রাজি হয়ে যাবে ইস্টবেঙ্গল। কারণ এই ধরনের সংস্থার সঙ্গে গাঁটছড়া বাঁধাটা দীর্ঘমেয়াদে ক্লাবের স্বার্থের পক্ষে খুবই ভালো। তাই সহজে এদের হাতছাড়া করতে চান না কেউই।

তবে শুধু ওই সংস্থাই নয়, বড়ো স্পনসররা সকলেরই একই দাবি। মোহনবাগানের স্পনসর প্রায় ঠিক হয়ে গেলেও ওই বিন্দুতে  আটকে রয়েছে বাকি পথ পেরনোর উপায়। আর মজার ব্যাপার হল, এক্ষেত্রে একজোট দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ক্লাব। এখনও যা পরিস্থিতি দুই ক্লাবই একই শর্তে চুক্তিবদ্ধ হতে চান স্পনসরের সঙ্গে।

সেই কারণেই মোহনবাগানের বার্ষিক সাধারণ সভার শেষে অঞ্জন মিত্র বলেছিলেন, “ইস্টবেঙ্গল আইএসএল খেললে মোহনবাগান আইএসএল খেলবে, মোহনবাগান আইএসএল খেললে ইস্টবেঙ্গলও আইএসএল খেলবে”।

সেই না হওয়া নতুন সংস্থার কথা মাথায় রেখেই সাধারণ সভায় যুব সম্পাদক ও ক্রীড়া সচিব পদ দুটি তৈরি করেছেন মোহনবাগানের শাসকগোষ্ঠী, এমন ধারণা ময়দানের অনেকেরই।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here