শৈবাল বিশ্বাস

মোহনবাগান-ইস্টবেঙ্গল বা ঐতিহ্যের সঙ্গে জড়িয়ে আছে এমন কোনো দলকে বাদ দিয়ে ভারতের প্রধান ফুটবল লিগ চালানো যাবে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিল ফিফা। ফলে এই প্রাচীন ক্লাবগুলিকে বাদ দিয়ে আই এস এল চালিয়ে যাওয়ার যে পরিকল্পনা করা হচ্ছিল তা আদৌ কার্যকর করা সম্ভব হবে না। যদি আই লিগ বন্ধ করে শুধু আইএসএল চালু রাখতে হয় তাহলে মোহনবাগান  ইস্টবেঙ্গল বা এ ধরনের প্রাচীন ক্লাবগুলিকে নিয়েই তা চালাতে হবে। শুধু তাই নয় এই টিমগুলির কাছ থেকে কোনও এন্ট্রি  ফি-ও নেওয়া যাবে না। ফিফার প্রতিনিধি ভারতে এসে এ কথা জানানোয় এআইএফএফ যথেষ্ট বিব্রত হয়ে পড়েছে। আইএসএল ম্যানেজমেন্টের সঙ্গে হাত মিলিয়ে এআইএফএফ চেয়েছিল আইলিগ তুলে দিয়ে একটাই লিগ রাখতে। মোহন-ইস্টের মতো পুরনো টিম যদি টাকা দিয়ে খেলে তো খেলবে কিন্তু আই লিগ আর হবে না।

বুধবার ফিফার প্রতিনিধি নিক কাওয়ার্ড কলকাতায় এসে আইএফএ সচিব উৎপল গঙ্গোপাধ্যায়ের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনা করেন। সঙ্গে ছিলেন এএফসির প্রতিনিধি আলেক্স ফিলিপস ও এআইএফএফ ভাইস প্রেসিডেন্ট সুব্রত দত্ত। সবার সামনেই আলেক্স বলেন প্রাচীন ক্লাবগুলি তুলে দেওয়া ফিফার ঐতিহ্যের সঙ্গে খাপ খায় না। ফিফার অন্যতম স্লোগান হল- গো ফর হেরিটেজ। ফিফা এ ব্যাপারে দায়বদ্ধ। যে কারণে লাতিন আমেরিকার দুর্দশাগ্রস্ত ক্লাবগুলিকে সাহায্য করার কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। সুতরাং ফিফা এমন কোনো প্রস্তাবে সায় দিতে পারে না যাতে প্রাচীন ক্লাবগুলির ক্ষতি হয়।

নিক কাওয়ার্ডের মুখে এ কথা শুনেই এআইএফএফ কর্তারা বুঝে যান পুরনো ক্লাব ক্ষতিগ্রস্ত হোক এমন কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে না কারণ সে সিদ্ধান্ত ফিফা মেনে নেবে না। তখন সুব্রতবাবু প্রস্তাব দেন- ১৮ দল নিয়ে সাত মাসের  লিগ করলে কেমন হয়?  নিক কোনও মন্তব্য করেননি শুধু জানিয়েছেন, নভেম্বর মাসে চূড়ান্ত রিপোর্টে যা বলার বলবেন। পরিস্থিতি বুঝে এআইএফএফ তড়িঘড়ি আইলিগে নতুন দল ঢোকানোর বিডিং বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আগামী ১৬ সেপ্টেম্বরের বদলে তা আর কয়েকদিন বাদে করার জন্য প্রাইস ওয়াটার কুপার্স সংস্থাকে অনুরোধ করা হয়েছে। আসলে এআইএফএফ এখন চাইছে পুরনো যে ক্লাবগুলি আই লিগ থেকে সরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল তাদের বুঝিয়ে বুঝিয়ে ফিরিয়ে আনতে। নিখরচায় তারা বড়ো লিগ খেলার সুযোগ পাবে জানলে হয়তো অনেকেই ফিরতে পারে বলে সুব্রতবাবুদের ধারণা।

বৃহস্পতিবার ফিফার প্রতিনিধি মোহনবাগান ইস্টবেঙ্গল মাঠে গিয়েছেন। ততক্ষণে অবশ্য দুই ক্লাবের কর্তারা বুঝে গেছেন রিপোর্ট তাদের বিরুদ্ধে যাবে না।

উত্তর দিন

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন