জার্মানি – ১ (স্টিন্ডল)   চিলি – ০

সানি চক্রবর্তী: জোসুয়া কিমিচ, টিমো ওয়ের্নার, লিওন গোরেত্জগা, লার্স স্টিন্ডল, জুলিয়ান ড্র্যাক্সলার, হেক্টর, রুডি। সপ্তাহ দুয়েক আগে এই ফুটবলারদের ভালোভাবে যারা চিনতেন, তাদের সংখ্যাটা ছিল নেহাতই হাতেগোনা। আর জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহে এসে এরাই টমাস মুলার, জেরম বোয়াতেং, মেসুত ওজিল, মার্কো রিউস, সামি খেদিইরা, টনি ক্রুসদের চাপে ফেলে দিলেন। চাপটা জোয়াকিম লো-র জার্মান দলের প্রথম একাদশে স্থান পাওয়ার।

অচেনা, অজানা তরুণ জার্মান দলও বিশ্বমঞ্চে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করে গেল। বুঝিয়ে দিয়ে গেল বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের সাপ্লাই লাইন ঠিক কতটা মজবুত। উল্লেখ্য, দিনদুয়েক আগেই ফিফা অনূর্ধ্ব-২১ বিশ্বকাপ জিতেছে তরুণ জার্মান দল। কনফেডারেশনস কাপে খেলতে না এসে বেশ কয়েকজন জার্মান ফুটবলারের তো সেই মঞ্চেই খেলার কথা ছিল!

কনফেডারেশনস কাপের ফাইনালে কোপা আমেরিকার চ্যাম্পিয়ন চিলিকে ১-০ ব্যবধানে হারিয়ে প্রথমবার ট্রফিটা জিতল জার্মানি। ব্রাজিল, ফ্রান্সের পরে তৃতীয় দেশ হিসেবে বিশ্বকাপের সঙ্গে তারা জিতে নিল কনফেডারেশনস কাপটাও। ফাইনালের শুরু থেকে একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করেছিল চিলি। বলা ভালো দ্বিতীয়ার্ধের কিছুটা সময় বাদ দিয়ে খেলে গেল তারাই। কিন্তু আসল কাজের কাজটা করে গেল জার্মানি।

খেলার শুরু থেকে একের পর এক আক্রমণ শানিয়ে চিলি ব্যতিব্যস্ত করে তুলছিল জার্মান ডিফেন্সকে। বারবার পরীক্ষার মুখে পড়েও হিমশীতল স্নায়ু বজায় রাখছিলেন রুডিগার-মুস্তাফিরা। অবশ্যই প্রশংসা করতে হবে গোলরক্ষক টের স্টেগেনরও। চিলির আক্রমণের সুনামির মাঝে যখন মনে হচ্ছে তাদের লিড নেওয়াটা স্রেফ সময়ের অপেক্ষা, ঠিক তখনই উলটপুরান। অভিজ্ঞ মার্সেলো ডিয়াজের শিক্ষানবীশের ন্যায় ভুল। বাজপাখির মতো ছোঁ মেরে এগিয়ে ব্রাভোকে একদিকে টেনে নিয়ে গেলেন ‘গোল্ডেন বুট’ বিজয়ী ওয়ের্নার। সেখান থেকে স্টিন্ডলের জন্য তার জীবনের সবথেকে সহজ গোলের সুযোগ। বল ধরে এক পা এগিয়ে আলতো করে ফাঁকা নেটে বল ঠেলে দিলেন স্টিন্ডল। এই গোলের সুযোগ ছাড়াও বেশ কয়েকবার চিলি রক্ষণকে ভুল করতে বাধ্য করেছেন এবারের বুন্দেশলিগায় আরবি লেইপজিগের হয়ে ঝড় তোলা ওয়ের্নার।

মারাদোনার থেকে ‘গোল্ডেন বল’ পেলেন জুলিয়ান ড্র্যাক্সলার। কনফেডারেশনস কাপের জন্য জার্মান অধিনায়ক তার প্রতিযোগিতা সেরা হওয়াটা ফাইনালের মঞ্চে আরও উপভোগ্য করার সুযোগ পেয়েছিলেন। প্রথমার্ধের একেবারে শেষদিকে চিলির রক্ষণের ভুলে বল নিয়ে এগিয়ে অরক্ষিত গোরেত্গজাকে বল বাড়ান ড্র্যাক্সলার। সেমিফাইনালে জয়ের কারিগর বাঁ পায়ে রিসিভ করে ডান পায়ে শট নেওয়ার আগেই তার পথ ছোটো করে বিপদ সামাল দেন ব্রাভো।

গোল্ডেন বুট জিতলেন ওয়ের্নার

দ্বিতীয়ার্ধেও বেশ কয়েকবার গোলের কাছে গিয়েও খেই হারিয়েছে চিলি। গোটা ম্যাচে ২০ টা গোলমুখী শট নিয়েছে তারা। কিন্তু লক্ষ্যে ছিল মাত্র ৮ টা। আরও ভালো করে বললে স্টেগেনকে বেশ কিছুটা খাটতে হয়েছে মাত্র বার তিনেক। আর খেলা শেষ হওয়ার মিনিট পাঁচেক আগে ছ-গজ দূর থেকে চিলির একটি প্রয়াস বারের উপর দিয়ে উড়িয়ে দিয়ে সবথেকে সহজ সুযোগটা নষ্ট করেন পরিবর্ত সাগাল। অভিজ্ঞ চিলি দলকে বারবার আটকে দেওয়ার জন্য কৃতিত্ব দাবি করতেই পারেন জার্মানরা। আর কিমিচের কথা আলাদা করে উল্লেখ না করলে ম্যাচের চিত্রটাই অসম্পূর্ণ থেকে যাবে। অ্যালেক্সি স্যাঞ্চেজকে গোটা ম্যাচে বোতলবন্দি করে রেখেছিলেন বায়ার্ন মিউনিখের এই উঠতি তারকা। ভিদাল কয়েকটা প্রয়াস তৈরি করলেও স্যাঞ্চেজের সাহায্য না পেয়ে মাথা গরম করে মাঝে বিশ্রীভাবে ধাক্কাও দেন ক্লাব সতীর্থ কিমিচকে। ঠান্ডা মাথার এই উইটিলিটি ফুটবলার বড়ো মঞ্চে সত্যিই প্রমাণ করে দিলেন কেন স্বয়ং ফিলিপ লাম তাকে এত স্নেহ করতেন।

ট্রফি ছাড়াও জোয়াকিম লো পেলেন সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ জিনিষ। জার্মানির প্রথম একাদশে থাকার জন্য তীব্র লড়াই। দলের মধ্যে ঠিক এই প্রতিযোগিতাটার জন্যই তো কনফেডারেশনস কাপে তরুণদের নিয়ে এসেছিলেন জার্মান কোচ।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন