সানি চক্রবর্তী: টানা ৭ ম্যাচের সাতটিতেই জয়। ২১ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ সি-র শীর্ষে। ম্যাট হামেলসের শেষলগ্নের গোলে বিশ্বকাপের যোগ্যতাঅর্জন পর্বে জয়ের ধারা অব্যাহত রাখল জার্মানি। তবে তাদের পারফরম্যান্স ছিল অত্যন্ত ম্যাড়মেড়ে। শুরুতে টিমো ওয়ের্নার ও শেষে হামেলসের গোল ছাড়া জার্মানি-সুলভ আধিপত্য ছিল না জোয়াকিম লো-র খেলায়। বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের যেরকম দাপট দেখে অভ্যস্ত ফুটবলবিশ্ব, তার ছিটেফোঁটাও দেখা গেল না এদিন। অনেকে বলতেই পারে, বাজে খেলেও পকেটে তিন পয়েন্ট ভালো দল তো একেই বলে। নিশ্চয়ই, সন্দেহাতীত দিনের শেষে কথা বলে একমাত্র ম্যাচের ফলাফল। তবে চেক প্রজাতন্ত্র এদিন যে ফুটবলটা উপহার দিল, প্রতিপক্ষে অন্য কোনো বড়ো দল থাকলে ম্যাচের রং অন্যরকম হতেই পারত। একাধিক সুযোগ পেয়েছিল চেক দল। শুধুমাত্র অনভিজ্ঞতা ও জার্মানদের হার না মানা মনোভাবের জেরে শেষ পর্যন্ত বশ মানল তারা। যদিও জোয়াকিম লো-র দলকে চিন্তায় ফেলে দিয়েছিল ৭৮ মিনিটে ভ্লাদিমির দারিদার দুরন্ত গোল। প্রায় ২৫ গজ দূর থেকে তার নেওয়া ডান পায়ের গোলার মতো শট টের স্টেগেনকে দাঁড় করিয়ে রেখে জালে জড়িয়েছিল। প্রাগের ইডেন এরিনা বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের তখন পয়েন্ট কেড়ে নেওয়ার আগাম আনন্দের ছোঁয়ায় ফুটছে। যদিও ৮৭ মিনিটের মাথায় ভুল করল তারা। বক্সের ঠিক বাইরে থেকে টনি ক্রুজের মাপা ফ্রি-কিকে জোরালো হেডে জয় নিশ্চিত করলেন হামেলস। খেলা শুরুর মিনিট চারেকের মধ্যে ওজিলের পাস ধরে ওয়ের্নারের গোলে লিড নিয়েছিল তারা। কথায় বলে শেষ ভালো যার, তার সব ভালো। তাই জার্মানি জয়ে সমর্থকরা নিশ্চয় খুশি হবেন। কিন্তু লো যে বেশ চিন্তায় থাকবেন, সেটা পরিষ্কার।

 

অন্যদিকে মাল্টার বিরুদ্ধে ৪-০ ব্যবধানে সহজেই জিতল ইংল্যান্ড। স্কোরলাইন দেখে যদিও মাল্টার আলট্রা ডিফেন্সিভ ফুটবলের কাছে ইংল্যান্ডের হন্যে হওয়ার হদিস মিলবে না। দুর্বল দলের বিরুদ্ধে গ্যারেথ সাউথগেটের প্রশিক্ষণাধীন দল বড়ো ব্যবধানে জিতবে, প্রত্যাশিত ছিল এটাই। কিন্তু প্রথমার্ধের শেষদিকে দলের খেলা দেখ ইংল্যান্ড থেকে খেলা দেখতে যাওয়া সমর্থকরা নিজেদের দলকেই ক্রমাগত ব্যঙ্গ করছিলেন। এমনই ছিল তাদের হাল। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে মার্কাস রাশফোর্ড ও কিছুটা পরে জেমি ভার্ডি নামতে আক্রমণের বৈচিত্র্য বাড়ে ইংল্যান্ডের। ৫৩ মিনিটে ও খেলার সংযোজিত সময়ের একেবারে শেষলগ্নে দুটি গোল করেন হ্যারি কেন। ৮৫ মিনিটে ব্রেটান্ড ও সংযোজিত সময়ের প্রথম মিনিটে অপর পরিবর্ত ড্যানি ওয়েলবেক আর বাকি দুটি গোল করেন। এদিন জিতে ৭ ম্যাচে ১৭ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুফ এফ-এর শীর্ষেই থাকল ইংল্যান্ড।

এদিকে, বিশ্বকাপের যোগ্যতাঅর্জন পর্বে অপর একটি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে পোল্যান্ডকে ০-৪ ব্যবধানে হারিয়ে চমক দিল ডেনমার্ক। এদিনের হারের পরেও রবার্ট লেওয়ানডস্কির নেতৃত্বাধীন পোল্যান্ড ৭ ম্যাচে ১৬ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ ই-এর শীর্ষে থাকল। সমসংখ্যক ম্যাচে ১৩ পয়েন্টে পৌঁছে গেল ডেনমার্ক, একই পয়েন্টে রয়েছে মন্টিনেগ্রোও। তাই এই গ্রুপের থেকে বিশ্বকাপের ছাড়পত্র জোগাড়ের লড়াই বেশ জমে গেল। কারণ নিয়মানুযায়ী, ৯টি গ্রুপের শীর্ষে থাকা দেশগুলি সরাসরি ২০১৮ রাশিয়া বিশ্বকাপের ছাড়পত্র পাবে। আর ইউরোপ থেকে চারটি চারটি স্থানের জন্য দ্বিতীয় পর্বের লড়াইয়ে নামবে ৯টি গ্রুপের সেরা আটটি দ্বিতীয় স্থানাধিকারী দেশ।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here