কনফেডারেশনস কাপ: জার্মানির পরিকল্পনামাফিক খুনে ফুটবলে দিশেহারা মেক্সিকো

0
890

জার্মানি – ৪ (গোরেত্জগা-২, ওয়ের্নার, ইউনেস)   মেক্সিকো – ১ (ফাবিয়ান)

সানি চক্রবর্তী: খেলা দেখে বোঝার উপায় নেই। একাধিক তারকাকে বিশ্রাম দিয়ে তরুণ প্রতিভাদের নিয়ে গড়া এই জার্মান দল। জার্মানিসুলভ পরিকল্পনামাফিক খুনে ফুটবলে মেক্সিকো বধ করলেন জোয়াকিম লো-র প্রশিক্ষণাধীন ছেলেরা। খেলার ফল ৪-১। স্কোরলাইন যদিও প্রমাণ দেয় না গোটা ম্যাচে কতটা মরিয়া প্রচেষ্টাই না করে গেছে মেক্সিকো দল। অল্পের জন্য বেশ কিছু প্রয়াসে গোল না আসাটাও মনে করায় না স্কোরলাইন। কারণ, চার গোল হজম করা।

আক্রমণে মেক্সিকো মোটামুটি সবল হলেও রক্ষণে যথেষ্ট দুর্বল। কনফেডারেশনস কাপের গ্রুপপর্বের ম্যাচেই তা বোঝা গিয়েছিল। ঝানু ট্যাকটিশিয়ান লো তাই প্রথম থেকেই দলকে ফিফথ গিয়ারে আক্রমণে ঝাঁপানোর সবুজ সংকেত দিয়ে রেখেছিলেন। তবে খেলার ৮ মিনিটের মধ্যেই তার দল ২-০ ব্যবধানে লিড নেবে, সেটা বোধহয় ভাবেননি স্বয়ং জার্মান কোচও। বলতে গেলে লিওন গোরেত্জগার ৬ ও ৮ মিনিটের মাথায় দুটি দুর্দান্ত গোলেই খেলার ভাগ্য লেখা হয়ে গিয়েছিল। তাও হাল ছাড়েনি মেক্সিকো। গোটা ম্যাচে যে লড়াইটা ডস স্যান্টোস, হিমিনেজরা মেলে ধরলেন তা প্রশংসা পাওয়ার দাবি রাখে। কিন্তু বিপক্ষের বক্সে গিয়ে বারবার খেই হারালেন তারা। আর এখানেই তরুণ জার্মান দলের মুন্সিয়ানা। না বলা ভালো ভয়ংকর সুন্দর ফুটবলের নিদর্শন। টপ গিয়ারে আক্রমণে মেক্সিকো উঠলেই বল ছিনিয়ে পালটা আক্রমণ, তাদের দমিয়ে দেওয়ার একেবারে মোক্ষম দাওয়াই। কনফেডারেশনস কাপ শুরুর আগে চেয়েছিলেন সিনিয়র দলের সাপ্লাই লাইন তৈরি করতে। চেয়েছিলেন প্রথম একাদশের প্রতিটা স্থানের জন্য বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের মধ্যে কঠিন একটা লড়াই। প্রতিযোগিতার ফাইনালে পৌঁছে তার মুখে হাসি ফুটতেই পারে, বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের সাপ্লাই লাইন যে প্রস্তুত সেটা বুঝিয়ে দিলেন তরুণ জার্মান তুর্কিরা।

গোরেত্গজার প্রথম গোলটি বাঁধিয়ে রাখার মতো। মেক্সিকোর অধিনায়ক হেক্টর মোরেনোর ভুল ক্লিয়ারেন্স ধরে মুভ শুরু গোরেত্জগার। ৬ মিনিটে বক্সের ঠিক বাইরে থেকে ডান পায়ে বাক খাওয়ানো তার শট পুরো শরীর ছুঁড়েও থামাতে পারেননি ওচোয়া। মিনিট দুয়েকের মধ্যে বক্সে ঢুকে মেক্সিকান গোলরক্ষকের পায়ের ফাঁক দিয়ে দ্বিতীয় গোল। দুগোলে পিছিয়ে গিয়ে খেলা থেকে হারিয়ে না গিয়ে আস্তে আস্তে আক্রমণে জোর বাড়ায় মেক্সিকো। কিছুটা যেন হালকা ঢংয়ে খেলা দেখা যায় জার্মানির তরফেও। কয়েকটি সুযোগ তৈরি হলেও সেভাবে টের স্টেগেনকে পরীক্ষার মধ্যে ফেলতে পারেননি মেক্সিকানরা। প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার কিছুটা আগে হার্নান্ডেজ ঠিকমতো বলে পা লাগাতে পারেননি। সেক্ষেত্রে মেক্সিকো গোল পেলে হয়তো ম্যাচের ফলাফল অন্যরকম হতেও পারত।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকে ফের জার্মান পেশাদারিত্বের নমুনা। মাঝে ৫৯ মিনিটে হেক্টর-ওয়ের্নারের কম্বিনেশনে তৃতীয় গোল। তখন কার্যত কাঁধ ঝুঁকে গিয়েছে মেক্সিকোর। যদিও তার পরেও হিমিনেজের একটি প্রয়াস পোস্টে লেগে প্রতিহত হয়। কয়েকটা ক্ষেত্রে দক্ষতা প্রদর্শন করতে হয় টের স্টেগেনকে। আর একেবারে শেষলগ্নে মেক্সিকোর সাত্বনাসূচক ফাবিয়ানের গোলটি আসে গোলার মতো শটে। জার্মানি যদিও তাতেও রেহাই দেয়নি তাদের। সংয়োজিত সময়ের প্রথম মিনিটে পরিবর্ত ইউনেস ৪-১ করেন।

ফাইনালে ফের একবার ছন্দ ফিরে পাওয়া অনভিজ্ঞ জার্মানির সামনে অভিজ্ঞ চিলি। গ্রুপ স্তরে মুোমুখি হয়েছিল দুই দল। তাই আত্মবিশ্বাসে জার্মান শিবিরের নজর এবার তাদের হারিয়ে ট্রফি জেতাতেই, জানিয়ে রাখলেন গোরত্জগা, ড্র্যাক্সলাররা।

এক ক্লিকে মনের মানুষ,খবর অনলাইন পাত্রপাত্রীর খোঁজ

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here