goodbye to swapna
স্বপ্নাকে চোখের জলে বিদায় দিলেন মা। নিজস্ব চিত্র।

রাজা বন্দ্যোপাধ্যায়

জলপাইগুড়ি: বাড়ির লোকজন ভেবেছিলেন স্বপ্না এলে জমিয়ে গল্প করবেন। তা আর হল না। দিন তিনেকের ব্যস্ত সফর কাটিয়ে স্বপ্না চলে গেলেন কলকাতায়।

মেয়ে সকালেই চলে যাবেন। দাদারা আগের দিন রুই মাছ এনে রেখেছিলেন। রুই মাছের ঝোল আর ভাত খেয়ে রওনা হয়ে যান স্বপ্না। সকাল সাড়ে সাতটায় স্বপ্না বাড়ি থেকে বাগডোগরার পথে রওনা হয়ে যান। অশ্রুসজল চোখে বাড়ি এবং পাড়ার প্রতিবেশীরা তাঁকে বিদায় জানান। মায়ের চোখে জল। সকাল সাড়ে দশটায় তাঁর বিমান ছেড়ে যায়।

রবিবার রাতে গ্রামে গিয়ে প্রতিবেশীদের বাড়ি বাড়ি ঘুরেছেন। বাড়ির লোকজন গল্প করার সুযোগই পাননি। স্বপ্নার দাদা অসিত বর্মন বলেন, “বোন বাড়িতে এল। ভাবলাম ওর কাছে দেশবিদেশের গল্প শুনব। পাঁচ মিনিটও কথা বলার সুযোগ পেলাম না।”

সাই সুত্রে জানা যায় যে স্বপ্নার পা, হাঁটু এবং কোমরের চিকিৎসার জন্য তাঁকে মুম্বই যেতে হবে। অন্যত্রও যেতে হতে পারে। জুতোর জন্য তাঁর বিদেশেও যাওয়ার কথা আছে। এই সব শেষ করতে করতে এ মাস শেষ হয়ে যাবে। তার পর কলকাতার সাই কমপ্লেক্সে স্বপ্নার অনুশীলন শুরু হবে। অলিম্পিকের আগে ২০১৯ সালে এশিয়ান চ্যাম্পিয়ানশিপ এবং ওয়ার্ল্ড চ্যাম্পিয়নশিপ আছে।

স্বপ্নার কোচ সুভাষ সরকারের সঙ্গে কলকাতায় যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “ট্রেনিং শুরু করার পর স্বপ্না কতটা লোড নিতে পারে তা দেখতে হবে। আস্তে আস্তে ওকে লক্ষ্যের পথে নিয়ে যেতে হবে। প্রথমে লক্ষ্য হবে ৬১০০ পয়েন্টের দিকে এগিয়ে যাওয়া। তার পর ৬২০০ এবং তার পর ৬৩০০ পয়েন্ট করা। এই ভাবে ওকে এগোতে হবে।”

একটা বিষয়ে সাইয়ের কর্তারা শঙ্কিত। এশিয়ান গেমসে সফল হওয়ার পর প্রচুর অর্থ, খ্যাতি এবং ভালো চাকরি পেয়ে ভারতের বহু অ্যাথলিট হারিয়ে গিয়েছে। স্বপ্নার ক্ষেত্রে সে রকম কোনো ঘটনা ঘটবে না তো। স্বপ্নাও প্রচুর অর্থ এবং খ্যাতি পেয়েছেন। এশিয়ান গেমসের আগের স্বপ্নার সঙ্গে এখনকার স্বপ্নার অনেক তফাত। অনুশীলন শুরুর আগে তাঁকে মানসিক প্রস্তুতিও নিতে হবে।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন