fifa world cup

ওয়েবডেস্ক: দুর্গাপুজো শেষ হতে না হতেই ফুটবল পার্বণ শুরু। শুক্রবারই ঢাকে কাঠি পড়ে যাবে অনূর্ধ্ব-১৭ বিশ্বকাপে। হোক না অনূর্ধ্ব-১৭, বিশ্বকাপ তো বিশ্বকাপই। ইতিমধ্যে দেশে পা রাখতে শুরু করে দিয়েছে দলগুলি।

এই বিশ্বকাপে কিন্তু বেশ কিছু চমক রয়েছে। আমরা ফুটবল বলতেই যে দেশগুলির কথা আগে ভাবি, তার মধ্যে চারটে দেশকেই এ বার বিশ্বকাপের আসরে দেখা যাবে না। সেগুলি হল আর্জেন্তিনা, ইতালি, নেদারল্যান্ডস এবং পর্তুগাল। পরিবর্তে বেশ কিছু নতুন দলের খেলা দেখব আমরা, যাদের নিয়ে আমাদের কোনো ধারণাই নেই। এই টুর্নামেন্টে সব থেকে বেশি, পাঁচ বার চ্যাম্পিয়ন হয়েছে নাইজেরিয়া। দু’বার চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ঘানা। দুর্ভাগ্যের বিষয় হল বড়োদের বিশ্বকাপে সে ভাবে উল্লেখযোগ্য কোনো পার্ফর্মেন্স দেখাতে পারে না দলগুলি। যা-ই হোক, এক বার চোখ বুলিয়ে নেওয়া যাক বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ করা ২৪টা দেশের ওপরে। আজ থাকল ১২টি দেশের পরিচয়।

গ্রুপ-এ

(ভারত ছাড়াও এই গ্রুপে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, কোলোম্বিয়া এবং ঘানা)

ভারত

india under 17

আয়োজক দেশ হওয়ার সুবাদেই এই টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণ করছে ভারত। এশিয়ান দলগুলির জন্য বিশ্বকাপের মূলপর্বে ওঠার যে টুর্নামেন্ট হয়, অনুর্ধ্ব-১৬ এএফসি চ্যাম্পিয়নশিপ, সেই টুর্নামেন্টে একেবারেই আশানরূপ ফল করেনি ভারত। গত বছর ওই টুর্নামেন্টে ভারত নিজেদের গ্রুপে সবার নীচে শেষ করে। তবে ভারত এই প্রথম ফিফার কোনো টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণ করায় স্বাভাবিক ভাবেই ফুটবলভক্তরা স্বপ্ন দেখা শুরু করেছে তাদের প্রিয় দলকে ঘিরে।

সেই স্বপ্ন আরও দৃঢ় করছে দলটির সাম্প্রতিক ফর্ম। গত বছর খারাপ পারফরমেন্সের পর কোচ বদল হয় ভারতের। নয়া কোচ পর্তুগিজ লুইস নোর্তোন দে মাতোস দায়িত্ব্ব নেওয়ার পরে ফর্ম বদলেছে ভারতের যুবদলের। বিদেশ সফরে বেশ ভালো ফল করেছে ভারত।

দলের আশা এবং ভরসার জায়গা তাদের অধিনায়ক অমরজিত সিংহ কিয়ামকে ঘিরে। মাঝমাঠ থেকে তিনিই গোটা দলকে চালনা করবেন। নজর থাকবে বাংলার অভিজিৎ সরকারের ওপরেও। দেশের জার্সি গায়ে ১৮ ম্যাচে সাতটি গোল করেছেন তিনি।

যুক্তরাষ্ট্র, কোলোম্বিয়া এবং ঘানাকে হারিয়ে ভারতের পক্ষে দ্বিতীয় রাউন্ডে যাওয়া মুশকিল তো বটেই, কিন্তু কে বলতে পারে গোটা মাঠের সমর্থনে নিজেদের উদ্বুদ্ধ করে কিছু অঘটন ঘটাল না তারা! ২০০২-এর ফুটবল বিশ্বকাপে সেনেগাল বা ২০০৩-এ ক্রিকেট বিশ্বকাপে কেনিয়ার কথা মনে আছে তো?

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র

১৯৯৯-এর বিশ্বকাপে শেষ চারে পৌঁছোনোই এই দলের সর্বশ্রেষ্ঠ প্রদর্শন। গত বিশ্বকাপে দ্বিতীয় রাউন্ডে উঠতে না পারলেও, এ বার কিন্তু যোগ্যতাঅর্জনকারী পর্বে তুখোড় ফর্মে ছিল ট্রাম্পের দেশ। যোগ্যতাঅর্জনকারী পর্বে ফাইনাল পর্যন্ত সমস্ত ম্যাচ জিতেছে যুক্তরাষ্ট্র। ফাইনালে মেক্সিকোর কাছে হেরে যায় তারা। দলকে কাউন্টার আট্যাকিং স্টাইলে খেলাচ্ছেন কোচ জন হ্যাকওয়ার্থ।

কোলোম্বিয়া

খামেস রোদরিগেজদের উত্তরসূরিরাও কিন্তু এই বিশ্বকাপে যথেষ্ট ভালো দল। যোগ্যতাঅর্জনকারী পর্বে তৃতীয় হয়ে বিশ্বকাপে এসেছে গাব্রিয়েল গার্সিয়া মের্কেজের দেশ। শুধুমাত্র ব্রাজিল এবং চিলের কাছে হেরেছিল তারা। মূলত পোজেশন স্টাইলে ফুটবল খেলে এই দল। রক্ষণের ওপরেই ভরসা রাখে এই দল।

ঘানা

দু’বার বিশ্বচ্যাম্পিয়ন এই দলটির সাম্প্রতিক অতীত অবশ্য ভালো নয়। প্রায় এক দশক পর ফের যুববিশ্বকাপ খেলছে কোয়ামে এনক্রুমার দেশ। যোগ্যতাঅর্জনকারী টুর্নামেন্টের ফাইনাল পর্যন্ত ওঠে দলটি। ফাইনালে অবশ্য মালির কাছে হেরে যায় তারা। যুক্তরাষ্ট্র এবং কোলোম্বিয়াকে টপকানো সহজ না হলেও, অনেকেই ঘানার ওপরেই বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার বাজি ধরেছেন।

গ্রুপ বি

(এই গ্রুপে রয়েছে পারাগুয়ে, মালি, নিউজিল্যান্ড এবং তুরস্ক)

পারাগুয়ে

গত বার টুর্নামেন্টের গ্রুপ পর্যায় থেকেই বিদায় নিয়েছিল পারাগুয়ে। কিন্তু লাতিন আমেরিকার এই দলটিকে ফেলে দেওয়া যায় না। এই বিশ্বকাপের যোগ্যতাঅর্জনকারী রাউন্ডে অন্যতম আক্রমণাত্মক দল ছিল তারা। মোট ১৬টা গোল করেছিল দলটি, সামনে ছিল শুধু ব্রাজিল। তবে দলের আক্রমণের বিভাগ যতটা শক্তিধর, রক্ষণবিভাগ ততটা নয়।

মালি

প্রচণ্ড দরিদ্র পরিবার থেকে উঠে আসা এই দলটির কাছে ফুটবলই জীবন। অনুর্ধ্ব-১৩ পর্যায়ে থেকে এক সঙ্গে খেলছেন এই দলের ফুটবলাররা। ফলে খেলোয়াড়দের মধ্যে বোঝাপড়াও দুর্দান্ত। সাধারণত যুব বিশ্বকাপে আফ্রিকান দেশগুলির রেকর্ড নজরকাড়া। সেই রেকর্ডে মালি নতুন পালক যোগ করবে বলেই আশা এই দেশের মানুষদের।

নিউজিল্যান্ড

new zealand under 17

ক্রিকেট বা রাগবিতে যতটা খ্যাতি এই দেশের, ফুটবলে ততটা নয়। এই টুর্নামেন্টে নিঃসন্দেহে আন্ডারডগ তারা। কিন্তু যোগ্যতাঅর্জনকারী পর্বে তাদের খেলা দেখলে চমৎকৃত না হয়ে পারা যায় না। ওশেনিয়া গ্রুপের যোগ্যতাঅর্জনকারী পর্বে সামোয়াকে ১১-০, ফিজিকে ৫-০ এবং ফাইনালে নিউ ক্যালিডোনিয়াকে ৭-০-তে হারিয়ে এই টুর্নামেন্টে আসছে দলটি।

তুরস্ক

এর আগে মাত্র দু’বার এই টুর্নামেন্ট খেলেছে এই দল, তবে দু’বারই পারফরমেন্সে নজর কেড়েছে তারা। যোগ্যতাঅর্জনকারী পর্বে ইতালিকে হারিয়েছে দলটি। হাঙ্গারি এবং ক্রোয়েশিয়ার মতো দলকে হারানোর পাশাপাশি পাল্লা দিয়েছে স্পেন এবং ইংল্যান্ডের সঙ্গেও।

গ্রুপ সি

(এই গ্রুপে রয়েছে জার্মানি, ইরান, গিনি এবং কোস্তা রিকা)

জার্মানি

germany under 17

আধুনিক ফুটবলে অন্যতম শক্তিধর দেশ জার্মানি। বড়োদের ফুটবলে ব্রাজিল, আর্জেন্তিনার মতো দলগুলিকে পেছনে ফেলে দিয়েছে তারা। কিন্তু বিস্ময়কর ব্যাপার হল, এখনও যুববিশ্বকাপের ট্রফির ছোঁয়া পায়নি জার্মানি। এখনও পর্যন্ত জার্মানির সেরা পারফরমেন্স বলতে ১৯৮৫ এবং ২০০৭-এ রানার্স হওয়া। বিশ্বকাপের যোগ্যতাঅর্জনকারী পর্বে ৩৬টি গোল করে বিপক্ষের ত্রাস হয়ে উঠেছিল তারা। তবে ফাইনালে পেনাল্টি শুট আউটে স্পেনের কাছে হেরে যায় জার্মানি।

ইরান

গত বছর যোগ্যতাঅর্জনকারী টুর্নামেন্টে রানার্স হয় ইরানের যুবদলটি। ফাইনালে ইরাকের কাছে পেনাল্টি শুট-আউটে হারলেও তার আগে ভিয়েতনাম, উত্তর কোরিয়ার মতো দলগুলিকে হারিয়েছে তারা। তবে ইরানকে ঘিরে খুব একটা বেশি প্রত্যাশা নেই দেশবাসীর। অতীতের পরিসংখ্যানও খুব সাধারণ। ২০০১-এ প্রথম বার এই টুর্নামেন্ট খেলে ইরান। পরে ২০০৯ এবং ২০১৩ সালের বিশ্বকাপে পৌঁছলেও নজরকাড়া প্রদর্শন দিতে পারেনি ইরান।

গিনি

আরও এক স্বল্প পরিচিত দেশ। যোগ্যতাঅর্জনকারী পর্বে তৃতীয় হয়ে এই টুর্নামেন্টে আসছে এই দল। তারকা-সংস্কৃতি নয়, দল হিসেবেই বেশ নজর কেড়েছে গিনি। যোগ্যতাঅর্জনকারী পর্বে একাই ছ’গোল করে তাক লাগিয়ে দিয়েছিলেন স্ট্রাইকার জিবরিল ফাঞ্জি। দেশের সমস্ত আশা এবং ভরসা থাকবে তাঁরই ওপরে।

কোস্তা রিকা

এ বছর বইমেলায় থিম দেশ ছিল কোস্তা রিকা। তাই অনেক বাঙালির কাছেই কিছুটা পরিচিত হয়েছে সেন্ট্রাল আমেরিকার এই দেশটি। এই নিয়ে দশম বার টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণ করছে তারা। তবে গত বছর ফ্রান্সকে চমকে দিয়ে বিশ্বকাপের শেষ আটে পৌঁছে গিয়েছিল তারা। দলটি তারকাখচিত নয়। কোচের মগজাস্ত্রই এই টুর্নামেন্টে কোস্তা রিকার সম্বল।

(চলবে)

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here