ভারত (প্রথম ইনিংস) ৩৯৯-৩ (ধাওয়ান ১৯০, পুজারা ১৪৪ অপরাজিত, প্রদীপ ৩-৬৪_

গল: দু’জনেই দিল্লিবাসী, দু’জনের ব্যাট করার ধরন এক। দু’জনেই পড়লেন ২৬-এর গেরোয়।

প্রথম জন বীরেন্দ্র সহবাগ, দ্বিতীয় জন শিখর ধাওয়ান। কিন্তু ‘২৬-এর গেরো’ কেন? ২০০৩-এর ২৬ ডিসেম্বরের কথা মনে আছে। ওই দিন ভারতীয় ক্রিকেটে নতুন ভাবে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন সহবাগ। মেলবোর্নের মাঠে তাঁর দাপটে উড়ে যাচ্ছিলেন অস্ট্রেলীয় বোলাররা। কিন্তু ১৯৫-তে পৌঁছোতেই ধৈর্যচ্যুতি ঘটে তাঁর। ছক্কা হাঁকাতে গিয়েই বাউন্ডারি লাইনে ধরা পড়েন তিনি। নিজের কেরিয়ারের প্রথম দ্বিশতরানটি হেলায় মাঠে ফেলে আসেন বীরু।

কাট টু ২৬ জুলাই ২০১৭। ঠিক একই ছন্দে খেলছিলেন আরও এক দিল্লিবাসী শিখর ধাওয়ান। ভারতের দুই ‘ফার্স্ট চয়েস’ ওপেনার মাঠের বাইরে। তাই বুধবার ভারতের ইনিংস শুরু করার দায়িত্ব পান শিখর এবং অভিনব মুকুন্দ। মুকুন্দ কোনো রান পাননি। কিন্তু একদিনের ম্যাচের মেজাজ নিয়ে ব্যাট করা শুরু করেন ধাওয়ান। তাঁর দাপটে শ্রীলঙ্কার বোলারদের ত্রাহি ত্রাহি অবস্থা। সহবাগোচিত ইনিংসের মাধ্যমে টেস্ট দলের নিজের জায়গা পাকা করার জোরালো সওয়াল করছিলেন তিনি। যত তাঁর ইনিংস গড়িয়েছে তত আক্রমণাত্মক হয়েছেন তিনি। ৬২ বলে ৫০, ১১০ বলে শতরান পূর্ণ করার পর, দেড়শো পেরতে মাত্র ১৪৭টি বল খরচ করেন তিনি। কিন্তু সহবাগের মতো তাঁরও ধৈর্যচ্যুতি ঘটল, যখন তিনি ১৯০-এ। নুয়ান প্রদীপের বলে অহেতুক এগিয়ে এসে মারতে গিয়ে ক্যাচ দিয়ে দেন তিনি।

ধাওয়ান ফিরে যাওয়ার একটু পরেই ফিরে যান অধিনায়ক কোহলি। সারা দিনের খেলায় ওই সময়তেই মনে হচ্ছিল শ্রীলঙ্কা ম্যাচে ফিরতে পারে। বল হাতে জ্বলে উঠেছেন প্রদীপ। আর দু’টো উইকেট ফেলে দিলে পারলেই শ্রীলঙ্কা ম্যাচে পুরোপুরি ফিরে আসবে। কিন্তু সেটা হতে দিলেন না পুজারা। তাঁকে সঙ্গ দিলেন রাহানে।

ধাওয়ান, কোহলি, রাহানেরা তো অস্ট্রেলীয় সিরিজের পর আইপিএল, চ্যাপিয়ন্স ট্রফি, ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরের মধ্যে দিয়ে নিজেদের ‘ম্যাচ ফিট’ রেখেছিলেন। কিন্তু পুজারা? সেই যে মার্চ মাসে অস্ট্রেলিয়া সিরিজ শেষ করলেন করলেন তারপর তো কোনো আন্তর্জাতিক ম্যাচ নেই তাঁর। তবুও ফিরে এসেই শতরান। তাও আবার যথেষ্ট আগ্রাসী ঢঙে। এখান থেকেই প্রমাণিত হয়, অভিজ্ঞতা অর্জনের মধ্যে দিয়ে নিজেকে রাহুল দ্রাবিড়ের কাছাকাছি নিয়ে যাচ্ছেন পুজারা। যদিও রাহুল দ্রাবিড়কে ছুঁতে এখনও অনেক দেরি।

সেই ‘দ্রাবিড়’ পুজারার সঙ্গে ক্রিজে রয়েছেন তাঁর ‘লক্ষণ’ রাহানে। বৃহস্পতিবার তাঁদের লক্ষ্য হবে যত বেশি রান করা যায়। কারণ টিম কোহলি এই পিচে আর ব্যাট করতে চাইবে বলে মনে হয় না।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন