kuldeep yadav

ভারত ২৫২ (বিরাট ৯২, রাহানে ৫৫, কুল্টার নাইল ৩-৫১)

অস্ট্রেলিয়া ২০২ (স্টয়নিস ৬২, স্মিথ ৫৯, ভুবনেশ্বর ৩-৯)

কলকাতা: ব্যবধান ষোলো বছরের। প্রতিপক্ষ এক, মাঠও এক। সে বার হ্যাটট্রিক করে ইতিহাস সৃষ্টি করেছিলেন হরভজন সিংহ, এ বার তাঁর পথ স্মরণ করলেন কুলদীপ যাদব। হতে পারে যে রিকি পন্টিং, অ্যাডাম গিলক্রিস্ট এবং শেন ওয়ার্নের কাছে ম্যাথু ওয়েড, অ্যাশটন আগর এবং প্যাট কামিন্সের নাম তুলনায় আসে না। কিন্তু এতে কুলদীপের কৃতিত্ব এতটুকুও খাটো করা যায় না।

কুলদীপের ঘূর্ণি এবং ভুবনেশ্বর কুমারের সুইংয়ে দ্বিতীয় একদিনের ম্যাচেও অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে দিল ভারত। তবে এ দিন প্রতিকূল পরিস্থিতির মুখে পড়েও ভারতকে যথেষ্ট চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছিল অজিরা। কিন্তু সেই চ্যালেঞ্জ সামলে ২-০ ব্যবধানে এগোল বিরাটবাহিনী।

আবহাওয়া অস্ট্রেলিয়াকে কাহিল করে দিয়েছিল। কিছু দিন আগেই ভরা বর্ষায় বাংলাদেশে টেস্ট সিরিজ খেলার অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে অজিরা। কিন্তু বৃহস্পতিবারের ইডেন তাদের আরও নাজেহাল করে দেয়। কিন্তু এই নাজেহাল অবস্থায় অজি বোলাররা যা বল করেছে তা এক কথায় অনবদ্য।

বিরাট আর রাহানের পার্টনারশিপে ক্রমশ ম্যাচ থেকে বেরিয়ে যেতে বসেছিল ক্যাঙ্গারু শিবির। বিরাট তো সোনার ফর্মে রয়েছেন। প্রথম ম্যাচে কোনো রান না করেই ফিরে গিয়েছিলেন। তাই এ দিন সেই ভুল শুধরে দেওয়ার জন্য বদ্ধপরিকর ছিলেন তিনি। একটার পর একটা তুখোড় কভার ড্রাইভে অজি বোলারদের কালঘাম ছুটিয়ে দিচ্ছিলেন তিনি।

তবে রাহানের উইকেট নিয়ে প্রত্যাবর্তন করে অস্ট্রেলিয়া। কিছুক্ষণ পর ফিরে যান মনীশ পাণ্ডেও। চতুর্থ উইকেটে কেদার যাদব এবং বিরাটের মধ্যে ৫৫ রানের জুটি তৈরি হয়। তবে কেদার আউট হওয়ার পরেই ব্যাটিং ভরাডুবির মধ্যে পড়ে ভারত। মাত্র ৮ রানের জন্য নিজের ৩১তম শতরান ফসকান কোহলি। ৬৬ রানে শেষ ৭ উইকেট খোয়ায় ভারত।

জবাবে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই ভুবনেশ্বর কুমারের সুইং-এর সামনে নড়ে যায় অজি ব্যাটিং। দশ রানের মধ্যেই অস্ট্রেলিয়ার দুই ওপেনারকে ফিরিয়ে দেন তিনি। তবে চতুর্থ উইকেটে অধিনায়ক স্মিথ এবং ট্র্যাভিস হেডের জুটি, ভারতকে ম্যাচ থেকে ছিটকে দিচ্ছিল। হেড আউট হওয়ার পরেও তাণ্ডব চালান ম্যাক্সওয়েল। তবে ম্যাক্সওয়েল এবং অধিনায়ক আউট হওয়ার পরে অস্ট্রেলিয়ার জয়ের যাবতীয় আশা গঙ্গায় ডুবে যায়। এর পরেই কুলদীপময় হয়ে ওঠে ইডেন। তবুও শেষ দিকে একার হাতে একটা চেষ্টা চালাচ্ছিলেন মার্কাস স্টয়নিস। কিন্তু লাভ কিছু হয়নি।

ম্যাচ জিতলেও ভারতের ব্যাটিং কিন্তু পারফর্ম্যান্স কিন্তু অনেক প্রশ্ন তুলে দিয়ে গেল। ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফর থেকেই রোগটা দেখা দিয়েছে। শ্রীলঙ্কাতেও একদিনের সিরিজ জিতলেও দ্বিতীয় এবং তৃতীয় একদিনের ম্যাচে ব্যাটিং বিপর্যয়ের মুখে পড়েছিল। চেন্নাইয়ে শুরুতেই ভরাডুবি আর বৃহস্পতিবার এখানে শেষ সাত উইকেট গেল ৬৬ রানের মধ্যে। বিশ্বকাপের দেড় বছর আগে এটা মোটেও ভালো খবর নয়।

তবুও আজ আনন্দের দিন। দেবীপক্ষের শুরুতেই ইডেনে এই জয় কলকাতাকে বাড়তি আনন্দ দিয়ে গেল। এখন দেখার বোধনের আগেই অস্ট্রেলিয়া সিরিজ বিসর্জন দিয়ে দেয় কি না। রবিবার সিরিজের তৃতীয় ম্যাচ।

উত্তর দিন

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন