বজায় রইল আধিপত্য, পাকিস্তানকে গুঁড়িয়ে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে বিরাট হুঙ্কার ভারতের

0
708

ভারত ৩১৯-৩ (৪৮), রোহিত ৯১, বিরাট ৮১ নট আউট, শাদাব ১-৫০

পাকিস্তান ১৬৪ (৩৩.৪), আজহার ৫০, হাফিজ ৩৩, উমেশ ৩-৩০

বার্মিংহাম: ফের আইসিসি টুর্নামেন্ট। ফের ভারত-পাক ম্যাচ। ফের জিতল ভারত। পাকিস্তানের ওপর আধিপত্য বজায় রেখে এ বারও তাদের নির্মম ভাবে উড়িয়ে দিল বিরাটবাহিনী।

ম্যাচের আগে কত কথা হচ্ছিল ভারতীয় দল নিয়ে। বলা হচ্ছিল ভারতীয় দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের জন্য এ বার হয়তো পাকিস্তানের কাছে ভারতকে হারানোর সব থেকে ভালো সুযোগ। কিন্তু কোথায় কী! চরম পেশাদারিত্ব দেখাল ভারতীয় শিবির। সেখানে কোথাও কোনো ভাবেই বোঝা গেল না যে দলের কোচ এবং অধিনায়কের মধ্যে কোথাও কোনো গণ্ডগোল রয়েছে বলে। আসলে অভ্যন্তরীণ কোন্দলকে পেছনে ফেলে রেখে দলের স্বার্থে ঐক্যবদ্ধ হয়ে নেমেছিল ভারত। পাকিস্তানকে হারানোই শুধু নয়, চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ইতিহাসে সব থেকে বেশি রানে জিতে রেকর্ড করল ভারত।

১৯৯৯ সালে কার্গিল যুদ্ধের সময় হয়েছিল ভারত-পাক বিশ্বকাপের ম্যাচ। তার পর হয়তো বর্তমানের উত্তেজনাকর পরিস্থিতি আগে কখনও আসেনি দু’দেশের সম্পর্কে। এই উত্তেজনার আবহে টসে জিতে প্রথমে ফিল্ডিং-এর সিদ্ধান্ত নেন পাক অধিনায়ক সরফরাজ। এই সিদ্ধান্তটা সম্পূর্ণ বুমেরাং প্রমাণিত হয়। শুরুর দিকে পাকিস্তানি বোলাররা ভারতীয় ব্যাটসম্যানদের কিছুটা চাপে রাখলেও, পনেরোতম ওভারে খোলস ছেড়ে বেরিয়ে আসেন ভারতের দুই ওপেনার।

ভারতের সব ব্যাটসম্যানই রান পেলেও, ইনিংস উজ্জ্বল করে রাখলেন এমন দু’জন যাঁদের ওপর কিছুটা চাপ ছিল। চাপের কারণ অবশ্য ভিন্ন। এক জন রোহিত শর্মা এবং অন্য জন ভারত অধিনায়ক বিরাট কোহলি। দীর্ঘদিন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের বাইরে ছিলেন, রান পাননি প্রস্তুতি ম্যাচেও, সেই চাপ নিয়ে রবিবার পাকিস্তানের বিরুদ্ধে অসাধারণ একটা ইনিংস খেললেন রোহিত। অল্পের জন্য শতরান ফসকালেও, শিখর ধাওয়ানকে সঙ্গে নিয়ে একটি দুর্দান্ত ভিত তৈরি করে দেন তিনি। এই ভিতেই বাড়ি তৈরি করলেন ভারত অধিনায়ক, সঙ্গী যুবরাজ।

প্রথমে আসা যাক বিরাট প্রসঙ্গে। অস্ট্রেলিয়া সিরিজ থেকে রান নেই বিরাটের ব্যাটে, সেই সঙ্গে কুম্বলের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে জল্পনা। মুখে কিছু না বললেও, যথেষ্ট চাপে ছিলেন বিরাট। সেই চাপে নিয়ে ব্যাট করতে নেমে শুরুতে কিছুটা জড়োসড়ো ছিলেন বিরাট। টাইমিং সে ভাবে পাচ্ছিলেন না তিনি। কিন্তু অর্ধশতরান পেরিয়ে যেতেই এক অন্য বিরাটকে পেল রবিবাসরীয় এজবাস্টন। ৫৮ বলে ৫০ করলেন আর পরবর্তী দশ বলে ৩১ রান করেন তিনি। এই ইনিংসের মাধ্যমে বুঝিয়ে দিলেন তিনি ফর্মে ফিরেছেন।

আর একজনের কথা না বললেই নয়। তিনি যুবরাজ সিংহ। রানের বিচারে হয়তো চতুর্থ সর্বোচ্চ স্কোর তাঁর, কিন্তু চার নম্বরে নেমে ও রকম বিধ্বংসী ইনিংস না খেললে ভারতের স্কোর তিনশো ছুঁত না, সে বলাই যায়। এ বছরের শুরুতে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে এক দিনের সিরিজ থেকে ‘ভিন্টেজ যুবি’কে  পেয়েছে ভারত। সেই ধারা বজায় রেখেই রবিবার ব্যাট করে যান তিনি। মাত্র ২৯ বলে অর্ধশতরান পেরোন তিনি। তাঁর ৫৩ রানের ইনিংসটি সাজানো ছিল আটটি চার এবং একটি ছ’য়ে। শেষ ওভারে হার্দিক পাণ্ড্যর পর পর তিন বলে তিনটে ছক্কার সুবাদে এই পাহাড় তৈরি করে ফেলে টিম ভারত।

বৃষ্টিতে ম্যাচ কিছুক্ষণ বন্ধ থাকার ফলে পাকিস্তানের টার্গেট দাঁড়ায় ৪১ ওভারে ২৮৯। পাকিস্তান খুব খারাপ শুরু না করলেও কখনওই আস্কিং রেটের কাছাকাছি পৌঁছোতে পারেনি পাকিস্তান। তবে ভালো শুরু করেছিলেন ওপেনার আজহার আলি। তাঁর অর্ধশতরানে ভর করে ম্যাচে ছিল পাকিস্তান।

আজহার ফিরে যেতে কোনো রকম প্রতিরোধই তৈরি করতে পারেনি পাকিস্তান। শুরুর দিকে কিছুটা চ্যালেঞ্জ দেওয়া পাকিস্তানি ব্যাটসম্যানরা শেষের দিকে অসহায় আত্মসমর্পণই করে বসলেন। ডাকওয়ার্থ লিউইস পদ্ধতিতে ১২৪ রানে পাকিস্তানকে হারিয়ে জব্বর শুরু করল ভারত। বিধ্বংসী ইনিংসের জন্য ম্যাচের সেরা হয়েছে যুবরাজ। বিরাটদের পরের ম্যাচ ৮ তারিখ শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে।

এক ক্লিকে মনের মানুষ,খবর অনলাইন পাত্রপাত্রীর খোঁজ

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here