ধোনি এবং স্পিনারদের দাপটে ২-০ করল ভারত

0
437

ভারত ২৫১-৪ (ধোনি ৭৮ অপরাজিত, রাহানে ৭২, কামিন্স ২-৫৬)

ওয়েস্ট ইন্ডিজ ১৫৮ (মোহাম্মেদ ৪০, পাওয়েল ৩০, অশ্বিন ৩-২৮)

আন্টিগা: ম্যাচটা যে ভারত এত সহজে জিতে যাবে সেটা প্রথম ইনিংসে তাদের ব্যাটিং দেখে কোনো ভাবেই মনে হয়নি। বরং বিরাটবাহিনীর মন্থর গতির ব্যাটিং দেখে মনে হচ্ছিল, চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে যোগ্যতা অর্জন করতে না পারা এবং সম্প্রতি আফগানিস্তানের কাছে হেরে যাওয়া দুর্বল ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছেও হেরে যাবে ভারত। কিন্তু সেটা যে হল না তার কৃতিত্ব দিতে হবে মূলত এক জনকেই। মহেন্দ্র সিংহ ধোনি। সেই সঙ্গে ম্যাচে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখলেন স্পিনাররা।

এক দিনের ক্রিকেট থেকে অধিনায়কত্ব ছাড়ার পর সে ভাবে বড়ো ইনিংস নেই ধোনির ব্যাটে। জানুয়ারিতে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে শতরানের পর, উল্লেখযোগ্য ইনিংস বলতে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে অর্ধশতরান। এই সুযোগে নিন্দুকরাও তাঁর পেছনে লেগেছেন। বয়সের দোহাই দিয়ে বলতে শুরু করা হয়েছে, যে ধোনি ফুরিয়ে গিয়েছেন, এ বার অন্য কাউকে দেখাই ভালো। কিন্তু এখনও তাঁর প্রয়োজনীয়তা যে কতটা, সেটাই তিনি বোঝালেন।

টসে জিতে ফিল্ডিং-এর সিদ্ধান্ত নিয়ে তাঁরা ভুল করেননি, সেটা বুঝিয়ে দেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের বোলাররা। মাত্র ৩৪ রানের মধ্যে ধাওয়ান এবং কোহলিকে হারিয়ে বেশ চাপে ভারত। রাহানেকে সঙ্গ দিতে চার নম্বরে নামেন যুবরাজ। কিন্তু তিনিও তো নাকি ফর্মের বাইরে! পাকিস্তানের বিরুদ্ধে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির প্রথম ম্যাচে ম্যান অফ দ্য ম্যাচ হওয়ার পর, মাত্র তিনটে ইনিংসে ব্যর্থ হয়েছিলেন তিনি, কিন্তু নিন্দুকরা তাঁর পেছনেও লেগেছেন। সেই যুবরাজের ব্যাট থেকে বড়ো রান না বেরোলেও, রাহানের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ একটা পার্টনারশিপের মাধ্যমে কিছুটা চাপমুক্ত করেন ভারতকে। তাঁর সংগ্রহ ৩৯। তিনি যখন আউট হন, ২৬ ওভারে তখন বোর্ডে উঠেছে মোটে ১০০, অর্থাৎ রান রেট চারও নয়। পাঁচ নম্বরে নামা ধোনি শুরুর দিকে খুবই আড়ষ্ট ছিলেন।

প্রথমে তাঁর শট মিস-টাইমড হয়েছে। দেবেন্দ্র বিশুর একটা ওভারে পর পর দু’বলে ক্যাচ তুলেছিলেন তিনি, যেটা তাঁর ব্যাটিংবিরোধী, কিন্তু দু’টো সুযোগই ফস্কায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। চল্লিশ ওভারের শেষে ভারতের স্কোর ছিল তিন উইকেটে ১৫১। কত কম রানে ভারত আটকে যেতে পারে, এই চর্চা যখন শুরু হচ্ছে তখনই গিয়ার বদলান তিনি। রাহানে ফিরে যাওয়ার পর ক্রিজে এসেছেন কেদার যাদব। ব্যাস দু’জনের দাপটে তখন ওয়েস্ট ইন্ডিজ বোলারদের নাকানিচোবানি অবস্থা। এতক্ষণ ধরে ম্যাচের রাশ নিজেদের হাতে ধরে রাখলেও, মাত্র কয়েকটি ওভারেই সেই রাশ আলগা হয়ে গেল। বেশি নৃশংস ছিলেন কেদার। কিন্তু উল্টো দিকে ধোনিও পরের পর ছয় মেরে নিজেদের পুরোনো ফর্মে ফিরে এসেছেন। একটা সময় যে ভারতকে মনে হচ্ছিল ২০০-ও পেরোবে কি না, তারাই শেষমেশ শেষ করল ২৫১-তে। শেষ দশ ওভারে উঠল ১০০। ২৬ বলে ৪০ রানে অপরাজিত থাকেন কেদার।

ভারতের রান তাড়া করতে নেমে কখনোই স্বচ্ছন্দ মনে হয়নি ওয়েস্ট ইন্ডিজকে। বরং বারবার মনে হচ্ছিল তাদের জেতার আশাটাই যেন নেই। এই সুযোগেই ৬৯ রানের মধ্যে প্রথম চারটে উইকেট তুলে নিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ব্যাটিংকে লাইনচ্যুত করে দেন পেসাররা। তার পরেই আসরে নেমে পড়েন দুই স্পিনার অশ্বিন এবং কুলদীপ যাদব।

চ্যম্পিয়ন্স ট্রফির পারফরমেন্সের ভিত্তিতে অশ্বিনকেও দলে রাখা নিয়ে বিস্তর জলঘোলা হয়েছে। সেই অশ্বিনই বুঝিয়ে দিলেন কেন তিনি এখনও এই দলের এক গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। দশ ওভারে তিন উইকেট তো নিলেনই, কিন্তু দিলেন মাত্র ২৮ রান। অর্থাৎ ইকোনমি রেট তিনেরও কম। অন্য দিকে আগের ম্যাচের মতো এ দিনও ভয়ংকর ছিলেন কুলদীপ। ৪১ রান দিয়ে তাঁরও সংগ্রহ তিনটে উইকেট। মাত্র ১৫৮ রানেই শেষ হয়ে যায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ৯৩ রানে ম্যাচটি পকেটে পুরে সিরিজে ২-০-তে এগিয়ে যায় ভারত।

এমন ইনিংসের পর ম্যান অফ দ্য ম্যাচ ধোনিই হবেন, সে ব্যাপারে কোনো সন্দেহই ছিল না। পুরস্কার বিতরণী মঞ্চে মজার মুডে ছিলেন তিনি। তাই যখন তাঁকে প্রশ্ন করা হয়, বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আরও ভালো খেলার রহস্যটা কী, তখন তিনি অবলীলায় বলে দেন, “এটা অনেকটা পুরোনো মদের মতো।” বিরাট কোহলি মেনে নেন যে স্যাঁতস্যাঁতে উইকেট থাকায় শুরু দিকে ব্যাট করা খুব সমস্যা ছিল। কিন্তু ব্যাটসম্যানরা যে ভাবে ইনিংস টেনে নিয়ে গিয়েছেন তাঁরও প্রশংসা করেন অধিনায়ক।

এক ক্লিকে মনের মানুষ,খবর অনলাইন পাত্রপাত্রীর খোঁজ

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here