হরমনপ্রীতের মহাকাব্যে বিশ্বকাপ ফাইনালে ভারতললনারা

0
477

ভারত (৪২ ওভারে) ২৮১-৪ (হরমনপ্রীত ১৭১, মিতালি ৩৬, ভিলানি ১-১৯)

অস্ট্রেলিয়া (৪০ ওভারে) ২৪৫ (ব্ল্যাকওয়েল ৯০, ভিলানি ৭৫, দীপ্তি ৩-৫৯)

ডার্বি মহাকাব্য রচনা করলেন হরমনপ্রীত কৌর। তাঁর হাত ধরেই বারো বছর পর ফের বিশ্বকাপের ফাইনালে চলে গেল ভারত। ধরাশায়ী হয়ে গেল অস্ট্রেলিয়া।

কপিল দেবের ১৭৫ রানের সেই মহাকব্যিক ইনিংসটির পর নিঃসন্দেহে ভারতের ক্রিকেট ইতিহাসে সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ ইনিংসটি খেললেন হরমনপ্রীত কৌর। হতেই পারে রোহিত শর্মা, বীরেন্দ্র সহবাগ, সচিন তেন্ডুলকর, সৌরভ গাঙ্গুলিরা তাঁর থেকে বেশি রান করেছেন, কিন্তু সেই ম্যাচগুলোর প্রেক্ষাপট বৃহস্পতিবারের মতো গুরুত্বপূর্ণ ছিল না।

বৃহস্পতিবার ভারতের ইনিংসে হরমনপ্রীতের গুরুত্ব কতটা ছিল, সেটা একটা তথ্যেই বোঝা যাবে। তা হল ভারতের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ স্কোরারের অবদান। মাত্র ৩৬। ২৫ ওভারে একশোর কিছু বেশি রান উঠেছে, মিতালিও ফিরে গিয়েছেন। মনে করা হচ্ছিল বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন এ বার ভারতের পিঠে চেপে বসবে। কিন্তু সেটা হতে দিলেন না ‘পঞ্জাব কী কুঁড়ি’ হরমন। কুড়িটা চার এবং সাতটি বিশাল ছক্কার সাহায্যে একাই অস্ট্রেলিয়ার ওপরে শাসন করে গেলেন তিনি।

হরমনের দাপটে শেষ সতেরো ওভারে ভারত ১৮০, শেষ এগারো ওভারে ১১৩। এমন রেকর্ড, যা পুরুষ ক্রিকেটাররাও খুব একটা করতে পারেন না। তবে আরও এক জনের কথা এখানে বলতেই হবে। তিনি দীপ্তি শর্মা। মিতালির উইকেটের পর ভারত কিছুটা চাপে। এই অবস্থায় ব্যাট করতে নামেন তিনি। খুব দ্রুত তিনি খেলতে পারেন না, তাই তাঁর দায়িত্ব ছিল শুধু হরমনপ্রীতকে স্ট্রাইক দিয়ে যাওয়া। তিনি সেই কাজে একশোয় একশো। দু’জনের মধ্যে ১৩৪ রানের জুটি, তার মধ্যে দীপ্তির অবদান মাত্র ২৫।

হরমনের সংহার।

৪২ ওভারে ২৮২, মহিলা ক্রিকেটে কেন, পুরুষ ক্রিকেটেও খুব একটা হয় না। তবে বিপক্ষে যখন অস্ট্রেলিয়া, তখন একটা সন্দেহ ছিল যদি কোনো ভাবে ম্যাচটি বের করে নিয়ে যায় তারা। তবে শুরুতেই অস্ট্রেলিয়া শিবিরে ধাক্কা দেন পেসার শিখা পাণ্ডে। এর কয়েক ওভার পরেই নিজের বিরাচরিত বিষাক্ত সুইং-এ অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক তথা বিশ্বের এক নম্বর ব্যাটস্‌উয়োম্যান মেগ ল্যানিং-এর উইকেট ছিটকে দেন ঝুলন গোস্বামী। কিছুক্ষণ পরেই অস্ট্রেলিয়ার তিন নম্বর উইকেটটি তোলেন দীপ্তি।

এর পরেই দুর্ধর্ষ একটা পার্টনারশিপের মাধ্যমে ভারতের ওপর পালটা চাপ সৃষ্টি করার চেষ্টা করছিলেন এলিজে ভিলানি এবং এলিজে পেরি। বেশি আক্রমণআত্মক ছিলেন ভিলানি। দু’জনের মধ্যে ১০৫ রানের জুটি চলাকালীন শুধু চাপে পড়েছিল ভারত। ভিলানি আউট হতে অবশ্য ভারতের ফাইনাল যাত্রা কার্যত নিশ্চিত হয়ে যায়। বাকি উইকেটগুলি পড়া ছিল শুধুমাত্র সময়ের অপেক্ষা। তবে ‘শেষ হইয়াও হইল না শেষ’ ধরনের একটা ইনিংস খেলে যাচ্ছিলেন আলেক্স ব্ল্যাকওয়েল। ফের কিছুটা চাপে পড়েছিল ভারত। কিন্তু জয়ের থেকে অস্ট্রেলিয়া যখন ৩৭ রান দূরে, তখনই ব্ল্যাকওয়েলের উইকেট তুলে নেন দীপ্তি।

২০০৫-এ শেষবার ফাইনালে উঠেও স্বপ্নভঙ্গ হয়েছিল ভারতের। সে বারের দুই তরুণী মিতালি এবং ঝুলনের এটাই শেষ বিশ্বকাপ। দুই বিশ্বরেকর্ডধারী ললনা তাই চাইবেন বিশ্বজয় করেই যেন ইংল্যান্ড ছাড়েন তাঁরা।

এক ক্লিকে মনের মানুষ,খবর অনলাইন পাত্রপাত্রীর খোঁজ

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here