‘সহজ’ প্রতিদ্বন্দ্বীর সামনে অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসই কাঁটা বিরাটদের

0
309

বার্মিংহাম: আবার একটা আইসিসি টুর্নামেন্টের নক-আউটে মুখোমুখি ভারত এবং বাংলাদেশ। শেষ যে বার আইসিসি টুর্নামেন্টের নক-আউটে এই দু’দেশ মুখোমুখি হয়েছিল, বাংলাদেশকে সহজেই হারিয়ে দিয়েছিল ভারত। সেটা ছিল ২০১৫ সালের বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনাল। কিন্তু সেই ম্যাচে বিতর্কও কম হয়নি।

সে ম্যাচে আম্পায়ারের একাধিক সিদ্ধান্ত ভারতের পক্ষে গিয়েছিল। বাংলাদেশের দাবি ছিল, আম্পায়ারিং সিদ্ধান্তগুলি ওইদিন ভারতের পক্ষে না গেলে বাংলাদেশই ম্যাচটা জিতত। আইসিসিকে কিনে নেওয়া হয়েছে, বাংলাদেশি ক্রিকেট-ভক্তদের এই অভিযোগে জেরবার হতে হয়েছে ভারতকে। ক্রমে বিষিয়েছে দু’দেশের ক্রিকেটভক্তদের মধ্যে এককালে তৈরি হওয়া মধুর সম্পর্ক। আর সেই বিষাক্ত আবহেই এ বার মুখোমুখি হচ্ছে দুই দেশ।

২০১৫-এর বিশ্বকাপের সেমি ফাইনালে হারের বদলা তার মাস দুয়েক পর দ্বিপাক্ষিক সিরিজে ভারতকে হারিয়েই তুলেছিল বাংলাদেশ। কিন্তু বাংলাদেশের মতে, প্রকৃত বদলা তখনই হবে যখন আইসিসি টুর্নামেন্টের নক-আউটে ভারতকে হারাতে পারবে তারা। এখানেই সতর্ক থাকতে হবে ভারতকে। নিউজিল্যান্ডকে হারানোর পর এমনিতে টগবগে থাকবে মাশরাফি মোর্তাজারা। তার ওপর ‘হারানোর কিছু নেই’, এই মনোভাবে খেলতে নামা। অন্যদিকে খাতায় কলমে বিপক্ষের থেকে ঢের শক্তিশালী দল ভারতের চিন্তা থাকবে অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস। বলতে দ্বিধা নেই, অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসের ফলেই শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে ম্যাচটা খুইয়েছিল ভারত।

এই পরিপ্রেক্ষিতে একটা বার্তা দেওয়ার থাকছে সমর্থকদের প্রতিও। গত দু’দিন বছরে ভারত এবং বাংলাদেশের মধ্যে ক্রিকেট প্রতিদ্বন্দ্বিতা যতটা বেড়েছে, ততটাই বেড়েছে দু’দেশের সমর্থকদের মধ্যে ‘লড়াই’, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই যা ছাড়িয়েছে শালীনতার মাত্রা। বিপক্ষকে ‘জবাব’ দিতে ভারতীয় সমর্থকরা এ বার তো ভারতকে এক্কেবারে ফাইনালে বসিয়ে দিয়েছে। তাদের কাছে বিপক্ষ যখন বাংলাদেশ, তখন বিশেষ পাত্তা দেওয়ার দরকার নেই। এটা ঠিক বাংলাদেশকে সহজে হারিয়েই ফাইনালে ওঠা উচিত বিরাটবাহিনীর, কিন্ত বলা তো যায় না, কখন কী হয়ে যায়!

সেমিফাইনাল এক ম্যাচের খেলা, কোনো দ্বিপাক্ষিক সিরিজ নয়। একটি ম্যাচে যে ভালো খেলবে, সেই উঠবে ফাইনালে। এখানেই ভারতকে মনে রাখতে হবে যে বাংলাদেশ পাঁচটা একদিনের ম্যাচে ভারতকে হারিয়েছে। সুতরাং নিজেদের দিনে টাইগাররা সত্যি সত্যিই ব্যাঘ্র-গর্জন করতে পারে।

এই নিয়ে শেষ সাতটি আইসিসি টুর্নামেন্টে ষষ্ঠবার সেমিফাইনালে খেলছে ভারত। সুতরাং সেমিফাইনালে ‘চাপ’ কাকে বলে, ভারতের তা ভালো করেই জানা আছে, অন্যদিকে সেই ‘চাপমুক্ত’ বাংলাদেশ, যাদের লক্ষ্য গত দু’বছর ধরে ক্রমশ উন্নতি করতে থাকা দলটায় যেন একটা নতুন পালক যোগ হয়।

গত দু’তিন বছরের লড়াইয়ে ভারত-বাংলাদেশ দ্বৈরথ বেশ নজর কেড়েছে এশিয়ার ক্রিকেট মহলে। আরও একটি উপভোগ্য ম্যাচ উপহার দিক বৃহস্পতিবারের এজবাস্টন, এটাই আশা ক্রিকেট ভক্তদের।

এক ক্লিকে মনের মানুষ,খবর অনলাইন পাত্রপাত্রীর খোঁজ

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here