১৩০ কোটির স্বপ্নভঙ্গ, তবে ক্রিকেট ম্যাচ হারলেও সামাজিক ‘ম্যাচ’টি জিতলেন ভারতললনারা

0
402

ইংল্যান্ড ২২৮-৭ (স্কিভার ৫১, টেলর ৪৫, ঝুলন ৩-২৩)

ভারত ২১৮ (পুনম ৮৬, হরমনপ্রীত ৫১, শ্রাবসোল ৬-৪৬)

লন্ডন: এত কাছে তবু কত দূরে! জয়ের দোরগোড়ায় পৌঁছেও পারলেন না ভারতললনারা। ফিরল না ৮৩-এর সেই রাত। ১৩০ কোটি ভারতবাসীকে কাঁদিয়ে রানার্স আপেই সন্তুষ্ট থাকলে হল টিম মিতালিকে।

ভারত যে ভাবে হারল তার জন্য যতটা কৃতিত্ব ইংল্যান্ডের, তার থেকে অনেক বেশি দোষ ভারতের ব্যাটস্‌উয়োম্যানদের। ৪৩ বলে করতে হবে ৩৮, হাতে সাত উইকেট। ক্রিজে জমে গিয়ে শতরানের দিকে এগোচ্ছেন পুনম রাউত, অন্য দিকে ঝোড়ো ইনিংস খেলে ভারতকে জয়ের কাছাকাছি নিয়ে যাচ্ছেন বেদা কৃষ্ণমূর্তি। এখান থেকে তাল কেটে গেল ভারতের। ফিরে গেলেন পুনম, একটু পরে ফিরলেন সুষমা বর্মা। চালাতে গিয়ে ফিল্ডারের হাতে ক্যাচ দিলেন বেদা, কোনো রান না করে বোল্ড হয়ে গেলেন ঝুলন।

তবুও ভারতের আশা তখনও শেষ হয়নি। সৌজন্য বরফশীতল মস্তিস্কের দীপ্তি শর্মা। শিখা পাণ্ডেকে সঙ্গে নিয়ে জয়ের মাত্র দু’টো শট দূরে দলকে পৌঁছে দিয়েছিলেন তিনি। জয়ের জন্য প্রয়োজন যখন মাত্র ১১, ফিরলেন দীপ্তি, ব্যাস সেখানেই সব আশা শেষ।

২০০৯-এর পর ফের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হল ইংল্যান্ড। অন্য দিকে ২০০৫-এর পর আবার ফাইনালে দ্বিতীয় দল থাকল ভারত।

শুরুতে ইংল্যান্ডের ইনিংসে ‘ভিন্টেজ বোলিং’ করলেন ঝুলন গোস্বামী। এ দিন টসে জিতে ব্যাটিং-এর সিদ্ধান্ত নেয় ইংল্যান্ড। স্পিনারদের দাপটে ৬৩ রানের মধ্যেই তিন উইকেট হারালেও সারা টেলর এবং নাটালে স্কিভারের দুরন্ত পার্টনারশিপের দৌলতে ম্যাচ থেকে বেরিয়ে যেতে বসেছিল ভারত। উপায়ান্তর না দেখে নিজের প্রিমিয়াম বোলারের ওপরেই ভরসা করেন অধিনায়ক মিতালি। তিনি আসার পরেই বদলে গেল ইংল্যান্ডের চেহারা।

৩৩তম ওভারের পরপর দু’বলে দু’উইকেট এবং ৩৮তম ওভারে উইকেট মেডেন করে ম্যাচের রূপ ঘুরিয়ে দেন ঝুলন। এই বিশ্বকাপের শুরুতে সে ভাবে ছন্দে ছিলেন না ঝুলন, কিন্তু নিউজিল্যান্ড ম্যাচ থেকে নিজের পুরোনো ফর্মে ফেরেন তিনি। মিতালির মতো এই বিশ্বকাপ তাঁরও শেষ বিশ্বকাপ। দু’জনেই চেয়েছিলেন জিতে ফিরতে, কিন্তু হল না। তবে ম্যাচের শেষে অধিনায়ক মিতালি বলে যান নিজেদের মেয়েদের জন্য তিনি গর্বিত। তবে শুধু মিতালিই নন, গর্বিত আজ গোটা দেশই।

ভারতললনারা হেরেছেন, কিন্তু সামাজিক ক্ষেত্রে আরও অনেক বড়ো ম্যাচ জিতেছেন তাঁরা। যে দেশে কন্যাভ্রূণ হত্যা একটা মস্ত বড়ো সমস্যা, যে দেশে নারীদের স্বাধীনতা না দেওয়ার জন্য দাবি করে খাপ পঞ্চায়েতগুলি, যে দেশে এখনও প্রায়শই পরিবারের লোকের কাছেই প্রতি পদে পদে লিঙ্গবৈষম্যের শিকার হতে হয় মেয়েদের, সে দেশের মেয়েদের জন্যই আজ গলা ফাটিয়েছে গোটা দেশ। এর থেকে বড়ো জয় আর কী-ই বা হতে পারত!

আবার চার বছরের অপেক্ষা! ২০২১-এর নিউজিল্যান্ড তৈরি থেকো, ভারতের মেয়েরা আসছে!

এক ক্লিকে মনের মানুষ,খবর অনলাইন পাত্রপাত্রীর খোঁজ

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here