ভারত ২৮১-৩ (স্মৃতি ৯০, পুনম ৮৬, মিতালি ৭১, নাইট ২-৪১)

ইংল্যান্ড ২৪৬ (উইলসন ৮১, নাইট ৪৬, দীপ্তি ৩-৪৬)

ডার্বি (ইংল্যান্ড): গত রবিবার আইসিসি তালিকায় নিজেদের থেকে অনেক নীচে থাকা পাকিস্তানের কাছে হেরে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি খুইয়েছিল ভারতের ছেলেরা। এর এক সপ্তাহ কাটার আগেই নিজেদের থেকে তুলনায় অনেক শক্তিশালী ইংল্যান্ডকে হারিয়ে দিল ভারতের মেয়েরা। আর পাঁচটা সাধারণ ম্যাচ নয়, মহিলা বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচেই ঘটে গেল এই অঘটন।

ইংল্যান্ডের মাঠে, ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে অধিকাংশ ক্রিকেটভক্তই ভারতীয় মেয়েদের হয়ে বাজি ধরেননি। তার ওপর স্যাঁতস্যাঁতে আবহাওয়ায় টসে জিতে ইংল্যান্ড ফিল্ডিং-এর সিদ্ধান্ত নেওয়া আরও বেশ কিছুটা চাপে পড়ে যায় ভারত। কিন্তু হিসেব সব উলটে দেন ভারতের ব্যাটসউয়োম্যানরা, বিশেষ করে দুই ওপেনার স্মৃতি মনধানা এবং পুনম রাউত।

শুরু থেকেই আগ্রাসী ব্যাটিং করেন গত ডিসেম্বরে আইসিসি বিশ্ব একাদশে সুযোগ পাওয়া স্মৃতি। অন্য দিকে তুলনায় ধীর গতিতে ইনিংস এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছিলেন পুনম। কিন্তু পুনম এবং স্মৃতির জুটির সামনে ইংল্যান্ডের বোলারদের কালঘাম ছুটছিল। যখন মনে হচ্ছিল নিজের প্রথম বিশ্বকাপের ম্যাচেই শতরান করবেন স্মৃতি, তখনই আউট হয়ে যান তিনি।

কিন্তু স্মৃতি আউট হলেও রাউতের সঙ্গে আরও একটি দুর্দান্ত জুটি বাঁধেন অধিনায়ক মিতালি রাজ। খুব আগ্রাসী ব্যাটিং না করলেও, খুচরো রান নিয়ে ইংল্যান্ডের ওপর চাপটা রেখে দিয়েছিলেন ওই দু’জন। রাউত ফেরার পর কিছুটা আগ্রাসী রূপ নেন মিতালী। করে ফেলেন নিজের কেরিয়ারের ৪৭তম অর্ধশতরান। প্রথম মহিলা ক্রিকেটার হিসেবে পরপর সাতটি ইনিংসে সাতটি অর্ধশতরান করার নজির গড়েন তিনি।

ভারতের দেওয়া ২৮২ রানের টার্গেট তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই চাপে ছিলেন ইংল্যান্ডের ব্যাটসউয়োম্যানরা। এক দিকে ঝুলন গোস্বামী তাঁর নিখুঁত লাইনে বল করে চাপ বাড়াচ্ছিলেন, উলটো দিকে সেই চাপের সুযোগ নিয়ে শুরুতেই দু’টি উইকেট নিয়ে নেন শিখা পান্ডে। তারপরও ক্রমশ উইকেট খোয়াতে থাকে ইংল্যান্ড।

তবে শেষ দিকে ভারতের ওপর একটা চাপ তৈরির চেষ্টা করছিলেন ফ্রান উইলসন এবং ক্যাথেরিন ব্রান্ট। ষষ্ঠ উইকেট পার্টনারশিপে ইংল্যান্ডের জয়ের একটা আশা দেখাচ্ছিলেন এই দু’জন। কিন্তু ব্রান্ট রান আউট হওয়ায় ফের ম্যাচে ফেরে ভারত। একটু পরেই ফিরে যান উইলসন। তারপর ভারতের জেতাটা ছিল শুধুমাত্র সময়ের অপেক্ষা।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন