হিমাদ্রিশেখর সরকার:

শব্দগুলো খুব চেনা ঠেকছে ? হ্যাঁ, ঠিক ধরেছেন। আইপিএল নিয়ে কথা বলব মশাই আজকে। আরে আইপিএল, ২০০৮ থেকে চলে আশা ভারতের নতুন ক্রিকেট উৎসব। যার জেরে, গোটা দেশে প্রায় দেড়মাস জুড়ে টিভি সিরিয়ালগুলোর টিআরপি তলানিতে গিয়ে ঠেকে, সন্ধ্যা হলেই পাড়ার ক্লাবে, কিংবা বাড়ির ভেতর থেকে ভেসে আসে চার-ছয়ের শব্দ। মুম্বইএর জল বন্টন সমস্যা হোক বা টেররিস্ট হামলার ছক, যার উপর প্রভাব নেই কোনও কিছুরই, সেই আইপিএল। অবশ্য আপনাকেই বা এসব বলছি কেন? আপনিও তো অফিসের তমালদা, বরুণদাদের পিছনে ফেলে জলদি বেরিয়ে আসেন কেকেআর-এর খেলাটা দেখার জন্যে। তো সেই আইপিএল-এর তো এবার ১০বছর পূর্তি। এপ্রিলের ৫ থেকে ২১ মে অব্দি চলবে এই ক্রিকেট মহোৎসব। আর তার আগেই বরং একটু জানিয়ে দিই এবারের টিমগুলোর হাল-হকিকৎ। ভাবছেন তো, এসব জেনে আমি কি করব? আরে দাদা, অফিস কিম্বা আড্ডামহলে নিজেকে নেভিল কার্ডাস প্রমাণ করার এমন সহজ রেসিপি আর দুটো পাবেন না।
টিমগুলোকে কাঁটাছেঁড়া করার আগে চলুন একটা ছোট রিক্যাপ হয়ে যাক।

সাল চ্যাম্পিয়ন রানার্স প্লেয়ার অফ দি সিরিজ সর্বোচ্চ রান সর্বোচ্চ উইকেট
২০০৮ রাজস্থান রয়ালস চেন্নাই সুপারকিংস শ্যেন ওয়াটসন
(৪৭২রান ও ১৭উইকেট)
শন মার্শ
(৬১৬)
সোহেল তানভীর

(২২)

২০০৯ ডেকান চার্জারস রয়্যাল চ্যালেঞ্জারস ব্যাঙ্গালোর অ্যাডাম গিলখ্রিস্ট
(৪৯৫রান ও ১৭ডিসমিসাল)
ম্যাথু হেডেন
(৫৭২)
রুদ্রপ্রতাপ সিং
(২৩)
২০১০ চেন্নাই সুপারকিংস মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স সচিন তেন্ডুলকার
(৬১৮রান)
সচিন তেন্ডুলকার
(৬১৮)
প্রগ্যান ওঝা
(২১)
২০১১ চেন্নাই সুপারকিংস রয়্যাল চ্যালেঞ্জারস ব্যাঙ্গালোর ক্রিস গেইল
(৬০৮রান ও ৮উইকেট)
ক্রিস গেইল (৬০৮) লাসিথ মালিঙ্গা
(২৮)
২০১২ কোলকাতা নাইট রাইডার্স চেন্নাই সুপারকিংস সুনিল নারিন
(২৪উইকেট)
ক্রিস গেইল
(৭৩৩)
মর্নি মরকেল
(২৫)
২০১৩ মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স চেন্নাই সুপারকিংস শ্যেন ওয়াটসন
(৫৪৩রান ও ১৩উইকেট)
মাইকেল হাসি
(৭৩৩)
ডোয়েন ব্রাভো
(৩২)
২০১৪ কোলকাতা নাইট রাইডার্স কিংস ইলেভেন পাঞ্জাব গ্লেন ম্যাক্সওয়েল

(৫৫২রান ও ১উইকেট)

রবিন উথাপ্পা

(৬৬০)

মোহিত শর্মা

(২৩)

২০১৫ মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স চেন্নাই সুপারকিংস আন্দ্রে রাসেল
(৩২৬রান ও ১৪উইকেট)
ডেভিড ওয়ার্নার
(৫৬২)
ডোয়েন ব্রাভো (২৩)
২০১৬ সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদ রয়্যাল চ্যালেঞ্জারস ব্যাঙ্গালোর বিরাট কোহলি (৯৭৩) বিরাট কোহলি
(৯৭৩)
ভুবনেশ্বর কুমার

(২৩)

 

সানরাইজার্স হায়দরাবাদ

ডেভিড ওয়ার্নারের নেতৃত্বে এই দল গতবারের চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। বলা যায় আইপিএল-এর অন্যতম ব্যালান্সড দল। ব্যাটিং-এর দায়িত্বে রয়েছে ওয়ার্নার ছাড়াও যুবরাজ সিংহ, শিখর ধাওয়ান, কেন উইলিয়ামসন, তন্ময় আগরওয়াল, দীপক হুডার মত মারকুটে এবং অভিজ্ঞ লাইনআপ। সাথে নমন ওঝা। একলব্য দ্বিবেদির মত কিপার ব্যাটসম্যান। ক্রিস জর্ডন, মোজেস এনরিকের মত স্পেশালিস্ট টি-টোয়েন্টি খেলোয়াড়। বোলিং-এর নেতৃত্বে থাকবেন আশিস নেহেরা, ভুবনেশ্বর কুমার, মুস্তাফিজুর রহমান, বেন কাটিং, প্রবীণ তাম্বে, রাশিদ খান ।
এই দলের দুর্বলতা বের করা বেশ কঠিন, তবে দলটার বৈচিত্র্যহীন স্পিন বিভাগ খানিক দুর্বল বলেই মনে করা হচ্ছে।
নজর রাখবেন, ডেভিড ওয়ার্নার, রাশিদ খান, মহম্মদ নবি, মুস্তাফিজুর রহমান, যুবরাজ সিংহ, শিখর ধাওয়ান, কেন উইলিয়ামসনের উপর। আসলে টি-টোয়েন্টি পুরোটাই এত ঝড়ের মত চলে যে তার মাঝে একজনকে আলাদা করা খুব কঠিন। তাও দলের সম্ভাব্য তারকাদের আলাদা করে  উল্লেখ করার চেষ্টা করছি মাত্র।
 স্পিনের বিভাগের বৈচিত্র্যহীনতা এবং সীমিত বিকল্প দলটার প্রধান সমস্যা। এছাড়া দেশীয় ব্যাটসম্যানদের ধারাবাহিকতার অভাবও লক্ষণীয়।

রেটিং ৭/১০      

রয়্যাল চ্যালেঞ্জারস বেঙ্গালুরু

বিরাট কোহলির নেতৃত্বে এই দলটি সম্ভবত খাতায় কলমে সব থেকে শক্তিশালী টি-টোয়েন্টি দল। এবং আইপিএলের ইতিহাসে সব থেকে আনলাকিও বটে। তিনবার ফাইনাল খেলেও গত ৯ বছরে একবারও আইপিএল-এর ট্রফি ছুঁতে পারেনি বিজয় মালিয়ার দলটি। দলটির শুরুর ৪জন ব্যাটসম্যান যথাক্রমে ক্রিস গেইল, বিরাট কোহলি, এবি ডিভিলিয়ার্স ও শ্যেন ওয়াটসন। যদিও কাঁধের চোট ও দীর্ঘদিন একটানা ক্রিকেটের ক্লান্তি কাটাতে শুরুর দিকে নিজেকে সরিয়ে নিয়েছেন বিরাট কোহলি। এছাড়াও কেএল রাহুল ও মিচেল স্টার্ক এবছর দলের সঙ্গে নেই। দলের ব্যাটিং যেমন বিদেশি নির্ভর, বোলিং-এর দায়িত্বে তেমন আছেন টাইলর মিলস, অ্যাডাম মিলনে। এছাড়া দেশীয় তারকাদের মধ্যে আছে্ন সচিন বেবি, কেদার যাদব, সরফরাজ খান, পবন নেগি, ইকবাল আবদুল্লাহ, ইয়ুযবেন্দ্র চাহালের মত তরুণ খেলোয়াড়রা। সঙ্গে তাবরেজ শামসির মত চায়নাম্যান বোলার। 

কথায় আছে অধিক সন্ন্যাসীতে গাজন নষ্ট। এই দলের ক্ষেত্রে সেটাই বোধহয় সবথেকে ভাল বোঝা যায়। দলের ঠিক পরিকল্পনা আর কম্বিনেশন খুঁজে বের করতেই এই দল সব থেকে বেশি সমস্যায় পড়ে। এবছর সেটা কাটিয়ে উঠতে পারলে ব্যাঙ্গালোরের দলটটাকে আটকানো কিন্তু খুব মুসকিল।
নজর কাড়তে পারেন ক্রিস গেইল, বিরাট কোহলি, এবি ডিভিলিয়ার্স, শ্যেন ওয়াটসন, ইয়ুযবেন্দ্র  চাহাল, সরফরাজ খানরা।               

                                                 রেটিং ৮.৫/১০

মুম্বই ইন্ডিয়ান্স

ক্যাপ্টেন রোহিত শর্মা নভেম্বর থেকে চোটের জন্যে  জাতীয় দল থেকে সরে গেছেন। শেষ ম্যাচ খেলেছেন বিজয় হাজারে ট্রফিতে। সেখানেও খুব স্বচ্ছন্দ মনে হয়নি। এছাড়া, মালিঙ্গা এবং গুনরত্নে শুরু থেকে দলে যোগ দিতে পারছেননা। মুম্বই-এর দলটা এই প্রাথমিক সমস্যা কাটিয়ে ফেলতে পারলে এই মরশুমে ভাল ক্রিকেট অবশ্যই আশা করা যায় এদের কাছ থেকে। দলে আছেন হার্দিক পান্ড্য, ক্রুনাল পান্ডা, সৌরভ তিওয়ারি, পার্থিব প্যাটেল, বিনয় কুমার, জসপ্রীত বুমরাহ, হরভজন সিংহ, করন শর্মার মত দেশীয় তারকারা । বিদেশিদের লিস্টটাও কিন্তু বেশ জমকালো। আছেন টি-টোয়েন্টি স্পেশালিষ্ট কাইরন পোলার্ড, জস বাটলার, মিচেল ম্যাকক্লেনাগান, মিচেল জন্সন, লাসিথ মালিঙ্গা, টিম সাউদি, আসেলা গুনরত্নের মত বিদেশি তারকা।

অবশ্যই নজর রাখুন,কাইরন পোলার্ড, জস বাটলার,মিচেল জন্সন, লাসিথ মালিঙ্গা, হার্দিক পান্ড্যা ও জসপ্রীত বুমরাহের উপর। নিজেদের দিনে এঁরা যেকোনো ম্যাচ ঘুরিয়ে দিতে পারেন।

ভারতীয় ব্যাটসম্যানদের যা তালিকা তা দেখে ভ্রুকুঞ্চন হচ্ছে সামান্য। সঙ্গে স্পিন বিভাগের বিকল্পহীনতা।                                                       রেটিং ৬.৫/১০।

কিংস ইলেভেন পাঞ্জাব

প্রতি বছরের মত এবছরও খাতায় কলমে বেশ শক্তিশালী দল। যদিও চোটের কারণে দল থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন মুরলি বিজয় ও কিউই তারকা মার্টিন গুপ্তিল। দলে আছেন ইংল্যান্ডের ক্যাপ্টেন ইওন মর্গান, ডেভিড মিলার, ডারেল সামি, হাসিম আমলা, গ্লেন ম্যাক্সওয়েলের মত প্লেয়াররা। ভারতীয়দের মধ্যে আছেন বাংলার ছেলে ঋদ্ধিমান সাহা, অক্ষর প্যাটেল, মোহিত শর্মা, সন্দীপ শর্মা, বরুণ আরন, কেসি কারিয়াপ্পার মত খেলোয়াড়। দলের বিন্যাস দেখে মনে হচ্ছে প্রীতি জিন্টার দলটি ব্যাটিং-এ বিদেশি ও বোলিং-এ দেশীয় খেলোয়ারদের উপরে ভরসা করছেন।

দলটায় বিদ্যুৎ গতির পেসারের অভাব আছে। সেটা কিভাবে পূরণ করে সেটাই দেখবার।

নজর রাখতে হবে ইওন মর্গান, ডেভিড মিলার, ডারেল সামি, হাসিম আমলা, গ্লেন ম্যাক্সওয়েলের উপর। কারণ খেলাটা টি-টয়েন্টি, এবং এনারা প্রত্যেকেই এতে বিশেষ দক্ষ।

রেটিং ৬.৫/১০

কলকাতা নাইট রাইডার্স

আমাদের ঘরের টিম কলকাতা নাইট রাইডার্স। কিন্তু তার জন্যে বলছি না, কলকাতা কিন্তু এই বছর আইপিলের অন্যতম সেরা দল। ব্যাটিং-এর দায়িত্বে আছেন ক্যাপ্টেন গৌতম গম্ভীর, সঙ্গে রবিন উথাপ্পা, ডারেন ব্রাভো, মনিশ পান্ডে, ইশাঙ্ক জাগগি, ক্রিস লিন। অলরাউন্ডার হিসেবে দলে আছে সূর্যকুমার যাদব, ইউসুফ পাঠান, ঋষি ধাওয়ান, রভমান পাওয়েল, শাকিব আল হাসান, ক্রিস ওয়োকস। যদিও আন্দ্রে রাসেলের অনুপস্থিতি দল এবং সমর্থকদের কাছে বেশ দুঃখের। তার পরিবর্তে দলে এসেছেন কলিন দি গ্রান্ডহম। দ্রুত গতির এই কিউই বোলার ট্রেন্ট বোল্ট ও উমেশ যাদবের চোটের জন্যে শুরুর দিকের অনুপস্থিতিতে পেসবোলিংকে নেতৃত্ব দিতে প্রস্তুত। সঙ্গে স্পিনার হিসেবে আছেন পীযুষ চাওলা ও ভারতের প্রথম এবং একমাত্র চায়নাম্যান বোলার কুলদীপ যাদব। বাংলা থেকে দলে আছেন সায়ন ঘোষ।

দলের দুর্বলতা বলতে শুরুর দিকে উমেশ ও বোল্টের অনুপস্থিতি। সাথে রাসেলের জায়গাটা ওয়োকস এবং পাওয়েল কতটা পূরণ করতে পারেন সেটাই দেখার।

নজর থাকবে, পাওয়েল, ক্রিস ওয়োকস, শাকিব আল হাসান, সূর্যকুমার যাদব, ইউসুফ পাঠান এবং কুলদীপের উপর।

রেটিং ৮/১০

দিল্লি ডেয়ারডেভিলস

দিল্লির দল সম্পর্কে বলতে গেলে মজা করে বলা হয় এই দলের কর্মকর্তারা নিলামের সময় যতটা চনমনে থাকেন খেলোয়াড়রা মাঠে ততটা এনার্জি দেখালে দলটা আরও ভাল ফল করতেই পারত। দলের ক্যাপ্টেন জাহির খান। দলে আছেন কুইন্টন ডি কক, প্যাট কামিন্স, কার্লোস ব্র্যাথওয়েট, কোরি অ্যান্ডারসন, ক্রিস মরিস, স্যাম বিলিংস, কাগিসু রাবাদা, এঞ্জেলো ম্যাথেউসের মত দক্ষ বিদেশি খেলোয়াড়রা। সাথে করুণ নায়ার, জয়ন্ত যাদব, অঙ্কিত বাওনে, খলিল আহমেদ, মহম্মদ  শামি, শ্রেয়স আয়ার, রিশভ পান্ত, অমিত মিশ্র, আদিত্য তারে, সঞ্জু স্যামসাঙ-এর মত প্রতিভাবান দেশীয় খেলোয়াড়। যদিও চোটের জন্যে ডি কক শুরুর থেকে খেলতে পারবেননা। শামিও সদ্য চোট থেকে ফিরেছেন, তাই কতটা ফিট হয়ে উঠতে পারেন সেটা দেখবার। যদিও চেন্নাইয়ের বিরুদ্ধে বাংলার হয়ে দারুণ বল করেছেন শামি।

সেই অর্থে বড় নাম খুব বেশি নেই এই দলে। অলরাউন্ডাররাও কতটা কার্যকর ভুমিকা নিতে পারে সেটাই দেখার। দুর্বলতা বলতে প্রতিষ্ঠিত বিশেষজ্ঞ টি-টোয়েন্টি ব্যাটসম্যানের অভাব।

নজর কাড়তে পাড়েন ব্র্যাথওয়েট, কোরি অ্যান্ডারসন, শ্রেয়স আয়ার ও কাগিসু রাবাদা।

রেটিং ৬/১০

গুজরাট লায়ন্স

২০১৫ র লোধা কমিশনের রিপোর্ট পেশ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আইপিএলের প্রথম চ্যাম্পিয়ন রাজস্থান রয়ালস ও আইপিএলের সব থেকে সফল দল চেন্নাই সুপারকিংসের অপসারণ ঘটে। মূলত এই দুই দলের খেলোয়ারদের কেন্দ্র করে যে দুটো দল পরে গঠিত হয়েছে গুজরাট লায়ন্স তাদেরই একটি। সুরেশ  রায়নার নেতৃত্বে দলে আছে ডোয়েন ব্রাভো, ব্রেন্ডন ম্যাককালাম, আরন ফিঞ্চ, জেমস ফকনার, জাসন রয়, ডোয়েন স্মিথ, চিরাগ সুরির মত বিদেশিরা। সাথে মনপ্রিত গনি, ইশান কিষান, রবিন্দ্র জাদেজা, সাদাব জাকাতি, দীনেশ কার্তিক, প্রদীপ সাঙ্গওয়ান, মুনাফ প্যাটেল, প্রবীন কুমারের মত অভিজ্ঞ দেশি তারকারা। যদিও চোটের হাত থেকে নিস্তার নেই এই দলটারও। রবীন্দ্র জাদেজা ও ডোয়েন ব্রাভো ক্লান্তি ও চোটের কারনে শুরুর দিকে দলে যোগ দিতে পারছেন না। কিন্তু যথেষ্ট বিকল্প থাকায় দলটাকে কোনভাবেই দুর্বল বলা যাচ্ছেনা।

নজর কাড়তে পাড়েন দীনেশ কার্তিক,ব্রেন্ডন ম্যাককালাম, আরন ফিঞ্চ,জাসন রয় ও অবশ্যই আইপিএলের সব থেকে সফল ব্যাটসম্যান সুরেশ রায়না।

রেটিং ৮.৫/১০

 

রাইজিং পুনে সুপারজায়ান্টস

গতবার ধোনির নেতৃত্বে খুব ভাল ফল না করলেও এই দলটি ধারে ও ভারে কিন্তু বেশ ভাল। দলে আছেন ড্যান ক্রিস্টিয়ান, লকি ফারগুসন, উস্মান খ্বাজা, ফাফ দু প্রেসিস, ইমরান তাহির, স্টিভ স্মিথ, বেন স্টোকসের মত স্পেশালিষ্ট টি-টোয়েন্টি খেলোয়াড়। সাথে ময়ঙ্ক আগারওয়াল, রজত ভাটিয়া,বাংলার মনোজ তিওয়ারি ও অশোক দিন্দা, ইশ্বর পান্ডে, শার্দূল ঠাকুর, বাবা অপরাজিত, রাহুল চাহার, দীপক চাহারের সাথে মহেন্দ্র সিংহ ধোনি। যদিও তাঁকে ক্যাপ্টেন্সি থেকে সরিয়ে দেওয়া নিয়ে মিডিয়াতে যথেষ্ট জলঘোলা হচ্ছে, তাও টিমম্যান ধোনি সেটাকে কাটিয়ে নিশ্চয়ই দলকে জয়ের মুখ দেখাবেন বলে আশা করা যায়। এই দলে চোটের তালিকায় আছেন রবিচন্দ্রন অশ্বিন। কিন্তু অ্যাডাম যাম্পা ও ইমরান তাহিরের মত বিশ্বমানের স্পিনার যে দলে আছে সেখানে ভয় পাওয়ার কোনও কারণ তো দেখতে পাচ্ছি না।

ধোনি ও মনোজ তিওয়ারি বাদে এই দলের দেশীয় ব্যাটিং লাইনআপ খুব একটা পরীক্ষিত নয়। তাই কোনোদিন বিদেশিরা সফল নাহলে কীভাবে এই দল লড়াইয়ে ফেরে সেটাই দেখার জন্যে মুখিয়ে থাকব।

নজরকাড়া খেলোয়াড় বলতে এই দলে আছেন স্টিভ স্মিথ, বেন স্টোকস, উস্মান খ্বাজা, ফাফ দু প্রেসিস এবং অবশ্যই মাহি।  

রেটিং ৭.৫/১০

এই হল টিমগুলোর হালহকিকৎ। এবং হ্যাঁ, রেটিংটা একদমই নিজের মনগড়া কোনও সংখ্যা নয়। প্লেয়ারদের বর্তমান ফর্ম, এবং সম্ভাব্য টিমের প্রেক্ষিতে এই রেটিং ধার্য করা হয়েছে। কিন্তু কি বলুন তো, খেলাটা টি-টোয়েন্টি। চা-এর কাপ শেষ হবার আগে এখানে খেলা পালটে যায়। আশা করব সেই খেলার নিয়মেই আগামী দেড়মাস জুড়ে চলবে ক্রিকেট উন্মাদনা। ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে একসঙ্গে গলা ফাটবে পছন্দের দলের জন্যে। স্পট ফিক্সিং বা বেটিংএর কালো হাতের নাগাল এড়িয়ে এভাবেই চলুক ক্রিকেট। আর আমি আপনি বলতে থাকি বাহ রে, বাহ!  

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here