শৈবাল বিশ্বাস

এক বিতর্কিত ইস্টবেঙ্গল কর্মকর্তার জন্য‌ ভেঙে যেতে বসেছে মোহনবাগান-ইস্টবেঙ্গল আঁতাঁত। স্থির হয়েছিল আইএসএল প্রতিযোগিতার আগ্রাসন এবং এআইএফএফের একচোখো মনোভাবের দরুন ইস্টবেঙ্গল ও মোহনবাগান আলাদা একটি ফেডারেশনের আওতায় পৃথক লিগ শুরু করবে। সেই লিগে নাম লেখাবে লাজং, আইজলের মতো উত্তর পূর্বাঞ্চলের দল এবং গোয়ার বিখ্য‌াত দলগুলি। কার্যত এআইএফএফকে ঠুঁটো সংস্থায় পরিণত করা হবে। এর প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসাবে স্থির হয়েছিল আইএসএল এবং এআইএফএফকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হবে তারা কেউই শর্তাধীনে আইএসএল খেলবে না। নিঃশর্তে যদি তাদের প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করতে দেওয়া হয় তা হলে তারা খেলতে পারে কিন্তু তাও কোনো রকম ফ্র্য‌াঞ্চাইজি মানি তারা দেবে না। এই দুই বড়ো দলের যুক্তি ছিল, সারা ভারতে এই দু’টি ক্লাব বড়ো ব্র্য‌ান্ড ভ্য‌ালু বহন করে। সেই ব্র্য‌ান্ড ভ্য‌ালু ভাঙিয়ে আইএসএল জনপ্রিয়তা কুড়োবে অথচ এই দুই দলকে টাকা দিয়ে প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে হবে কেন?

এই বক্তব্য‌ে দুই ক্লাবের কর্মকর্তাই একমত পোষণ করে। সেইমতো স্থির হয়েছিল ইস্টবেঙ্গল বা মোহনবাগান — কোনো দলই আইএসএলে খেলার জন্য‌ ফর্ম তুলবে না। কিন্তু নিজেদের মধ্য‌ে বোঝাপড়া ভেঙে হঠাৎই ইস্টবেঙ্গলের এক বিতর্কিত কর্মকর্তা আইএসএলের ফর্ম তুলে নেন। এর ফলে প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ মোহনবাগান কর্মকর্তাদের অধিকাংশ।

মোহনবাগানের এক কর্মকর্তা দেবাশিস দত্ত মনে করেন, এটা এক ধরনের বিশ্বাসভঙ্গ করা। ভবিষ্য‌তে আলোচনার কোনো জায়গাই খুলে রাখল না ইস্টবেঙ্গল। এ বার যে যার মতো করে এগোবে।

আরও পড়ুন : মোহনবাগানের সম্মতি নিয়ে আইএসএল-এর দরপত্রের খসড়া কিনছে ইস্টবেঙ্গল

ওই কর্মকর্তা কিন্তু লোকজনের কাছে অন্য‌ কথা বলছেন, কখনও বলছেন, ফর্ম তোলা মানেই তো আর দলে নাম ভেড়ানো নয়, আবার কখনও বা বলছেন, মোহনবাগানকে একদম বিশ্বাস করতে নেই। মোহনবাগান যে পথে যাবে সে পথে যাওয়া একেবারে উচিত নয়। বেঙ্গালুরু এফসি তো আইএসএলে খেলবে বলে স্থির করেছে, তা হলে আমাদের না খেলার কারণ কী?

মোহনবাগানের সহসচিব সৃঞ্জয় বসু গতকাল জানিয়েছিলেন, ইস্টবেঙ্গল তাঁদের সঙ্গে আলোচনা করেই আইএসএল দরপত্রের খসড়া তুলেছে। তারা খসড়ার কপি মোহনবাগানের কাছে পাঠাবে। এ ব্যাপারে মোহনবাগান কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তাঁরা বলেন, সৃঞ্জয়বাবুর বক্তব্য মোহনবাগানের ‘অফিসিয়াল বক্তব্য’ নয়। তাঁদের প্রশ্ন, সৃঞ্জয়বাবু এটা আগে থেকে জেনে থাকলে তাঁদের জানালেন না কেন?

ইস্টবেঙ্গল কর্মকর্তাদের একাংশও ওই বিতর্কিত কর্মকর্তার আচমকা পদক্ষেপে হতবিহ্বল হয়ে পড়েছেন। ক্লাবের সহ সচিব শান্তি দাশগুপ্ত প্রকাশ্য‌েই বলছেন, তিনি এই বিষয়ে কিছুই জানেন না। তাঁর কোনো মতামতই নেওয়া হয়নি। যদি মতামত নেওয়া হত তা হলে মোহনবাগানের সঙ্গে জোট বেঁধে লড়াই চালানোর পক্ষেই মত দিতেন তিনি। বোঝাই যাচ্ছে ওই কর্মকর্তা একক সিদ্ধান্তে এগিয়েছেন, কিন্তু কেন?

আরও পড়ুন : ভারতীয় ফুটবলে জোর ধাক্কা দিতে চলেছে মোহন-ইস্ট, নতুন সর্বভারতীয় ফেডারেশন গড়ে লিগ চালুর ভাবনা

রিলায়েন্সের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার মোহ থাকাটা আশ্চর্যের নয় বলেই অনেকে মনে করছেন। বেশ কয়েক বছর টুর্নামেন্ট চালিয়ে নীতা আম্বানির ধারণা হয়েছে, ফুটবল এন্টারটেনমেন্ট থেকে এ দেশে কিছু রোজগার করতে গেলে মোহনবাগান-ইস্টবেঙ্গলকে সঙ্গে চাই। কাজেই নানা দিক থেকে এই দুই ক্লাবকে তারা আইএসএলের সঙ্গে যুক্ত করতে চাইবে সেটা তো বলাই বাহুল্য‌। ইতিমধ্য‌ে এআইএফএফ প্রেসিডেন্ট প্রফুল্ল পটেল আইএসএলের হয়ে কথা বলতে শুরু করেছেন। এর পরবর্তী পদক্ষেপ হিসেবে তারা যে মোহন-ইস্টের পরিচালকদের ধরার চেষ্টা করবে সেটা তো বলাই বাহুল্য‌।

ওই কর্মকর্তা কিন্তু লোকজনের কাছে অন্য‌ কথা বলছেন, কখনও বলছেন, ফর্ম তোলা মানেই তো আর দলে নাম ভেড়ানো নয়, আবার কখনও বা বলছেন, মোহনবাগানকে একদম বিশ্বাস করতে নেই। মোহনবাগান যে পথে যাবে সে পথে যাওয়া একেবারে উচিত নয়। বেঙ্গালুরু এফসি তো আইএসএলে খেলবে বলে স্থির করেছে, তা হলে আমাদের না খেলার কারণ কী?

ইস্টবেঙ্গল কর্মকর্তারাই তাঁকে চেপে ধরে জিঞ্জাসা করছেন, ইস্টবেঙ্গল হোম ম্য‌াচ কলকাতায় খেলার সুযোগ পাবে না। তাদের শিলিগুড়িতে গিয়ে খেলতে হবে। এই চূড়ান্ত অপমানকর শর্ত তারা মেনে নিচ্ছেন কী করে? মোহনবাগান কিন্তু স্পষ্ট বলে দিয়েছে, তারা দুর্গাপুরের দল হিসাবে আইএসএল খেলবে না। ইস্টবেঙ্গল পিছিয়ে এল কেন?

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here