তিরুঅনন্তপুরম: আর পাঁচটা দিনের থেকে শুক্রবারটা আলাদা ছিল শ্রীকুট্টির কাছে। তাঁর বয়স যখন পনেরো, তখন রাজ্য প্রতিযোগিতায় চারশো মিটার রিলে রেসে নির্বাচিত হয়েছিলেন তিনি। কিন্তু অংশগ্রহণ করতে পারেননি। কারণ, সমাজ যে তাঁকে মেনে নেয়নি। তিনি যে ‘সমাজের কলঙ্ক’।

সেই ‘সামাজিক কলঙ্ক’ ঘুচিয়েই ময়দানে নামলেন শ্রীকুট্টি এবং তাঁর মতো আরও ১৩১ জন। এঁরা সকলেই রূপান্তরকামী। কেরল সরকারের উদ্যোগে রূপান্তরকামীদের জন্য ‘অ্যাথলেটিক মিট’ আয়োজিত হল শুক্রবার। এই ধরনের উদ্যোগ ভারতের মধ্যে প্রথম। তিরুঅনন্তপুরমের সেন্ট্রাল স্টেডিয়ামে আয়োজন করা হয়েছিল এই প্রতিযোগিতা। স্প্রিন্ট, রিলে রেস, শট পুট, লং জাম্পের মতো জনপ্রিয় সব বিভাগ রাখা হয়েছিল এই প্রতিযোগিতায়।

এই প্রতিযোগিতার আয়োজক কমিটির সদস্য ছিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন, ক্রীড়ামন্ত্রী এ মৈদিন এবং পর্যটনমন্ত্রী কাডাকামপল্লি সুরেন্দ্রন। রাজ্যের প্রতিটা জেলা পরিষদে একজন করে কোচ নিয়োগ করা হয়েছিল, এবং প্রতিযোগীরা যাতে অনুশীলনের সুযোগ পান সে জন্য প্রতিটা জেলাতেই অনুশীলনের মাঠ দেওয়া হয়েছিল। তিন দিন ধরে অনুশীলন করার সুযোগ পেয়েছিলেন প্রতিযোগীরা।

রূপান্তরকামীদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার জন্য প্রশিক্ষকদের যাতে কোনো রকম ছুৎমার্গ না থাকে সে জন্য অনুশীলনের আগে একটি বিশেষ কর্মশালার আয়োজন করেছিল রাজ্য ক্রীড়া সংস্থা। প্রতিযোগিতার কো-অর্ডিনেটোর অনিল অর্জুনন বলেন, “আমরা সব প্রশিক্ষকের তিরুঅনন্তপুরমে ডেকেছিলাম। সবাইকে বোঝানো হয়েছিল রূপান্তরকামীদের কী ধরনের সামাজিক কলঙ্কের মধ্যে দিয়ে যেতে হয় এবং কেন তারা ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করতে পারে না।”

এই প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করতে পেরে খুশি শ্রীকুট্টি বলেন, “সামাজিক কলঙ্কের জন্য আমি অ্যাথলেটিক থেকে দূরে সরে যাই। এত বছর পর এ রকম একটা সুযোগ পেয়ে আমি খুব খুশি। শটপুট বিভাগে নাম দিয়েছি আমি।”

dailyhunt

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন