কলকাতা: ১৩১ [নারিন ৩৪(১৭), যজুবেন্দ্র চহ্বল ৩-১৬, নেগী ২-১৫]

বেঙ্গালুরু: ৪৯ [কেদার যাদব ৯, ডে’গ্র্যান্ডহোম ৩-৪, ওক্স ৩-৬]

কলকাতা: শনিবার মরশুমের প্রথম কালবৈশাখী বয়ে গিয়েছিল শহরে। রবিবার ইডেন গার্ডেনস দেখল নাইট পেসারদের কালবৈশাখী। এই ঝড়ের দাপটে একেবারে উড়ে গেল বেঙ্গালুরু। আইপিএলের ইতিহাসে সর্বনিম্ন স্কোরে শেষ আরসিবি।

কলকাতার দেওয়া টার্গেট তাড়া করতে নামা মাত্রই যেন ইডেনে ভর করেছিল পার্থ, ডারবান এবং বার্বাডোজ। দু’টো জিনিসই প্রধানত দেখা যাচ্ছিল। হয় বেঙ্গালুরুর উইকেট পড়ছে, নয়তো ব্যাটের কানা ছুঁয়ে বেরিয়ে যাচ্ছে। কাউল্টার নাইল হোক, উমেশ যাদব হোক, ক্রিশ ওক্স বা কলিন দে’গ্র্যান্ডহোম, চার পেসারের মধ্যে যেন প্রতিযোগিতা লেগেছিল কে কাকে ছাপিয়ে যাবে।

কেকেআরের সব ক’টা উইকেটই তুললেন পেসাররা। গত বছর পর্যন্তও যে কেকেআর ছিল স্পিন-নির্ভর, তাদের রবিবার কোনো স্পিনারকে ব্যবহারই করতে হল না। অন্য দিকে বেঙ্গালুরুর কোনো ব্যাটসম্যানই দু’সংখ্যার রানে যায়নি।

রবিবার  শুরুটা অবশ্য একদমই আলাদা ছিল। ইডেনের দর্শক এ দিন দুই শিবিরে ভাগ হয়ে গিয়েছিল। কোহলির ক্যারিশ্মাই সম্ভবত কারণ, যার জন্য এ দিন বেঙ্গালুরুর সমর্থকও ছিল চোখে পড়ার মতো। দর্শকদের থেকে উৎসাহের ফলে বাড়তি অনুপ্রেরণা পেয়ে গিয়েছিল আরসিবি বোলিং। তাই প্রথম ওভারে নারিনের হাতে ব্যাপক মার খেলেও দমে যায়নি তারা।

অন্য মাচের মতো এ দিনও শুরু থেকে ঝড় তুলেছিলেন সুনীল নারিন। তাঁর ব্যাটিং দাপটে এক সময়ে মাত্র পাঁচ ওভারে কেকেআরের স্কোরবোর্ডে উঠে গিয়েছিল ৫৬। কিন্তু নারিন ফিরে যেতেই এ দিন আর কারও ব্যাট চলেনি। বেঙ্গালুরুর হয়ে সব থেকে বেশি নজর কাড়েন যজুবেন্দ্র চহ্বল। টি-২০ ক্রিকেটে ভারতীয় দলের অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য এই লেগ স্পিনার চার ওভারে মাত্র ১৬ রান দিয়ে তুলে নেন তিনটে উইকেট। তাঁকে যোগ্য সঙ্গত দেন বেঙ্গালুরুর সব বোলারই। আর তাই কুড়িতম ওভারে মাত্র ১৩১ রানে অল আউট হয়ে যায় কেকেআর। কিন্তু ব্যাটিং ভরাডুবির মুখে পড়লেও বোলাররা তার কিছুই বুঝতে দিলেন না কেকেআর শিবিরকে।

ম্যাচ শেষে দৃশ্যত হতাশ বেঙ্গালুরু অধিনায়ক বিরাট কোহলি এই হতশ্রী পারফরমেন্সের জন্য দায়ী করলেন তাঁর দলের ব্যাটসম্যানদের। অন্য দিকে এ রকম জয়ে পেয়ে উচ্ছ্বসিত গৌতম গম্ভীরের এখন পরবর্তী টার্গেট মিশন পুনে।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here