পুনে: আগের ম্যাচে কালবৈশাখী দেখিয়েছিলেন বোলাররা, বুধবার কালবৈশাখী দেখালেন উথাপ্পা। তাঁর ব্যাটিং তাণ্ডব এবং গম্ভীরের যোগ্য সঙ্গতে উনিশতম ওভারেই ১৮৩-এর টার্গেট তাড়া করে জিতে গেল কলকাতা। সেই সঙ্গে লিগ শীর্ষে উঠে গেল নাইটরা।

সুনীল নারিনের ব্যাট এ দিন চলেনি। কেকেআর ইনিংসের ষষ্ট ওভার পর্যন্ত এগিয়ে ছিল পুনে। স্কোরবোর্ডে উঠেছিল মাত্র ৪৫। সেখান থেকে গিয়ার চেঞ্জ করলেন উথাপ্পা। বল উড়ে যেতে শুরু করল বাউন্ডারির বাইরে। তাঁর তাণ্ডবের সামনে পুনের সব বোলারের নাজেহাল অবস্থা। উলটো দিকে গম্ভীরের তখন কাজ খুচরো রান নিয়ে উথাপ্পাকে স্ট্রাইক দিয়ে যাওয়া। তবে কলকাতার এই জয়ে পুনের অবদানও কম কিছু ছিল না। বারো রানে ব্যাট করার সময়ে উথাপ্পার ক্যাচ ফস্কান উনাড়কাট। এর কিছুক্ষণ পরেই গম্ভীরের ক্যাচ ফেলেন পুনের ওয়াশিংটন সুন্দর। মাত্র ২৪ বলে অর্ধশতরান পূর্ণ করেন উথাপ্পা। অন্য দিকে তাঁর ৫০ পূর্ণ করতে গম্ভীর নেন ৩৫ বল।

তবে ম্যাচ শেষ হওয়ার মুহূর্তে ছোট্টো ধাক্কা খায় কেকেআর। এক উইকেট হারিয়েই লক্ষ্যে পৌঁছে যাওয়ার ইঙ্গিত দেখালেও শেষ মুহূর্তে আউট হয়ে প্যাভিলিয়নে ফেরেন উথাপ্পা এবং গম্ভীর। তবে জয়ের জন্য বাকি রানটুকু তুলে নেন মনীশ পাণ্ডে এবং ড্যারেন ব্রাভো।

বুধবার টসে জিতে ফিল্ডিং-এর সিদ্ধান্ত নেন গম্ভীর। পুনের স্পিন-সহায়ক পিচে আগের দিনে হিরো ন্যাথান কাউল্টার নাইলকে বসিয়ে বাড়তি স্পিনার খেলালেও বিশেষ সুবিধা করতে পারেনি নাইট বোলিং। রাহুল ত্রিপাঠী এবং অজিঙ্ক রাহানের মধ্যে প্রথম উইকেটের জুটিতে ওঠে ৬৫। আগের কয়েকটি ম্যাচের মতো এ দিনও ঝোড়ো ব্যাটিং করে যান ত্রিপাঠী। তিন নম্বরে আবার নজর কাড়েন অধিনায়ক স্মিথ। দুর্দান্ত একটা অর্ধশতরান বেরোয় তাঁর ব্যাট থেকে। ধোনিও মারার মুডে ছিলেন। তাই শুরুতেই দু’টো ছক্কা হাঁকিয়ে দেন তিনি। কিন্তু তাঁর ইনিংস বেশিক্ষণ চলেনি। মাত্র ১১ বলে ২৩ রান করে কুলদীপ যাদবের শিকার হন। নাইটদের হয়ে এ দিন দুর্ধর্ষ বোলিং করেন কুলদীপ যাদব। আঠারোতম ওভারে মাত্র পাঁচ রান দিয়ে দু’টো উইকেট দখল করেন। কুলদীপ এই ওভারটা না করলে হয়তো দু’শোর কাছাকাছি পৌঁছে যেত পুনে।

এই জয়ের ফলে প্লে-অফে কার্যত উঠে গেল কেকেআর। যে রকম ফর্মে রয়েছে টিম, তাতে তৃতীয় বারের জন্য চ্যাম্পিয়ন হওয়ার প্রধান দাবিদার হয়ে উঠেছে তারা।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here