পঞ্জাব: ১৭০-৯ [ভোহরা ২৮ (১৯), মিলার ২৮ (১৯), উমেশ ৪-৩৩] কলকাতা: [গম্ভীর ৭২ নট আউট (৪৯), নারিন ৩৭ (১৮), অ্যারন ১-২৩] কলকাতা: কলকাতা-৮, পঞ্জাব-০। না ফুটবলের কোনো স্কোরলাইন নয়, এই দু’টো দলের মধ্যে শেষ আটটি সাক্ষাতের ফল, যেখানে পঞ্জাবকে মাথা তুলে দাঁড়াতেই দেয়নি কেকেআর। বল হাতে তিনি কী করতে পারেন, ক্রিকেট বিশ্ব জানে, কিন্তু ব্যাট হাতে তাঁর এই দাপট আগে কেউ দেখেছে কি না সন্দেহ। তিনি সুনীল নারিন। তাঁর জন্যই দ্বিতীয় ইনিংসের প্রথম পাঁচ ওভারেই ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারিত হয়ে গেল। সব থেকে বড়ো কথা, ক্রিস লিনের অভাব বুঝতে দিলেন না তিনি। ইডেন গার্ডেনের পিচের চরিত্র বদলে গিয়েছে। আগের মতো ঘূর্ণি নয়, পিচ এখন গতিসম্পন্ন। এই পিচে যখন পঞ্জাবের খাড়া করা স্কোর নারিনকে নিয়ে তাড়া করতে নেমেছিলেন গম্ভীর, অনেকের তখন চক্ষু চড়কগাছ। এই ফাটকা খেলাটা কি কোনো দরকার ছিল! প্রথম দু’ওভারে পঞ্জাবের দুই বোলার বেশ চাপে ফেলে দিলেছিল দুই ওপেনারকে। কিন্তু তৃতীয় ওভার থেকেই ম্যাচের মোড় ঘুরে যায়। শুরু হয় নারিন আর গম্ভীরের তাণ্ডব। ষষ্ঠ ওভারে নারিন যখন আউট হলেন স্কোর বোর্ডে তখন ৭৬ উঠে গিয়েছে। তার পর ম্যাচ যেটা ছিল শুধু সময়ের অপেক্ষা।  সেটা অধিনায়ক গম্ভীর, উথাপ্পা আর মনীশ পাণ্ডে মিলে তুলে দেন। আইপিএলে এই নিয়ে নিজের চৌত্রিশতম অর্ধশতরানটি করলেন কেকেআর অধিনায়ক।  বৃহস্পতিবার টসে জিতে পঞ্জাবকে ব্যাট করতে পাঠান গম্ভীর। শুরুটা খুব ভালো করলেও মাঝ পথে তাল কেটে যায় পঞ্জাব ইনিংসে। একটা সময় মনে হচ্ছিল দু’শোর কাছাকাছি পৌঁছে যাবে তাদের স্কোর, কিন্তু উমেশ যাদবের একটি ওভারই ইনিংসের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। সেট হয়ে যাওয়া ডেভিড মিলার এবং ঋদ্ধিমান সাহাকে ফেরান তিনি। সেই সঙ্গে একই ওভারে ফেরেন অক্ষর পটেলও। উমেশের ব্যাপারে আলাদা করে বলতেই হয়। অস্ট্রেলিয়া সিরিজ থেকেই তুখোড় ফর্মে আছেন তিনি। সেই ফর্ম যে টি-২০ ক্রিকেটেও নিয়ে এসেছেন, এ দিনের চার উইকেটই তার প্রমাণ। ঘরের মাঠে ভালোই খেলেছেন ঋদ্ধি। পীযূষ চাওলার একটি ওভারে দু’টো ছক্কা মারেন তিনি। তিনি থেকে গেলে পঞ্জাবের স্কোর আরও কিছুটা যে বাড়ত সেটা বলাই বাহুল্য। তবে কেকেআর জিতলেও, এ দিনও তাদের ভোগাল জঘন্য ফিল্ডিং। এই বিভাগটায় যত দ্রুত উন্নতি করবে, ততই ভালো হবে কেকেআরের পক্ষে।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here