সানি চক্রবর্তী:

এই মুহূর্তে কলকাতা নাইটরাইডার্স শিবিরের সেরা অস্ত্র কে? নতুন ওপেনারের ভূমিকায় সুনীল নারিন ডাবল কামাল করলেও ন্যাথান কুইল্টার-নাইলের কাছে তাঁকে হারতেই হচ্ছে। এই অজি পেসার নাইট-শিবিরের বোলিং শক্তিকে এক ধাক্কায় অনেকটা বাড়িয়ে দিয়েছেন। ঝাঁঝালো পেসের পাশাপাশি স্লোয়ার বলে দিল্লি থেকে বিরাট-গেইলের বেঙ্গালুরু, সবাই কাত কুইল্টারে। সেই সেরা অস্ত্রকে যদিও বুধবারের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে বিশ্রাম দেওয়া হয়েছে। পুনেতে ধোনির ডেরায় দলের সঙ্গে তিনি যাননি, তাঁকে ৪ দিনের বিশ্রাম দেওয়া হয়েছে। হঠাৎ করে কেন এই বিশ্রাম? কারণটা ভাঙলেন অধিনায়ক গৌতম গম্ভীর নিজেই। বললেন, “ওর উপরে এখনই অতিরিক্ত চাপ দিতে চাইছি না। প্লে অফে স্থান পেতে পরের সাতটা ম্যাচ গুরুত্বপূর্ণ। তাই ওর সার্ভিস পুরো আইপিএলে পেতে চাইছি।” ইঙ্গিতটা পরিষ্কার। ৭ ম্যাচে ১২ পয়েন্ট নিয়ে লিগটেবিলের দ্বিতীয় স্থানে দাঁড়িয়ে থাকা কেকেআর শিবিরের চিন্তার গ্রহে এখন থেকেই ঢুকে পড়েছে প্লে-অফের অঙ্ক। গম্ভীরের সংযোজনও তাৎপর্যপূর্ণ, “ভালো খেলে সমর্থকদের প্রত্যাশা বাড়িয়ে দিয়েছি আমরা। এ বার সেটা বজায় রাখার কাজটা কিন্তু আরও চ্যালেঞ্জিং।”

টানা জেতার পরে পুনে ম্যাচকে তা হলে কি হালকা করে দেখছে কেকেআর শিবির? এমনটা ভাবলে কিন্তু ঠকতে হবে। অধিনায়ক মেজাজে বলছেন, “বেঙ্গালুরু ম্যাচ ইতিহাস। পুনে ম্যাচ নতুন চ্যালেঞ্জ। আর এ বারের আইপিএলে সব দলেরই সামঞ্জস্য দুর্দান্ত। যে কোনো দলের কাছে যে কেউ হারতে পারে। গুজরাতের কাছে আমরা যে হারব, সেটা ক’জনই বা আশা করেছিলেন। পাশাপাশি পুনের সবাই কিন্তু কিছু না কিছু অবদান রাখছে। কোনো নির্দিষ্ট এক দু’জনের উপরে ভরসা না করে জিতছে দলটা।”

আপাতত যে জয়ের ধারা অব্যাহত রাখা ছাড়া কোনো কিছুই ভাবছে না নাইট থিংক ট্যাঙ্ক সেটা বেশ বোঝা যাচ্ছে। বরং কুইল্টার-নাইলের বদলে ফের একবার ট্রেন্ট বোল্টকে সুযোগ দেওয়ার কথা ভাবা হচ্ছে। মহারাষ্ট্র ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের পুনের মাঠে স্পিনাররাও কিছুটা সাহায্য পান। সে ক্ষেত্রে শাকিব আল হাসানের দলে প্রত্যাবর্তনও হতেই পারে। আবার বিধ্বংসী ব্যাটসম্যান হিসেবে পরিচিত রোভম্যান পাওয়েলের অভিষেকও হতে পারে নাইট জার্সিতে। ফিনিশারের ভূমিকায় তাঁকে দেখা গেলেও যেতে পারে।

গম্ভীর যদিও ফিনিশার তত্ত্বে বিশ্বাসী নন। নিজের ক্রিকেটদর্শনে সওয়ার গোতি বলছেন, “আমার কাছে যে দলকে জেতায় সেই ফিনিশার। আলাদা কেউ নয়। সেই কাজটা ওপেনারও করতে পারে, আবার একাদশ স্থানে নামা ব্যাটসম্যানও।” প্রতিপক্ষ শিবিরে থাকা মহেন্দ্র সিং ধোনিকে নিয়ে চলতে থাকা সমালোচনাকেও সোজা বাউন্ডারি লাইনের বাইরে পাঠিয়ে গম্ভীরের সাফ কথা, “ধোনির দক্ষতা নিয়ে নতুন করে কিছুই বলার নেই। ভারতের জার্সিতে ও আইপিএলে ঠিক কী করেছে ও, সেটা আশা করি আর কাউকে স্মরণ করিয়ে দিতে হবে না। এখানে ১-২ ম্যাচে ব্যর্থ হলেই সমালোচনা শুরু হয়ে যায়। আপাতত প্রতিপক্ষ পুনে বা ধোনিকে নিয়ে আলাদা করে কিছু ভাবছি না, পুরো ফোকাস আমাদের খেলাতেই করতে চাই।”

বেঙ্গালুরু শিবিরের বিরুদ্ধে ইনিংসের ব্রেকে গোতির বক্তব্য টিমের অন্দরে টনিকের মতো কাজ করেছে। সরাসরি ক্রিকেটারদের চ্যালেঞ্জ ছুড়ে গোতি বলে দিয়েছিলেন, “কারোর জায়গাই অক্ষত নয়। সেরাটা দিতে না পারলে অনেক যোগ্য লোক রয়েছে পরিবর্ত হিসেবে।” তাঁর এই টোটকার পিছনে আসলে যে রয়েছে তৃতীয় বার চ্যাম্পিয়ন হওয়ার স্বপ্ন। গম্ভীর ফের এক বার চ্যাম্পিয়ন হওয়ার লক্ষ্য নিয়েই শুরু থেকে খেলছেন, আর সেই বার্তাটা নাইট-শিবিরেও পৌঁছে দিতে পেরেছেন।

টানা দু’টো ম্যাচে জেতা পুনের বিরুদ্ধে লড়াইটা যে সহজ হবে না, সেটা ভালোমতোই জানা গোতির। তাই আগের পারফরম্যান্স নিয়ে না ভেবে, সেটা টানা করে দেখানোর মন্ত্রটাই ফের এক বার আওড়ে দিয়েছেন। প্রসঙ্গত, গত বারের দুই সাক্ষাতেই জিতেছে কেকেআর। তাই রাইজিং পুনে সুপারজায়ান্ট শিবিরের বিরুদ্ধে অপরাজিত তকমাটা ধরে রাখার লক্ষ্যই স্থির করেছেন গম্ভীর।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here