সানি চক্রবর্তী:

গ্রুপ লিগ পর্বের হিসেবনিকেশ শেষেও যেন ঘোর তার কাটছে না।

শেষ দু’টো ম্যাচে ব্যাটিং ব্যর্থতার জেরে ভুগতে না হলে হয়তো উদ্যাননগরীতে যেতেই হত না নাইটদের। বাণিজ্যনগরী থেকেই হয়তো নিজামের শহরের টিকিট পাকা করার সুযোগ থাকত। ঠিক যেমনটা করে ফেলেছে রাইজিং পুনে সুপারজায়ান্ট। যদিও এই বেঙ্গালুরুতেই কিছু দিন আগে একঝাঁক সুখস্মৃতি সঙ্গী হয়েছিল কেকেআরের। ক্রিস লিনের সঙ্গে সুনীল নারিনের ওপেনিংয়ে নেমে ব্যাটিং তাণ্ডবের জেরে ক্ষতবিক্ষত হয়েছিল বিরাট শিবির। এ বারে কিন্তু একেবারে ভিন্ন প্রেক্ষাপট। প্রতিপক্ষ গত বারের চ্যাম্পিয়ন সানরাইজার্স হায়দরাবাদ। ডেভিড ওয়ার্নারের একার বিক্রমে যাদের বিরুদ্ধে শেষ ম্যাচে বশ মেনেছে গম্ভীর শিবির। দিন দশেক আগে যে বেঙ্গালুরুতে ‘ওপেনার নারিন’ ঝড় তুলেছিলেন, এলিমিনেটরে নামার আগে ক্যারিবিয়ান ক্রিকেটারের সেই পদ ঘিরেই চিন্তায় নাইট শিবির। ওপেনার নারিন মাঝেমধ্যে ঝোড়ো শুরু দিলেও তার জেরে ঘেঁটে যাচ্ছে গোটা ব্যাটিং লাইন আপ। অধিনায়ক গৌতম গম্ভীরকে ওপেনিং ছেড়ে নেমে যেতে হচ্ছে তিনে। সারা মরশুম তিন ও চার নম্বরে খেলা উথাপ্পা, মনীশকেও এক ধাপ করে নামতে হচ্ছে। আর সবটার জেরে থিতু হওয়ার সুযোগ কম পাচ্ছেন তাঁরা। অভাব চোখে পড়ছে লোয়ার অর্ডারে চালিয়ে খেলার লোকেরও। তাই নারিনের ‘ওপেনার’ তকমা কেড়ে স্থিতাবস্থা ফেরাতে চাইছে নাইট শিবির। কারণ, বেঙ্গালুরু ছাড়া গত পাঁচ ম্যাচের চারটিতেই হেরেছে কলকাতা নাইট রাইডার্স। নারিনের ওপেনিংয়ে নামা যে নাইটদের ঘেঁটে দিয়েছে, তা চোখ এড়ায়নি টম মুডি-ভিভিএস লক্ষ্মণদের। হায়দরাবাদ কোচ মুডি বলে দিচ্ছেন, “পাওয়ার প্লে-তে কলকাতাকে আটকে রাখার নির্দিষ্ট পরিকল্পনা করেই এগোচ্ছি আমরা। আগের ম্যাচের হারগুলো কেকেআরের মতো দলের খেলায় কোনো প্রভাব ফেলবে না সেটা ভালোমতোই জানি।” বিশেষ করে হায়দরাবাদের বোলিং বিভাগের দক্ষতার জেরে নতুন করে চিন্তাভাবনা করতে বাধ্য হচ্ছে কেকেআর থিঙ্ক ট্যাঙ্কও। হ্যামস্ট্রিংয়ের চোটের জেরে আশিস নেহেরা বাকি আইপিএলে না থাকলেও হায়দরাবাদে রয়েছেন বেগুনি টুপির মালিক ভুবনেশ্বর কুমার, নজরকাড়া সিদ্ধার্থ কৌল। স্পিনের জালে প্রতিপক্ষকে নাস্তানাবুদ করা রশিদ খান।

গোটা মরশুমে সার্ভিস দেওয়া ক্রিস ওকস চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির আগে ইংল্যান্ড শিবিরে যোগ দিতে দেশে ফিরে গিয়েছেন। তাঁকে প্লে-অফে পাওয়ার সম্ভাবনা নেই। তাই নাইটের বোলিং বিভাগে ফিরতে পারেন কোল্টার-নাইল। আবার গত মুম্বই ম্যাচের পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে থেকে যেতে পারেন ট্রেন্ট বোল্ট। সে ক্ষেত্রে কলিন ডি গ্র্যান্ডহোম বাদ পড়বেন। পাশাপাশি নিজেদের মূল শক্তি স্পিন বিভাগকে শক্তিশালী করার চিন্তাও ঘুরপাক খাচ্ছে নাইট শিবিরে। অঙ্কিত রাজপুতকে বসিয়ে কুলদীপ যাদব ও পীযূষ চাওলা দু’জনকেই জুড়ে দেওয়া হতে পারে স্পিনার নারিনের সঙ্গে। কারণ কমলা টুপিধারী ওয়ার্নার ছাড়াও শিখর ধাওয়ান ছন্দে রয়েছেন। মাঝে কিছুটা ফর্ম হারানো যুবরাজ সিংও চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির আগে নিজেকে ঝালিয়ে নিতে মুখিয়ে থাকবেন।

হায়দরাবাদের বিরুদ্ধে চ্যালেঞ্জটা মোটেই সহজ হবে না নাইটদের পক্ষে। তবে কেকেআর শিবির যে কোনো ম্যাচে জেতার ক্ষমতা রাখে বলে প্রচ্ছন্ন হঁশিয়ারি ছেড়ে রেখেছেন ক্রিস লিন। তাঁর মেজাজের প্রতিফলন কতটা তার ব্যাটিংয়ে পড়ে, তার উপরেই অনেকাংশে নির্ভর করবে এলিমিনেটরের ভাগ্য। থুড়ি কেকেআরের আইপিএল অভিযানের ভাগ্য।

কলকাতা নাইট রাইডার্স বনাম সানরাইজার্স হায়দরাবাদ

চিন্নাস্বামী স্টেডিয়াম, বেঙ্গালুরু।

ম্যাচশুরু সন্ধে ৮ টা।

 

 

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here