সানি চক্রবর্তী: একদিকে দুরন্ত প্রত্যাবর্তন, অন্যদিকে পদস্খলন। সবমিলিয়ে জমজমাট গ্রুপ এ। বিশ্বকাপের যোগ্যতাঅর্জন পর্বে ইউরোপের গ্রুপ গুলোতে সাপ-লুডোর খেলা চলছেই। তবে সবথেকে জমজমাট লড়াইটা বোধহয় হচ্ছে ফ্রান্স, সুইডেন, নেদারল্যান্ডস, বালগেরিয়া সমৃদ্ধ গ্রুপ এ-তে।

ফ্রান্সের কাছে গত ম্যাচে ০-৪ ব্যবধানে লজ্জার হারের পরে ডাচরা ঘুরে দাঁড়াতে পারে কি না, তা নিয়ে শঙ্কা ছিল। তবে সবরকম সন্দেহ দূর করে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়ালেন রবেন, স্নেইডাররা। আমস্টারডাম এরিনায় ঘরের সমর্থকদের সামনে ৩-১ ব্যবধানে বালগেরিয়াকে হারিয়ে ফের গ্রুপের সমীকরণে ফিরে এল নেদারল্যান্ডস। গত ম্যাচেই বালগেরিয়া সুইডেনকে ৩-২ ফলে হারিয়ে চমকে দিয়েছিল। তাই তাদেরকে হারাতে দক্ষতার যথেষ্ট প্রমাণ রাখতে হল ডাচ ফুটবলারদের। খেলার ৭ ও ৮০ মিনিটে ড্যাভ প্রপ্পারের দুটো ও ৬৭ মিনিটে আর্জেন রবেন গোলে ভর করে জিতল তারা। তবে ৬৯ মিনিটে বালগেরিয়ার একটা গোলশোধের জেরে তাদের গোলপার্থক্য দাড়াল +৫। আর ৮ ম্যাচের শেষে ১৩ পয়েন্ট নিয়ে নেদারল্যান্ডস উঠে এল গ্রুপের তৃতীয় স্থানে। এদিনই বেলারুশকে ৪-০ ব্যবধানে হারিয়ে সমসংখ্যক ম্যাচে ১৬ পয়েন্ট নিয়ে দুই নম্বর স্থানটা ধরে রাখল সুইডেন। তাদের গোলপার্থক্য +১১।

গোলপার্থক্য নিয়ে কাটাছেড়া করার কারণ, গ্রুপের শেষ ম্যাচে মুখোমুখি হবে সুইডেন-নেদারল্যান্ডস। সেই ম্যাচে নেদারল্যান্ডস জিতলেও হয়তো বিশ্বকাপের টিকিট নাও পেতে পারে গোলপার্থক্যের তারতম্যে। যদিও তার আগে ৭ অক্টোবর গ্রুপের নবম ম্যাচে খেলতে নামবে দুই দেশই। যেখানে বেলারুশের বিরুদ্ধে খেলবে ডাচরা। আর চমক দেওয়ার পরে আত্মবিশ্বাস ভরপুর লুক্সেবার্গের মুখোমুখি হবে সুইডেন। এদিনই ফ্রান্সকে আটকে দিয়ে (০-০) অঘটন ঘটিয়ে দিয়েছে লুক্সেমবার্গ। গোটা ম্যাচে ফ্রান্স আগাগোড়া দাপট নিয়ে খেললেও দুরন্ত রক্ষণ ও ততোধিক বিশ্বমানের গোলকিপিংয়ে ভর করে ফ্রান্সের তরুণ ছটফটে আক্রমণকে ভোঁতা করে ছেড়েছে তারা। তাই ফ্রান্সের বিরুদ্ধে এই ড্র লুক্সেবার্গের কাছে জয়েরই সামিল। ফ্রান্সের (১০) থেকে ফিফা ক্রমতালিকায় ১২৬ ধাপ নীচে থাকা লুক্সেমবার্গের (১৩৬) কাছে আটকে যাওয়াটা ফরাসি সমর্থকরা যেন বিশ্বাসই করতে পারছিলেন না। বলতে দ্বিধা নেই, তারা এরকম রক্ষণাত্মক খেলার পাশাপাশি একটু আক্রমণে জোর দিয়ে সুইডেনকে হারিয়ে দিলে অবাক হওয়ার মতো কিছু থাকবে না। তেমনটা হলে, নেদারল্যান্ডসের ভাগ্য অনেকটাই খুলে যাবে।

আপাতত যদিও বাকি সমীকরণের দিকে না তাকিয়ে বেলারুশ ম্যাচে যত বেশি সম্ভব গোলের ব্যবধানে জেতাটাই লক্ষ্য নেদারল্যান্ডসের। ১০ অক্টোবর আমস্টারডাম এরিনার সুইডেন-নেদারল্যান্ডস ম্যাচের আগে পরিস্থিতি কি হবে বলা সম্ভব না হলেও, এটুকু বলাই যায় সেদিনই ঠিক হবে গ্রুপ এ থেকে বিশ্বকাপের ছাড়পত্রের দ্বিতীয় সুযোগ কোন দেশ পাবে। সেদিনই ঠিক হবে টানা দুটো বড়ো প্রতিযোগিতা থেকে ডাচরা বঞ্চিতই থাকবে নাকি বিশ্বব্যাপী নেদারল্যান্ডস সমর্থকরা নতুন স্বপ্ন দেখার ইন্ধন পাবেন। ফ্রান্স এদিন ড্র করলেও ৭ ম্যাচে ১৭ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপশীর্ষেই রয়েছে। অঘটনের রেশ কাটিয়ে শেষ দুটো ম্যাচে জিতে সেই স্থান ধরে রেখে সরাসরি বিশ্বকাপের ছাড়পত্রই পাওয়া উচিত দিদিয়ের দেঁশ-র প্রশিক্ষণাধীন দলের। উল্লেখ্য, নিয়মানুযায়ী ইউরোপের নটি গ্রুপের শীর্ষস্থানে থাকা দেশগুলি সরাসরি বিশ্বকাপের ছাড়পত্র পাবে। আর নটি গ্রুপের আটটি সেরা দ্বিতীয় স্থানে থাকা দেশ পরবর্তী যোগ্যতাঅর্জন পর্বে খেলতে নামবে বাকি চারটি স্থানের জন্য।

এদিকে গ্রিসকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়ে ইউরোপ থেকে প্রথম দেশ হিসেবে বিশ্বকাপের ছাড়পত্র জোগাড় করে ফেলল বেলজিয়াম। ৮ ম্যাচে ২২ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ এইচ চ্যাম্পিয়ন হয়ে রাশিয়ার টিকিট পাকা করল তারা। যদিও গ্রুপ বি-তে ৮টা ম্যাচের সবকটা জিতে ২৪ পয়েন্ট নিয়েও সুইজারল্যান্ডের এখনও বিশ্বকাপ যাত্রা পাকা হল না। এদিনও তারা সহজেই লাটভিয়াকে ৩-০ ব্যবধানে হারাল। কিন্তু অন্য ম্যাচে পোর্তুগাল হাঙ্গেরিকে হারানোয় এখনও ঝুলে রইল তাদের বিশ্বকাপের পাকা স্থান। ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো এদিন গোল না পেলেও তার পাশ ধরেই পোর্তুগালের একমাত্র জয়সূচক গোলটি করেন আন্দ্রে সিলভা। প্রথম ম্যাচে সুইজারল্যান্ডের কাছে হারের পরে টানা ৭ ম্যাচে জিতে ২১ পয়েন্টে দাঁড়িয়ে পোর্তুগাল। তাই গ্রুপ বি-র চ্যাম্পিয়ন হয়ে কোন দেশ সরাসরি বিশ্বকাপের ছাড়পত্র পাবে, তা নির্ভর করবে পোর্তুগাল-সুইজারল্যান্ডের দ্বিতীয় লেগের ম্যাচের (১০ অক্টোবর) উপরে।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here