বেঙ্গালুরু ১৫৮-৬ [হেড ৭৫ নট আউট, মনদীপ ৫২, উমেশ ৩-৩৬]

কলকাতা ১৫৯-৪ [নারিন ৫৪, লিন ৫০, নেগি ২-১৯]

বেঙ্গালুরু: এলেন, দেখলেন, পেটালেন। এক কথায় বলতে গেলে এই ছিল রবিবাসরীয় বেঙ্গালুরুর সুনীল নারিনের ইনিংস। বল দেখছেন, ব্যাট চালাচ্ছেন, নিমেষের মধ্যে বল গিয়ে পড়ছে গ্যালারিতে। মাত্র ১৫ বলে ৫০, অর্থাৎ এই আইপিএলের দ্রুততম অর্ধশতরান এল নারিনের ব্যাটে। দোসর হলেন ক্রিস লিন। তিনি পঞ্চাশ করলেন ২১ বলে। দু’জনের দাপটে ১৫৯ তাড়া করতে মাত্র ১৫.১ ওভার নিল ভারত। সেই সঙ্গে পরপর দু’টো ম্যাচ হেরে কিছুটা চাপে পড়ে যাওয়া কেকেআরের আইপিএল যাত্রা আবার ট্র্যাকে ফিরল।

নারিনকে দিয়ে ওপেন করানোর সুবিধা হল, ব্যাট করার সময়ে তাঁর ওপর কোনো চাপ থাকে না। সেই জন্য নিজের মনের মতো খেলতে পারেন তিনি। অন্য দিকে চোটের জন্য বাদ পড়ার পরেও এতটুকু প্রভাব পড়েনি লিনের ব্যাটিং। ছ’নম্বর ওভারেই কলকাতাকে একশোর ওপারে পৌঁছে দেন দু’জন।

পরের ওভারেই আউট হন নারিন। ১৭ বলে ৫৪ তার। কিন্তু ততক্ষণে যা হওয়ার হয়ে গিয়েছে। কলকাতার জয়টা ছিল শুধুমাত্র সময়ের অপেক্ষা। ৫০-এই থেমে যান লিন। জয়ের মুহূর্তেই আউট হন গ্র্যান্ডহোম এবং গম্ভীর। সব মিলিয়ে ছয় উইকেটে জিতল কেকেআর এবং উঠে গেল লিগ টেবিলে দু’নম্বরে।

টসে জিতে রবিবারও ফিল্ডিং-এর সিদ্ধান্ত নেন নাইট অধিনায়ক গম্ভীর। গম্ভীরের এই সিদ্ধান্তটা সম্ভবত লুফে নিয়েছিলেন কোহলি। কারণ অন্য আইপিএলে ব্যাটিংই তাদের মূল শক্তি হলেও এ বার যেটুকু যা করছেন সব বোলাররাই। তাই আগে ব্যাট করে বোলারদের দিয়ে কেকেআরকে ভাঙাই শ্রেয়, এই ভেবেছিলেন বিরাট।

তবে অন্য দিনের মতো এ দিনও শুরুতেই ভেঙে পড়ে আরসিবি ব্যাটিং। আরসিবির তিন স্তম্ভ গেল, কোহলি এবং ডেভিলিয়ার্স এ দিনও হতাশ করেন। পাঁচ ওভারের মধ্যেই ৩৪ রানে তিন উইকেট হারায় তারা। নাইটের হয়ে তখন রীতিমতো আগুন ঝরাচ্ছেন উমেশ যাদব। অন্য দিকে একটি উইকেট তুলে নিয়েছেন সুনীল নারিনও।

কিন্তু চতুর্থ উইকেটের একটা পার্টনারশিপে ঘুরে দাঁড়ানো শুরু করল বেঙ্গালুরু। সৌজন্যে মনদীপ সিংহ এবং ট্র্যাভিস হেড। ৫২ রান করে মনদীপ যখন আউট হন, তখন বিপদ অনেকটাই কাটিয়ে ফেলেছে আরসিবি। অন্য দিকে হেড তখন ক্রমশ রুদ্রমূর্তি ধারণ করছেন। ততক্ষণে নিজের গিয়ার পাল্টে ফেলেছেন। অর্ধশতরান পূর্ণ হওয়ার পর আরও বিধ্বংসী তিনি। শেষ ওভারে ২১ রান তুললেন হেড। বেঙ্গালুরু শেষ করল ১৫৮-এ। ৪৭ বলে ৭৫-এ অপরাজিত থাকেন এই অস্ট্রেলীয় ব্যাটসম্যান।

কলকাতা  জিতলেও ফের অতল গহ্বরে পড়ল বেঙ্গালুরু। বিরাট কোহলির মুখটা দেখে মন খারাপ হতেই হয়। শেষমেশ তিনিই তো জাতীয় দলের অধিনায়ক। দেশের অধিনায়ক হিসেবে এখনও ব্যর্থতা দেখেননি তিনি, অথচ এই ফ্রাঞ্চাইসি বিশ্বেই তাঁর কি না এই হাল! ভারতীয় ক্রিকেটভক্তদের এখন প্রার্থনা, দ্রুত ফর্মে ফিরুন বিরাট। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে ভারতকে জেতাতে হবে যে।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here