সানি চক্রবর্তী:

শুরুটা ছিল অনভিপ্রেত ভালো। কিন্তু শেষমেশ কাজের কাজটা হল না। প্রথম একাদশের একাধিক তারকার অনুপস্থিতিতে বাকিদের কাছে সুযোগ ছিল নিজেদের প্রমাণ করার। কিন্তু বলবন্ত-শৌভিক চক্রবর্তীদের সঙ্গ দিতে পারলেন না বাকিরা। এএফসি কাপের ম্যাচে মাজিয়া স্পোর্টস অ্যান্ড রিক্রিয়েশন ক্লাবের কাছে ০-১ ব্যবধানে হেরে গেল মোহনবাগান। চলতি মরশুমে ঘরের মাঠে এটাই প্রথম হার মোহনবাগানের।

হাজার দুয়েক সমর্থকের সামনে নিয়মরক্ষার ম্যাচে শুরুটা যদিও দাপটে করেছিলেন সবুজ-মেরুন জার্সিধারীরা। খেলার গতির কিছুটা বিপরীতেই ৩৪ মিনিটে মহম্মদের উমেইরের গোলে পিছিয়ে পড়ে মোহনবাগান। প্রথমার্ধের ঝাঁঝ দ্বিতীয়ার্ধে ধরে রাখতে পারেনি বাগান শিবির। একাধিক সুযোগ তৈরি করেও ব্যর্থ হন তাঁরা। দল হারলেও খেলায় অখুশি নন সঞ্জয়। জানিয়েছেন, “আবাহনী ম্যাচের থেকেও প্রথমার্ধে ভালো ফুটবল উপহার দিয়েছে ছেলেরা।” এই হারে ৩ ম্যাচে ৩ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপের তৃতীয় স্থানে নেমে গিয়ে এএফসির পরবর্তী রাউন্ডে যাওয়া নিয়ে শঙ্কা তৈরি হলেও আপাতত মাথা ঘামাতে চাইছেন না কেউই। আইজল ম্যাচে জিততেই হবে, এই মন্ত্রে ভর করে নিয়মরক্ষার ম্যাচে হারটা উড়িয়ে দিচ্ছেন প্রায় সবাই।

এমনিতেই আই লিগের খেতাব নির্ধারক ম্যাচের কথা মাথায় রেখে প্রত্যাশামতোই একাধিক ফুটবলারকে নামাননি সঞ্জয় সেন। সনি-ডাফি-এডু-দেবজিতদের বিশ্রাম দেওয়া হয়েছিল এ দিন। তাঁরা যদিও বুধবার সকালে উপস্থিত হয়েছিলেন মোহনবাগান তাঁবুতে। সিএবি জিমে গিয়ে ঘণ্টাখানেক কসরতও করেন তাঁরা। বেরিয়ে যাওয়ার আগে সমর্থকদের আশ্বস্ত করে সনি বলে যান, “আইজল ম্যাচ জেতার জন্য কোনো চেষ্টার ত্রুটি রাখব না আমরা।” তিন বছরে দ্বিতীয় বার মিশন আই লিগের লক্ষ্যে বৃহস্পতিবার সকালেই আইজলের উদ্দেশে রওনা হচ্ছে মোহনবাগান শিবির।

এ দিকে আইজলের ছেলে জেজের কাছে ম্যাচটি যথেষ্ট আবেগঘন। আইজল এফসি-র যে কোনো সাফল্যে বরাবর তাদের উৎসাহ দেন এআইএফএফ-র গত বারের বর্ষসেরা ফুটবলার। এই ম্যাচে যদিও ঘরের ছেলের গোলেই মিজো দলটির হাসি কেড়ে নেওয়ার আবদার বাগান জনতার, কিন্তু পাহাড়ি এই স্ট্রাইকারের চলতি ফর্ম নিয়ে যথেষ্ট চিন্তায় তারা। বিশেষ করে মাজিয়া ম্যাচে তাঁকে ছন্দ ফেরানোর সুযোগ দিতে প্রথম থেকে নামিয়ে দিয়েছিলেন সঞ্জয় সেন। পুরো নব্বই মিনিটে বলবন্তের বেশ কয়েকটি প্রয়াসে সমতা ফেরানোর মতো জায়গা তৈরি হলেও জেজে কিন্তু ছিলেন নিষ্প্রভ। আইজলের আবহাওয়ার সঙ্গে জেজের ফর্মও পালটে যাক, এই আশাতেই থাকবেন সমর্থকরা।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here