সানি চক্রবর্তী:

বেঙ্গালুরু থেকে আইজলের দূরত্ব ঠিক কতটা? গুগল ম্যাপ বলছে ৩৩০০ কিলোমিটারের কিছুটা বেশি। আর মোহনবাগান সমর্থকদের কাছে এই দূরত্বটা ফের একবার আই লিগে ভারতসেরার তকমার। ভারতীয় ফুটবলের মানচিত্রেও এই দূরত্বটা অর্থবহ। কলকাতার দুই প্রধানের সঙ্গে টক্কর দেওয়ার ক্ষেত্রে বেঙ্গালুরুর পাশাপাশি অন্য এক শক্তি হিসেবে উঠে এসেছে আইজল এফসি। মিজোরামের দলটির বিরুদ্ধেই শনিবার আই লিগের ‘ফাইনাল’ খেলতে নামছে সবুজ-মেরুন শিবির।
আত্মবিশ্বাসে বলিয়ান বাগান শিবিরে কিছুটা আশঙ্কার মেঘ যদিও ড্যারেল ডাফির চোট ঘিরে। অ্যাস্ট্রোটার্ফে অনুশীলনের সময়ে শুক্রবার কুঁচকিতে চোট পেয়েছেন লিগে বাগানের সর্বোচ্চ স্কোরার। যার ফলে গোটা অনুশীলনটাই তাঁকে বাইরে বসতে হয়েছে। শনিবার সকালে তাঁর ফিটনেস দেখেই ঠিক করা হবে ডাফি প্রথম একাদশে থাকবেন কি না। রাতের দিকের খবর, খুব একটা গুরুতর নয় ডাফির চোট। ব্যথা অনুভব করাতেই ঝুঁকি নিতে চাননি সঞ্জয় সেন।

ডাফিকে সামলে রাখার মতোই ম্যাচের আগের দিন কিছুটা রক্ষণাত্মক বাগান-সারথি। গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ নিয়ে বললেন, “চাপটা তো ওদের উপরেই বেশি। লিগের দৌড়ে থাকতে জিততেই হবে ওদের। আমাদের ক্ষেত্রে সমীকরণটা সে রকম নয়।” পাশাপাশি আইজলের পরিবেশ ও ফুটবল আবেগ নিয়েও প্রশংসা করলেন চেতলানিবাসী। গত বারের আই লিগে নির্বাসনের জেরে টাচলাইনে ছিলেন না। আর আইজল ম্যাচের পরই শুরু হয়েছিল বাগানের আই লিগ থেকে হড়কানো। এ বারে পরিস্থিতি একেবারে ভিন্ন। মোহনবাগান জিততে পারলেই আই লিগ চ্যাম্পিয়ন। ম্যাচ ড্র হলে ৩০ এপ্রিল বাগান বনাম চেন্নাই ও আইজল বনাম শিলং ম্যাচের উপরে নির্ভর করবে লিগের ভাগ্য। মুখে রক্ষণাত্মক খোলস হলেও আদতে যে আইজলেই লিগের ফয়সালা করতে এসেছেন, সেটা হাবেভাবে কিন্তু পরিষ্কার করে দিয়েছেন সঞ্জয়। অ্যাওয়ে ম্যাচে বাজে ট্র্যাকরেকর্ড ও ঘরের মাঠে অপরাজিত আইজল সম্পর্কে আগেই বলেছিলেন, “ও সব মিথ-টিথ কিছু না। শিলিগুড়িতে মিথ ভেঙে দিয়েছি, এখানেও তাই করব।”

কোচের মেজাজেরই যেন প্রতিধ্বনি পাওয়া গেল সনি নর্ডির গলায়। বাগান-জনতার প্রাণভোমরা সাফ বলে দিলেন, “ড্র নয়, এই ম্যাচ জিততে চাই। সংঘবদ্ধ হয়ে সবাইকে তিন পয়েন্টের জন্য ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে।” এ দিকে রাজীব গান্ধী আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে প্রথম বার আইজল এফসির বিরুদ্ধে খেলতে নামবেন ঘরের ছেলে জেজে। এই ম্যাচটা যে তাঁর কাছে বিশেষ আবেগের, তা গোপন করছেন না আইজলের বিরুদ্ধে বাগান-জার্সিতে সর্বাধিক (৩ গোল- ১ আই লিগ, ২ ফেডারেশন কাপ) গোল করা স্ট্রাইকার।

অন্য দিকে, ঘরের মাঠে সবটা দিয়ে লড়াই করে “যতটা সম্ভব ভালো অবস্থানে থেকে লিগ শেষ করতে চাই”, জানিয়েছেন আইজলের কোচ খালিদ জামিল। তাঁর দল মন-প্রাণ ঢেলে লড়াই করবে জানিয়ে বাগান-শিবিরকে সতর্কও করে রেখেছেন তিনি। আইজলের বিরুদ্ধে এই ম্যাচ কঠিন হলেও ফেভারিট হিসেবেই নামবে বাগান-শিবির। আর গত বারের ফেডারেশন কাপ ফাইনালে আইজলকে বড়ো ব্যবধানে হারিয়ে জেতাটাই বাড়তি মোটিভেশন জোগাচ্ছে এ ক্ষেত্রে। যদিও গত বছরের থেকে এ বারের আইজলের অনেক পার্থক্য। আই লিগের ‘লেস্টার সিটি’ হয়ে ওঠার সুবর্ণ সুযোগের সামনে দাঁড়িয়ে তারা।

ঠান্ডা আবহাওয়া, কৃত্রিম ঘাসের মাঠ, হাজার দশেক আবেগপ্রবণ সমর্থক ও শক্তিশালী আইজলের বিরুদ্ধে জিতে ফেরাটা মোটেই সহজ হবে না মোহনবাগানের পক্ষে। তবে সমর্থকরা যেন বল পাচ্ছেন গত রাত থেকে টানা বৃষ্টির সৌজন্যে!

৩১ মে ২০১৫-য় বেঙ্গালুরুও আগের রাত থেকে টানা বৃষ্টিতে ভিজেছিল যে। আর সে দিন সবুজ-মেরুন রঙে ভিজেছিল গোটা বাংলা। আইজলও ভিজছে বৃষ্টিতে, ‘ডেজা ভু’র অপেক্ষায় বাংলার ফুটবলপ্রেমীরা।

মোহনবাগান বনাম আইজল এফসি

রাজীব গান্ধী স্টেডিয়াম, আইজল

ম্যাচ শুরু দুপুর ২ টো থেকে।

টেন ২ চ্যানেলে সরাসরি সম্প্রচার।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here