সানি চক্রবর্তী:

“ভারতীয় ফুটবলের উন্নতি চাইলে ক্লাবগুলোর প্রতি এ রকম আচরণ বাঞ্ছনীয় নয়। খেলোয়াড়রাও তো মানুষ, তাদের কথা ভাবা উচিত সংগঠনগুলোর। এ ভাবে অনুশীলন ও তার পরে সাংবাদিক সম্মেলনের আয়োজন। সত্যি বুঝতে পারছি না, ফুটবলে আমরা উন্নতি করছি না অবনতি” — আইলিগের সংগঠকদের বিরুদ্ধে ঠিক এই ভাষাতেই কার্যত বিষোদ্‌গার সঞ্জয় সেনের।

বলা ভালো অপেশাদারিত্ব, কোনো রকম সমঝোতার রাস্তায় না হাঁটা ইত্যাদি দেখে মেজাজ হারালেন সঞ্জয় সেন। এমনিতেই দীর্ঘ ১৪ ঘণ্টার বিমান যাত্রা করে শিলং থেকে বৃহস্পতিবার সন্ধেবেলা লুধিয়ানা পৌঁছেছিল মোহনবাগান দল। তাই শনিবারের ম্যাচের আগের দিন বিকেলে অনুশীলন করতে চেয়ে মিনার্ভার কাছে আবেদন করেছিল সবুজ-মেরুন টিম ম্যানেজমেন্ট। বদলে তাদের জন্য বরাদ্দ হয় দুপুর ১২ টা থেকে ১ টা। প্রথমে প্রচণ্ড খাপ্পা বাগান-শিবির যার জেরে অনুশীলন করতে চায়নি। কিন্তু শুক্রবার বরাদ্দ সময়েই দলকে নিয়ে অনুশীলনে নামেন সঞ্জয় সেন। উল্লেখ্য, যে সময়ে তাপমাত্রা ছিল প্রায় ৪১ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড।

অনুশীলনের পরেই হোটেলে ফিরে স্নান সেরেই ফের বাগান-কোচ ও অতিরিক্ত গোলরক্ষক শিবিন রাজকে মাঠে ছুটে আসতে হয় নির্ধারিত সময়ে সাংবাদিক সম্মেলনে যোগ দিতে। মাঝে অনুশীলনের পরে খাবারটুকু খাওয়ার সময় পাননি তাঁরা। আবার এ দিকে, সাংবাদিক সম্মেলনে যোগ না দিলে নেমে আসবে আর্থিক জরিমানার খাঁড়া। তাই সব কিছু ঘিরে বেজায় চটে সঞ্জয়।

একটা ম্যাচ খেলার পরে অন্তত ৪৮ ঘণ্টা সময় লাগে সেই প্রভাব পুরোপুরি কাটাতে। সে ক্ষেত্রে বলা ভালো মাত্র ২৪ ঘণ্টার কিছুটা বেশি সময় পাচ্ছে মোহনবাগান। তার মাঝে আবার রয়েছে দীর্ঘ যাত্রাপথ। তাই এ হেন ব্যস্ত শিডিউলে অনুশীলন ঘিরে অন্তত কিছুটা সাহায্য চেয়েছিলেন লিগের দৌড়ে শীর্ষ স্থানে থাকা দলের কোচ। সেটা তো পাননি, বরং উলটে পঞ্জাব সরকারের মালিকানাধীন গুরু নানক স্টেডিয়ামে তেমনটা করা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছে মিনার্ভা কর্তৃপক্ষ। যদিও ভারতীয় দলে সঞ্জয় সেনের সঙ্গে একসঙ্গে কাজ করা সুরিন্দর সিং সত্যি কথাটা বলেই ফেললেন। মিনার্ভার কোচ বলছিলেন, “এই ভরদুপুরে অনুশীলন করলে ক্লান্তি গ্রাস করাটা তো খুব স্বাভাবিক।”

তাই লিগ শীর্ষে থাকা মোহনবাগানের বিরুদ্ধে নামার আগে মাঠের বাইরের লড়াইটা জোরদার ভাবেই চালাচ্ছে মিনার্ভা। প্রথম লেগে ০-৪ ব্যবধানে চূর্ণ হওয়ার লজ্জা থেকে তারা এ বারে পার পেতে চাইছে। সুরিন্দর বলছিলেন, “এখন আমাদের দল অনেক সংগঠিত। সহজে পয়েন্ট নিয়ে যেতে পারবে না মোহনবাগান। আর পয়েন্ট তুলে নিয়ে ফেড কাপে স্থান নিশ্চিত করতে লড়াই আমরা চালাবই।’ আর হাজারো বাধার মাঝেই ম্যাচ নিয়ে সঞ্জয়ের মন্তব্য, “কঠিন লড়াই হবে কোনো সন্দেহ নেই। লিগের আর তিনটে ম্যাচ বাকি। তাই খুব গুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচ। লিগের দৌড়ে থাকতে জিততেই হবে, বিশেষ করে আগের ম্যাচে পয়েন্ট নষ্ট যখন হয়েছে।”

মাঠের লড়াইয়ে নামার আগে যদিও বাগান টিম ম্যানেজমেন্টের নজর থাকবে টিভির পর্দায়। বিকেলে ভাসকোতে মুখোমুখি হবে আইজল এফসি ও চার্চিল ব্রাদার্স। ডেরেক পেরেরার দল যদি কোনো ভাবে আইজলের পয়েন্ট চুরি করে নিতে পারে, তা হলে বেশ খানিকটা চাপ কমে যাবে সবুজ-মেরুন শিবিরের উপর থেকে। এমনিতে ১৫ ম্যাচে দুই দলই ৩০ পয়েন্টে দাঁড়িয়ে। গোলপার্থক্যে শীর্ষে রয়েছে বাগান শিবির।

ইস্টবেঙ্গল তাঁবুতে ধুন্ধুমার।

এ দিকে, বাংলা নববর্ষের ঠিক আগের দিন ধুন্ধুমার কাণ্ড ঘটে গেল ইস্টবেঙ্গল তাঁবুতে। টানা তিন ম্যাচ হারা দলের কোচ ও ফুটবলারদের ঘিরে ধরে বিক্ষোভ দেখালেন একদল সমর্থক। কোচ মরগ্যান থেকে শীর্ষকর্তা দেবব্রত সরকার, ঠেলাঠেলির শিকার হলেন। ‘গো ব্যাক মরগ্যান’ স্লোগান উঠল, পুড়ল ব্রিটিশ কোচের কুশপুতুল। ফুটবলারদের ঘিরেও বিক্ষোভের মাঝে মেজাজ হারিয়ে সমর্থকদের দিকে অশালীন ইঙ্গিত করতে পিছপা হলেন না রেহানেশ। সব মিলিয়ে বাংলার ফুটবলের জন্য এক বাজে বিজ্ঞাপন হয়ে রইল এ দিনের ঘটনাপ্রবাহ। পাটিগণিতের হিসেবে এখনও লাল-হলুদ শিবিরের লিগ জয়ের সূক্ষ্ম সম্ভাবনা কিন্তু রয়েছে। তবুও টানা তিন ম্যাচে হার, তথা ডার্বিতে কার্যত পর্যুদস্ত হওয়ার পর থেকেই দীর্ঘদিনের জমা ক্ষোভের বারদস্তূপে আগুন লেগেছে। রবিবারের শিবাজিয়ান্স ম্যাচে ইস্টবেঙ্গল ফুটবলাররা কতটা জল সেই আগুনে ঢালতে সক্ষম হন, এখন সেটাই দেখার।

শনিবার আই লিগে

 মোহনবাগান বনাম মিনার্ভা পঞ্জাব

সন্ধে ৭টা ৫ মিনিটে

টেন ২ চ্যানেলে সরাসরি।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here