ইস্টবেঙ্গলের পর মহামেডান, মোহনবাগানের ডার্বি-গোলের ঠিকানা এখন বঙ্গসন্তান আজহারউদ্দিন

0

মোহনবাগান-২(আজহারউদ্দিন ২)    মহামেডান স্পোর্টিং-১(শেখ ফৈয়াজ)

কল্যাণী: গত এপ্রিলে আই লিগের শেষ ডার্বিতে ইস্টবেঙ্গলের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক মানের গোল করে নজরে এসেছিলেন হুগলির মশাটের তরুণ। এ মরশুমের কলকাতা লিগে তিনি প্রথম থেকেই দলে নিয়মিত। মোহনবাগানের সব আক্রমণই প্রায় শুরু হচ্ছে তাঁর পা থেকেই। তবু যেন প্রতিভা অনুযায়ী ঠিক মতো খেলতে পারছিলেন না। ৬টি ম্যাচে মাত্র ১টি গোল ছিল তাঁর। মিস অনেক। কখনও উইঙ্গার, কখনও স্ট্রাইকারের ভূমিকায় নজর কাড়লেও প্রত্যাশা পূরণ হচ্ছিল না সমর্থকদের। লিগে বাঁচা-মরার ম্যাচে সবার মন ভরিয়ে দিলেন আজহারউদ্দিন মল্লিক।

গোল শোধ করলেন। দ্বিতীয়ার্ধের ইনজুরি টাইমে করলেন জয়সূচক গোল। কা-ক্রো জুটি, এক ঝাঁক ভিন রাজ্যের ফুটবলারের মাঝে ডার্বির শেষে বাঙালির অহংকার হয়ে জেগে উঠলেন এক বঙ্গসন্তানই। দুটো গোলেরর ধরনই এক। ডান দিকের সেন্টারে একবার পা, একমাথা ছুঁইয়ে গোল। প্রথম সেন্টারটি কামোর, দ্বিতীয়টি নিখিল কদমের পরিবর্ত হিসেবে মাঠে নামা লিংডোর। উইঙ্গারের ভূমিকায় মাঠে নেমে দু-দুবার প্রকৃত স্ট্রাইকারের কাজটি করে গেলেন আজহার।

মরশুমের প্রথম ডার্বি কিন্তু ছিল জমজমাট। না জিততে পারলে লিগ থেকে প্রায় বিদায় নিশ্চিত ছিল দুই দলেরই। বেশি চাপ ছিল মহামেডানের। তাই মূলত আক্রমণাত্মক খেলল দুদলই। ধারে ও ভারে মোহনবাগান এগিয়ে থাকায়, তাঁদের আক্রমণের ঝাঁঝও ছিল বেশি। যদিও কা-ক্রো জুটিকে সেভাবে দানা বাঁধতে দেননি মহামেডান কোচ বিশ্বজিত ভট্টাচার্য। তবু ম্যাচের ৮৬ মিনিটে দুটি দুরন্ত শট মেরেছিলেন ক্রোমা, তার আগে ম্যাচের ২৭ মিনিটে অসাধারণ একটি শট নেন কামো। প্রতিটি ক্ষেত্রেই দুর্দান্ত সেভ করেন গোলরক্ষক শঙ্কর রায়। ম্যাচের সেরা তিনিই। যে গোল দুটি খেলেন, সেগুলিতে তাঁর কিছু করার ছিল না।

এদিন কিছুটা খেলার গতির বিরুদ্ধেই ২১ মিনিটে গোল করে এগিয়ে যায় সাদাকালো জার্সিধারীরা। ডান দিক থেকে দীপেন্দু দুয়ারির মাইনাসে ডিকা যে ফলসটি দেন, তাতেই তাঁর জাত চেনা যায়। সেই পাসে চমৎকার দক্ষতায় পা ছোঁয়ান শেখ ফৈয়াজ। বাগান রক্ষণ ডিকার ফলসের এক লাইনে দাঁড়িয়ে গেছিল। উল্টো দিকে ডাইভ দিয়ে ফেলেছিলেন গোলরক্ষক শিলটন পালও। এছাড়াও গোলের সুযোগ পেয়েছিল মহামেডান। লাভ হয়নি।

৭ ম্যাচ পর(২০১৩ সালের মার্চের পর) মহামেডানকে হারাল মোহনবাগান। এও এক ইতিহাস এদিনের। চতুর্থী অবধি লিগের লড়াই টানটান হয়েই রইল।

উত্তর দিন

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন