মোহনবাগান ২(ক্রোমা, নিখিল কদম)   টালিগঞ্জ অগ্রগামী ০

কলকাতা: আজ তাঁর জন্মদিন ছিল। প্রিয় শহরে হাজির ছিলেন তিনি। মোহনবাগান ফ্যানস পার্কের উদ্বোধনও করলেন। যেখানে লাগানো জায়ান্ট স্ক্রিনে প্রিয় দলের খেলা দেখলেন বহু সবুজমেরুন সমর্থক। কিন্তু কী দেখলেন বাগান সমর্থকদের প্রিয় সবুজ তোতা ব্যারেটো।

দেখলেন সুভাষ ভৌমিকের দল রীতিমতো দাপটের সঙ্গে খেলে প্রায় আটকে দিয়েছিল তাঁর দলকে। শুধু আটকে দেওয়া নয়, প্রথমার্ধের শেষ দিক থেকে দ্বিতীয়ার্ধের বেশির ভাগ সময় ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ছিল টালিগঞ্জ অগ্রগামীরই। মোহনবাগান শেষ পর্যন্ত যে জিতে গেল ২ গোলে, সেটা কেবল বড়ো দলের ভারে। নইলে আজ যা খুশিই হতে পারত ম্যাচের ফল।

বাগানের গোলকিপার শিবেন রাজ দু’বার বিপজ্জনক ভাবে বেরিয়ে এসে প্রায় দলকে গোল খাইয়ে দিচ্ছিলেন। মোহন ডিফেন্সকে কাঁপিয়ে বারবার ঢুকে পড়ছিলেন অ্যান্থনি উলফ। ম্যাচের সেরা হলেন বাগান অধিনায়ক কিংশুক দেবনাথ। সেন্ট্রাল ডিফেন্ডার যখন কোনো ম্যাচের সেরা হন, তখন বোঝাই যায় খেলার গতি কেমন ছিল।

আসলে লিগ যত এগোচ্ছে, ততই বোঝা যাচ্ছে এই মোহনবাগান দলটার মাঝমাঠে নেতৃত্ব দেওয়ার লোকের অভাব। ক্রোমা চেষ্টা করছেন খুবই, কিন্তু তাঁকে তো আবার গোলও করতে হয়। এদিন যেমন করলেন। কামোর সঙ্গে চমৎকার বোঝধাপড়ায় টালিগঞ্জের রক্ষণ ভাঙলেন ম্যাচের ১৬ মিনিটে। কিন্তু তারপর আরও আগ্রাসী হওয়ার বদলে যেন ছন্নছাড়া হয়ে গেল সবুজমেরুন। আই লিগে আরও বিদেশিরা এসে হয়তো মিডফিল্ডের নিয়ন্ত্রণ নেবেন। কিন্তু তার আগে লালহলুদকে টানা আটবার লিগ জয় থেকে আটকানোর চ্যালেঞ্জ তো রয়েছে। এই দল সেটা পারবে তো। বা বলা ভালো স্রেফ কা-ক্রো জুটির ভরসায় সেটা হবে তো?

দ্বিতীয়ার্ধের ৩৭ মিনিটে ক্রসে মাথা ছুঁইয়ে গোলের ব্যবধান বাড়ালেন পরিবর্ত নিখিল কদম। কিন্তু ততক্ষণে সুভাষ ভৌমিক আরও একবার প্রমাণ করে দিয়েছেন তিনি কত বড়ো কোচ। বড়ো দলের বিরুদ্ধে ডিফেন্সে লোক বাড়িয়ে গোল আটকানোর খেলা সব ছোটো দলই খেলে। কিন্তু ম্যাচের একটা বড়ো সময় জুড়ে বড়ো দলকে চাপে রাখা সহজ ব্যাপার নয়।

যাই হোক, পাঁচ ম্যাচে পাঁচ জয় হয়ে গেল শঙ্করলাল চক্রবর্তীর দলের। তবে গোল পার্থক্যে লিগে এক নম্বরে থাকল ইস্টবেঙ্গলই। বাগানের পরের ম্যাচের ৬ সেপ্টেম্বর। রেনবোর বিরুদ্ধে।

উত্তর দিন

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন