মোহনবাগান-১(ক্রোমা)   রেনবো- ১(সুরজ মাহাত)

কলকাতা: ছয়ে ছয় হল না। রবিবারের মিনি ডার্বির আগে চাপে পড়ে গেল শঙ্করলাল চক্রবর্তীর দল। এবং সবটাই হল রেনবো-কে হালকা ভাবে নিয়ে। কার্ড সমস্যায় দলে ছিলেন না কিংসলে। কিন্তু এদিন প্রথম একাদশের আরও তিন খেলোয়াড়কে বাদ দিয়েই মাঠে নেমেছিল বাগান। ফল ভালো হল না।

মাহনবাগানের মাঝমাঠে নেতৃত্বের অভাব প্রথম ম্যাচ থেকেই স্পষ্ট। এদিন তা যেন আরও প্রকট হল। যাবতীয় অভাব এতদিন পূরণ করছিলেন কা-ক্রো জুটি। কিন্তু সবদিন সমান যায় না। ক্রোমা চেষ্টা করলেও এদিন কিছুটা নিষ্প্রভ ছিলেন কামো। তার ওপর নিজেদের ছাপিয়ে খেললেন রেনবোর ডিফেন্ডাররা। বার পোস্টের নীচে চিনের প্রাচীর হয়ে দাঁড়ালেন গোলরক্ষক অঙ্কুর দাস। তিনিই এদিনের ম্যান অফ দ্য ম্যাচ।

তা সত্ত্বেও ম্যাচটা শেষ পর্যন্ত ৩-১ বা ৪-১ গোলে জিততে পারত বাগান। কিন্তু নরহরি শ্রেষ্ঠার অনভিজ্ঞতায় তা হতে পারল না। সহজ গোলের সুযোগ নিজে নষ্ট করলেন। কখনও প্রায় ফাঁকা গোলের সামনে থাকা ক্রোমাকে বল না দিয়ে নিজে শট মেরে দলকে ডোবালেন। বড়ো দলের জার্সি গায়ে দেওয়ার চাপ কম নয়।

তবে মোহনবাগানকে এদিন ডোবাল তাঁদের ডিফেন্স। কার্যত নতুন ডিফেনস লাইনে বোঝাপড়ার অভাব ছিল স্পষ্ট। অধিনাক কিংশুক এদিন ফর্মে ছিলেন না। উইং থেকে আসা সেন্টারে ফাঁকায় দাঁড়িয়ে মাথা ছুঁইয়ে গোল করে গেলেন সুরজ মাহাত। সব ডিফেন্ডাররা তখন এক লাইনে দাঁড়িয়ে। তার আগে অবশ্য অসম্ভব গাছাড়া মনোভাবের পরিচয় দিয়ে সুজয়কে সেন্টারটি তোলার সুযোগ করে দিয়েছিলেন কিংশুক। দ্বিতীয়ার্ধে আরও একটি গোল খেয়ে যেতে পারত বাগান। রেনবোর তরুণ স্ট্রাইকার সুমিত দাস নিজের অনভিজ্ঞতার জন্য গোলকিপারকে প্রায় একা পেয়েও বল তাঁর গায়ে মারলেন। তার আগে আরও একবার পরাজিত হয়েছেন কিংশুক। প্রথমার্ধের গোল দ্বিতীয়ার্ধে ক্রোমা শোধ করলেন বটে। কিন্তু প্রতিদ্বন্দ্বীকে প্রথম থেকে হালকা ভাবে নেওয়ার পাপ তাতে স্খালন হল না।

৬ ম্যাচে ১৬ পয়েন্ট নিয়ে লিগ শীর্ষে মোহনবাগান পৌঁছল বটে। কিন্তু এ শীর্ষস্থান বড়ো ক্ষণিকের। ইস্টবেঙ্গল তো এক ম্যাচ কম খেলেছে।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here