শৈবাল বিশ্বাস

শুধুমাত্র আইলিগে খেলার জন্য‌ কোটি কোটি টাকা ঢালতে কেউই রাজি হচ্ছেন না এই পরিস্থিতিতে একা টুটু বসু ক্লাবের সমস্ত বোঝা ঘাড়ে নিতে রাজি নন সঙ্গত কারণেই। প্রশ্ন উঠেছে তাহলে কি মোহনবাগান এবার ভালো করে টিম করবে না?

ক্লাব সূত্রের খবর, ধারণা একেবারেই ভুল। মোহনবাগান টিম করবে এবং ভালই টিম হবে।

এখনও পর্যন্ত যা অবস্থা তাতে পাকা খবর সনি নর্দে মোহনবাগানে থাকবেন। থাকবেন কাতসুমি ইয়ুসাও। থাকছেন বলবন্ত সিং,এডুয়ার্ডো,কিংশুক। দেবজিতকে রাখারও চেষ্টা চলছে। এই টিমের সঙ্গে যুক্ত হবেন রান্টি মার্টিন। তবে কয়েকজন খেলোয়াড়কে ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য‌ হতে হচ্ছে ক্লাব। তাঁরা হলেন গোলকিপার পবন কুমার, জেজে ও ডিফেন্ডার প্রীতম কোটাল। জেজে যাচ্ছেন চেন্নাইয়ে খেলতে, বাকিরা অন্যত্র। জেজে-র চুক্তি ফুরোচ্ছে আগামী ৩০ জুন। তারপর যে তাঁকে আর রাখা হবে না তা একরকম স্পষ্ট করেই বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছিল। তাই অনেকটা বাধ্য‌ হয়েই তাঁকে ক্লাব ছাড়তে হচ্ছে। মোহনবাগানের এক শীর্ষ কর্তার কথায়,‘এবার আমাদের টাকা পয়সা বাড়ন্ত। সবাই জানেন কাউকেই বাড়তি পেমেন্ট করতে পারব না। তাই মোটামুটি যাদের টাকা দিতে পারব তাঁদেরই দলে রাখা হচ্ছে, বাকিদের ক্লাব খুঁজে নিতে বলা হয়েছে।’ মাত্র তিনটি প্লেয়ারের ক্ষেত্রে মোহনবাগান কর্তারা বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন তাঁরা হলেন, সনি নর্দে,কাতসুমি এবং বলবন্ত সিং। সনিকে বলা হয়েছে, যেহেতু তাঁর সঙ্গে চুক্তি কেবল আই লিগ আর ফেডারেশন কাপ(এবার যেটা পালটে সুপার কাপ হওয়ার সম্ভাবনা) খেলার তাই টাকার পরিমাণ না বাড়াতে। এমনিতেই এবার আইএসএল থেকে এঁরা বেশি টাকা পাবেন কারণ আইএসএল লিগের মেয়াদ বাড়ছে। চার মাসের জায়গায় এবার লিগ হবে পাঁচ মাসের ফলে প্লেয়ারদের পেমেন্ট অনেকটাই বেড়ে গিয়েছে। ক্লাবের সঙ্গে সম্পর্কের জেরে সনি নর্দে থেকে যেতে রাজি হয়েছেন। কাতসুমি অবশ্য‌ অল্প টাকায় খেলতে রাজি নন, কিন্তু একটি বিশেষ কারণে তিনি চাপের মধ্য‌ে আছেন। এই চাপ থেকে উদ্ধার করার জন্য‌ মোহনবাগানের এক ক্লাবকর্তা বিশেষ উদ্য‌োগ নিয়েছেন, তাই কৃতজ্ঞতাপাশে আবদ্ধ করে তাঁকে ক্লাবে রেখে দেওয়ার ব্য‌াপারে সেই কর্তা বিশেষ উদ্য‌োগ নিয়েছেন।

যেহেতু অল্প টাকার মধ্য‌ে টিম করা হবে তাই ডারেল ডাফির খিদে মেটানো মোহন-কর্তাদের পক্ষে সম্ভব নয়। তাঁকে ছেড়ে দেওয়ার ব্য‌াপারে ক্লাব ইতিমধ্যেই সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছে। তাঁর জায়গায় রান্টি মার্টিনকেই আই লিগে খেলানো হবে। একজন অস্ট্রেলিয় স্ট্রাইকারও নজরে আছে মোহনকর্তাদের। এই স্ট্রাইকারটি আপাতত ইন্দোনেশিয়ায় খেলছেন। তাঁর এজেন্টের সঙ্গে প্রাথমিক কথা সেরে রেখেছেন মোহনবাগানের অর্থসচিব দেবাশিস দত্ত।

লাখ টাকার প্রশ্ন হল সঞ্জয় সেন মোহনবাগানে থাকবেন কিনা।

গার্সিয়া ইস্টবেঙ্গলে চলে যাওয়ায় সঞ্জয় সেনের পক্ষে গোটা টিমকে ঠিকঠাক মেরামত করা এক কথায় অসম্ভব। মোহন-কর্তারা তাঁকে কথা দিয়েছেন রথযাত্রার পর টিম এবং তাঁর ব্য‌াপারে পাকা কথা হবে। সঞ্জয় সেন রাজি। কিন্তু প্রশ্ন একটাই—উপযুক্ত টিম ম্য‌ানেজমেন্ট না পেলে তিনি চুক্তি পুনর্নবীকরণ করাবেন কিনা। ক্লাব যদি সাপোর্ট স্টাফের ব্য‌াপারে দরাজ হয় তাহলে সঞ্জয় সেন আরও একটা মরশুম থেকে যাবেন কারণ সামনের বার আইএসএলের মোহনবাগানে কোচিং করানোর বিরল সৌভাগ্য‌ তাঁর জন্য‌ই অপেক্ষা করে আছে। কিন্তু মোহনবাগান যদি তেমন সাপোর্ট স্টাফ দিতে না পারে তাহলে জুলাই থেকে তিনি মহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের দায়িত্ব নিতে পারেন এমনটাই ঘনিষ্ঠ মহলে জানিয়ে রেখেছেন কারণ মহামেডান স্পোর্টিং ইতিমধ্য‌েই সিদ্ধান্ত নিয়েছে বড় স্পনসর ধরে বড়ো টিম এবার তারা করবেই।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন