সানি চক্রবর্তী :

অভিযানের শুরুর আগের দিনেই লক্ষ্যটা যেন বাঁধা। নিজেদের উপরে ভরসা ও সবটা দিয়ে চেষ্টা, এই মন্ত্র নিয়েই ঝাঁপিয়ে পড়তে চাইছে ইস্টবেঙ্গল শিবির। কোচ ট্রেভর জেমস মরগ্যান থেকে দলের নির্ভরযোগ্য বিদেশি ওয়েডসন, সবার মাথাতেই ঘুরছে সোনালি লম্বা আই লিগের ট্রফিটা। হাইতিয়ান তারকা অনেক বেশি ফোকাসড। পেশাদার হলেও আবেগটা বের করলেন এত দিনে, মরগ্যানও সেই পথে হাঁটলেন, তবে একটু অন্য ভাবে। চাপের বোঝাটা যাতে পাহাড় না হয়ে যায় তাই বললেন, “ট্রফি না পেলে রাতের ঘুম চলে যাবে না।” ওয়েডসন কিন্তু নিজের বৃত্ত ছেড়ে লাল-হলুদের বৃত্তে ঢুকে পড়ে বললেন, “আমি গোল পাই বা না পাই, সেটা নিয়ে ভাবছি না। নজর দলের জয় পাওয়াতে। সবাই জানে ধানমুন্ডিতে কেমন খেলেছিলাম, তাই আনা হয়েছে। এ বার ইস্টবেঙ্গলে নিজেকে প্রমাণ করতে চাই। জিততে চাই আই লিগ।” মরগ্যানও বিকেলে ক্লাব তাঁবুতে বলে গেলেন, “দু’বার খুব কাছে গিয়েও পাওয়া হয়নি। এ বারে আই লিগটা জেতার জন্য সব চেষ্টা করব। তবে ট্রফি না পেলে রাতের ঘুম চলে যাবে না।”

নিজের খেলোয়াড়দের উপর অতিরিক্ত বোঝার চাপটা যাতে না পড়ে সেই রাস্তাটাই কি খোলা রাখতে চাইলেন এই ব্রিটিশ কোচ? চাপ কিন্তু রয়েছে ওয়েডসনের উপরে, আইজল ম্যাচে মরগ্যানের প্রথম একাদশে একমাত্র বিদেশি হয়তো তিনিই। সেটা জেনে কী রকম বোধ করছেন জানতে চাইলে বললেন, “চাপ শুধু আমার উপরে নয়। রয়েছে গোটা দলের উপরে। মাঠে নেমে এগারো জন মিলে সেরা দিলেই জয় আসবে।” আদ্যন্ত টিমম্যানের মতোই ভঙ্গিতে তার সংযোজন, “কোচ যে পজিশনে খেলাবেন খেলব।” আখেরে অনুশীলনে সিঙ্গল স্ট্রাইকারের নীচে উইথড্রয়াল হিসেবে ওয়েডসনকে ব্যবহার করছেন মরগ্যান। স্ট্রাইকারে শুরু করতে পারেন রফিক বা নিখিল।

প্রতিপক্ষ আইজল সম্পর্কে সে ভাবে কোনো ধারণা নেই। তাদের প্রাক্তন অধিনায়ক তথা বর্তমান লাল-হলুদ ডেভিডের দেওয়া তথ্য ও তাদের বর্তমান কোচ খালিদ জামিলের ডিফেন্সিভ স্ট্র্যাটেজি ছাড়া। তাই খেলা শুরুর প্রথম ১০-১৫ মিনিট প্রতিপক্ষকে দেখে নিয়েই এগোতে চাইছে ইস্টবেঙ্গল শিবির। আনোয়ার বলছিলেন, “ডিফেন্সিভই খেলবে হয়তো ওরা। তাও দেখে নিয়েই এগোব।” ডিফেন্সে তাঁর সতীর্থ হতে চলা গুরবিন্দর যদিও হুঁশিয়ারির সুরেই জানিয়ে গেলেন, “না, কিছু বলব না। বরাবরের মতো মাঠে নেমেই কাজ করে দেখাব।”

ইস্টবেঙ্গল দলে স্বদেশি অনেক ভালো ফুটবলার রয়েছেন, তারা হয়তো প্রথম ম্যাচে সুযোগ পাবেন না। তবে সুযোগ পেলে নিজেদের প্রমাণে মুখিয়ে আছেন রবিন গুরুং, পি সুহেরের মতো ফুটবলাররা। এ দিকে, এ দিনই অনুশীলনে নেমে পড়লেন উইলিশ প্লাজা। পাশাপাশি মোটামুটি ছন্দে থাকা ইভান বুকেনা ১৮ জনের দলে থাকতে পারেন বলে ইঙ্গিত দিলেন মরগ্যানের সহকারী হ্যাকেট।

ইস্টবেঙ্গলের সম্ভাব্য প্রথম একাদশ: রেহানেশ, রাহুল, আনোয়ার, গুরবিন্দর, ওয়েডসন, নারায়ণ, মেহতাব, নিখিল, রৌলিন, জ্যাকিচাঁদ, রফিক। (পরিবর্ত রূপে ডেভিড ও রোমিওর নামার সম্ভাবনা বেশি।)

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here