মুম্বই ১৭৩-৫ [রায়ুড়ু ৬৩, তিওয়ারি ৫২, বোল্ট ২-৩০]

কলকাতা ১৬৪-৮ [মনীশ পাণ্ডে ৩৩, দে’গ্র্যান্ডহোম ২৯, পাণ্ড ২-২২]

কলকাতা: আগাগোড়া অনিশ্চয়তার ম্যাচে হেরে গিয়ে প্রথম দু’য়ে থেকে প্লে-অফে যাওয়ার আশা শেষ হয়ে গেল কেকেআরের।

বৃষ্টির জন্য নির্ধারিত সময়ের আধঘণ্টা পরে শুরু হয় ম্যাচ এবং প্রত্যাশামতোই টসে জিতে শনিবার ফিল্ডিং-এর সিদ্ধান্ত নেন নাইট অধিনায়ক গম্ভীর। প্লে-অফে আগেই উঠে যাওয়ার ফলে দলে এ দিন ছ’টি পরিবর্তন ঘটায় মুম্বই।

খেলার শুরুতেই সিমন্সকে হারায় মুম্বই। তবে ভালো খেলছিলেন অনেক দিন পর খেলতে নামা সৌরভ তিওয়ারি। নিজের পয়া মাঠে দুর্দান্ত শুরু করেছিলেন রোহিত শর্মাও, কিন্তু বেশি দূর এগোতে পারেননি তিনি। রোহিত ফিরে যেতে নামেন অম্বতি রায়ুড়ু। অনেক দিন পর খেললেও সাবলীল ভাবে নাইট আক্রমণের পালটা চালাচ্ছিলেন তিনি। অর্ধশতরান করেন সৌরভ তিওয়ারি, তবে তাঁর স্ট্রাইক রেট ছিল কিছুটা বেশি, অন্য দিকে রায়ুডুর ইনিংস দেখে মনে হচ্ছিল হয়তো দু’শো পেরিয়ে যাবে মুম্বই। কিন্তু এই দুই ব্যাটসম্যান আউট হতেই কিছুটা ব্রেক লেগে যায় মুম্বইয়ের রানের গতিতে। পোলার্ডের ব্যাট এ দিন চলেনি। যতটা রান আশা করেছিল মুম্বই তার থেকে দশ-পনেরো রান মতো কমই করে তারা।

রোজ রোজ সুনীল নারিনের এক্সপেরিমেন্ট যে কাজ করবে না, সেটা প্রমাণিত হল আবার। রান তাড়া করতে নেমে, প্রথম ওভারেই ফিরে যান তিনি। ব্যাট চলেনি গম্ভীর, উথাপ্পারও। ক্রিস লিন আশা জাগিয়েও মাত্র ২৬ করেই থেমে যান। আর ইউসুফ পাঠান। মনে হচ্ছিল শনিবার হয়তো একটা পাঠান ধামাকা দেখা যাবে। শুরুও করেছিলেন সে রকম ভাবে, প্রথম চারটে বলেই তিনটে ছক্কা হাঁকান তিনি। কিন্তু কুড়ির বেশি করতে পারেননি তিনিও। এর পর দায়িত্ব চলে আছে মনীশ পাণ্ডে এবং কলিন দে’গ্র্যান্ডহোমের ওপর।

দু’জনে মিলে কেকেআরকেই জয়ের দোরগোড়ায় নিয়ে যাচ্ছিলেন। একটা সময় কলকাতার জয়ের জন্য সাত ওভারে ৪৮ রান দরকার ছিল। ক্রিজে জমে গিয়েছেন মনীশ এবং দে’গ্র্যান্ডহোম, তখনই ম্যাচে ছোট্টো করে একটা কামব্যাক ঘটায় মুম্বই। প্রথমে মিচেল জনসন মাত্র দু’রান দেন, তার পরের ওভারেই দে’গ্র্যান্ডহোমকে ফিরিয়ে দেন হার্দিক পাণ্ড্য।

শেষ চার ওভারে দরকার ছিল ৩৯। ক্রিজে তখন মনীশের সঙ্গে কুলদীপ। সেই ওভারে দু’জনে মিলে তোলেন ১৪। ম্যাচ ফের ফিরে আসে কলকাতার অনুকূলে। তিন ওভারে দরকার ছিল ২৫। অষ্টদশ ওভারের প্রথম ওভারে ফের উইকেটের পতন। ফিরে যান মনীশ। শেষ দু’ ওভারে দরকার ছিল ২১। ম্যাচে আর ফেরেনি কলকাতা। ন’রানে ম্যাচটি জিতল মুম্বই।

যে ভাবে আইপিএলটা শুরু করেছিল কলকাতা, সেই তুলনায় শেষের দিকে এসে কিছুটা তাল কেটে গিয়েছে তাদের। আগামী বুধবার ইলিমিনেটরের ম্যাচে নামবে কলকাতা। কার মুখোমুখি হবে সেটা রবিবারই জানা যাবে।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here