সানি চক্রবর্তী:

২০০৪ সালের মিয়ামি ওপেন। সদ্য ইন্ডিয়ান ওয়েলস জেতা রজার ফেডেরার রয়েছেন ফর্মের শিখরে। সেই রজারকে রাউন্ড ৩২-এ ৬-৩, ৬-৩ ব্যবধানে স্ট্রেট সেটে উড়িয়ে দিয়েছিলেন টিনএজার রাফায়েল নাদাল। সেই শুরু…।

কাট টু ২০১৭ মিয়ামি ওপেন। এ বারে ফাইনালের আসর। মুখোমুখি সেই রাফায়েল নাদাল ও রজার ফেডেরার। টেনিসের সর্বকালের সেরা দুই খেলোয়াড়ের মহাকাব্যিক ডুয়েলের ৩৭তম অধ্যায়।

সময়ের ব্যবধানটা ফেসবুকের মিম-র ঢংয়ে বলাই যায়, এর মাঝে বড়ো হয়ে গেলাম আমরা। তবে এ বারের লড়াইয়ের আগে প্রেক্ষাপট কিছুটা আলাদা। এ বারেও ইন্ডিয়ান ওয়েলস জিতে এসেছেন ফেডেরার। তার আগে অস্ট্রেলিয়ান ওপেনও। গড়েছেন রেকর্ড ১৮ গ্র্যান্ড স্ল্যামের। অন্য দিকে ১৪ গ্র্যান্ড স্ল্যাম জেতা সুরকির সম্রাটের এখনও টেনিস সার্কিটে কিছু অপ্রাপ্তি রয়েছে।

অবাক লাগলেও সত্যি, এখনও মিয়ামি ওপেন এটিপি টুরের সেরার শিরোপাটা নাদালের ক্যাবিনেটে নেই। চার বার ফাইনালে উঠেছেন, আর প্রত্যেক বারই হেরে কোর্ট ছাড়তে হয়েছে তাঁকে। এ বারে ইতালির ফ্যাবিয়ান ফোগনেনিকে ৬-১, ৭-৫ স্ট্রেট সেটে সেমিফাইনালে উড়িয়ে দিয়েছেন। টুর্নামেন্ট শুরুর আগে জানিয়েছিলেন, কোর্টে এ বারে সবটা দিয়ে দেবেন মার্কিন মুলুক থেকে এই ট্রফিটা জিতে ফেরার জন্য। ফাইনালে ওঠার পরে যদিও ট্রফি জেতা ঘিরে কথাবার্তা আপাতত ব্যাকসিটে। কারণ, প্রতিপক্ষ সেই রজার ফেডেরার। রজারের ম্যাচের আগে রাফা জিতে বলছিলেন, “যদি রজার ফাইনালে ওঠে, তা হলে এটা আমাদের মধ্যে আরও একটা ম্যাচ হবে। ব্যাস এটুকুই।” গলায় যতটা সম্ভব শান্ত ভাবটা ধরে রেখেছিলেন। কিন্তু নিক কিরঘিগোয়কে টানা তিন সেটের টাইব্রেকার থ্রিলারে সুইস মায়েস্ট্রো হারিয়ে দেওয়ার পরেও কি এতটা শান্ত রাখতে পারছেন নিজেকে? উত্তরটা যদিও পাওয়া যায়নি। ফাইনালে উঠে রজার বলেছেন, “আগের সময় যেন ফিরে এসেছে। প্রায় সপ্তাহ খানেকের বিরতিতেই পরস্পরের মুখোমুখি হচ্ছি।” সার্কিটে ব্যাড বয় হিসেবে পরিচিত কিরঘিয়োসের বিরুদ্ধে ৩ ঘণ্টা ১১ মিনিটের লড়াইয়ে ব্যবধান ছিল ৭-৬, ৬-৭, ৭-৬। দুরন্ত টেনিসের ছটা দেখা গিয়েছে রজারের র‍্যাকেটে।

চলতি বছরে ইতিমধ্যে দু’বার খেলে ফেলেছেন রাফা-রজার। অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের ফাইনালের মহাকাব্যিক ম্যাচে জিতে ১৮তম গ্র্যান্ড স্ল্যামের দখল বা ইন্ডিয়ান ওয়েলসে এগিয়ে যাওয়া, দু’বারই বাজি মেরেছেন ফেডেরার। তাই সেই পরিসংখ্যানকে বদলে দেওয়ার বাড়তি তাগিদ থাকছে নাদালের। সঙ্গে অবশ্যই মিয়ামি ওপেনে নিজের ভাগ্যের চাকা ঘোরানোও।

কয়েক দিন আগে পর্যন্ত নাদাল-ফেডেরারকে বুড়োদের দলে ফেলে দিয়েছিলেন যাঁরা তাঁদের চোখে আঙুল দিয়ে ভুলটা ধরিয়ে দিচ্ছেন দু’জনেই। মাঝে টানা চোটে ভুগে কেরিয়ারই শেষ হতে বসেছিল নাদালের। অন্য দিকে ফেডেরারের পড়ন্ত ফর্মের সঙ্গে হাঁটুর চোট ছিল অশনি সংকেত। কিন্তু মাঝে বিশ্রামের পরে যে ভাবে ফিরে এসেছেন দু’জনেই তা দুর্ধর্ষ। নোভাক জকোভিচ ও আন্ডি মারের বর্তমানে ফর্মে কিছুটা মন্দার সাহায্য পেয়েছেন দুই তারকাই, এ কথা বলে অনেকে ফুটও কেটেছেন। কিন্তু সমালোচকদের মুখে এক প্রকার ঝামা ঘষে দিয়ে টানা দুরন্ত টেনিস মেলে ধরে শুধু টেনিসদুনিয়াকেই নয়, গোটা বিশ্বকে যেন এক রোমান্টিসিজমে বুঁদ করে ফেলেছে সেই নাদাল-ফেডেরার দ্বৈরথ।

রবিবার রাত ১০টা ৩০ মিনিট থেকে। 

 

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here