কলকাতা: একজন মেরে কেটে দশ। আরেকজন সদ্য পনেরো পেরিয়েছে। অনুষ্কা সিনহা আর শ্রেয়া ঠাকুর। কিই বা বয়স ওদের। অনুষ্কার বয়সি আর পাঁচটা বাঙালি মেয়ের সময় কাটে পুতুল খেলে, কার্টুন দেখে। আর এদিকে এই বছর দশেকের বাচ্চা মেয়েটা মেতেছে এক অদ্ভুত নেশায়। পাহাড়ে চড়ার নেশা। শেষ চার বছরে যার ঝুলিতে জমেছে বেশ কয়েকটা হাই অল্টিটিউড ট্রেকের অভিজ্ঞতা। ২০১৭-র বাংলার শতপন্থ অভিযানের কনিষ্ঠতম সদস্য অনুষ্কা।

২৩ হাজার ২১২ ফুটের শতপন্থ অভিযান, পথ স্বাভাবিক ভাবেই দুর্গম। ১৫ বছরের নীচে কাউকেই এই অভিযানের অনুমতি দেয় না ইন্ডিয়ান মাউন্টেনিয়ারিং ফাউন্ডেশন (আইএমএফ)। তাই আপাতত বেসক্যাম্প পর্যন্ত যাওয়ার ছাড়পত্র পেয়েছে ছোট্ট মেয়েটা। আর শ্রেয়া? আপাতত দার্জিলিঙের হিমালয়ান মাউন্টেনিয়ারিং ইনস্টিটিউটে বেসিক কোর্স করতে ব্যস্ত শ্রেয়া। কোর্স শেষেই শুরু হবে নতুন অভিযান। তবু অনিশ্চয়তা কি নেই? অভিযানের জন্য যে দরকার অনেকটা টাকা। শ্রেয়ার মতো নিম্নবিত্ত পরিবারের মেয়ে কীভাবে জোগাড় করবে তা? ক্লাবের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যে বিভিন্ন জায়গায় আবেদন করা হয়েছে আর্থিক সাহায্যের জন্য।

অভিযানের আয়োজনে-তত্ত্বাবধানে নারকেলডাঙা ট্রেকার্স অ্যাসোসিয়েশন। ২০০৩-এ তৈরি হওয়া এই দলটি আইএমএফের অনুমোদন পায় ২০০৮-এ। প্রথমে স্কাউটিং, তারপর ট্রেকিং-এর হাত ধরে পুরোদমে মাউন্টেনিয়ারিং-এ চলে আসে এই দল। ২০১৫ সালে এভারেস্ট অভিযানের জন্য ২৪ বছরের জ্যোৎস্না শেঠকে পাঠানো হয়েছিল এই ক্লাব থেকেই। অভিযান সফল হলে জ্যোৎস্নাই হতেন বাংলার কনিষ্ঠতম এভারেস্টজয়ী মহিলা। কিন্তু ২০১৫-এর ভয়াবহ ভূমিকম্পের ফলে সে বছর নেপালের সব অভিযান বাতিল হয়ে যায়। এ বছরের শতপন্থ অভিযানেও শ্রেয়া-অনুষ্‌কার সঙ্গী হচ্ছেন জ্যোৎস্না।

নারকেলডাঙা ট্রেকার্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রধান পীযুষ সিনহা মেয়ে অনুষ্কাকে নিয়ে খুবই আত্মবিশ্বাসী। পীযুষবাবু খবর অনলাইনকে জানালেন, ৫০০০ মিটার উচ্চতায় মেয়ের কোনো শারীরিক সমস্যা না হলে নিজেরা ঝুঁকি নিয়ে বেসক্যাম্পের পরেও অনুষ্কাকে নিয়ে যেতে রাজি তাঁরা। এক মাসের লম্বা অভিযান শুরু আগামী ৫ জুন। ছোট্ট ছোট্ট দামাল মেয়েগুলোর পাশাপাশি গোটা দলের জন্য রইল শুভেচ্ছা।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here