উইলিয়ামসনের চালে বাজিমাত নিউজিল্যান্ডের

0

খবর অনলাইন ডেস্ক : আকস্মিক ভাবে নিউজিল্যান্ডের হাতে ৪৭ রানে হেরে টি-২০ বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করল ভারত। নাগপুরের ঘূর্ণি পিচে কিউয়ি স্পিনারদের সামনে ধসে গেল ভারতীয় ব্যাটিং। এ দিন খেলা শুরুর আগেই চমক দেন কিউয়ি অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসন। বিখ্যাত ওপেনিং বোলিং জুটি ট্রেন্ট বোল্ট আর টিম সাউদিকে বাইরে রেখে তিন স্পিনার আর মাত্র এক জন পেসারকে দলে রেখে মাঠে নামে নিউজিল্যান্ড। আর তাতেই ঘটল বাজিমাত। বার বার পাঁচ বার। নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে পাঁচটি আন্তর্জাতিক টি-২০ ম্যাচের সব ক’টিতেই হারল ভারত।
আবেগঘন মুহূর্ত দিয়ে শুরু হয় ম্যাচ। জাতীয় সঙ্গীতের আগে কিউয়ি কিংবদন্তি মার্টিন ক্রোর স্মৃতিতে একটি স্লাইডশো দেখানো হয়। আবেগমথিত হয়ে নিউজিল্যান্ডের বিস্ফোরক ওপেনার মার্টিন গাপ্টিলকে চোখ মুছতে দেখা যায়। প্রয়াত ক্রোকে শ্রদ্ধা জানানোর জন্য বোধহয় আলাদা সংকল্প নিয়ে নেমেছিলেন গাপ্টিল। তাই প্রথম ওভারের প্রথম বলেই অশ্বিনকে ছক্কা হাঁকান তিনি। পরের বলেই মধুর প্রতিশোধ অশ্বিনের। এলবিডব্লিউ হয়ে প্যাভিলিয়নে ফেরেন গাপ্টিল। এর পরই অশ্বিন-বুমরাহ-জাদেজারা কিউয়ি ব্যাটিং-এ ব্রেক কষে দেন। দ্বিতীয় ওভারেই কলিন মুনরোকে ফেরান নেহরা। নিউজিল্যান্ড তখন রীতিমতো ধুঁকছে। এর পর ইনিংসের কিছুটা হাল ধরার চেষ্টা করেন অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসন আর করি অ্যান্ডারসন। কিন্তু বেশি ক্ষণ টিকতে পারেননি উইলিয়ামসনও। সপ্তম ওভারের পঞ্চম বলে তাঁকে প্যাভিলিয়নে ফেরান রায়না। রায়নারই উপস্থিত বুদ্ধিতে মাত্র ১০ রানে রান আউট হয়ে যান অভিজ্ঞ রস টেলর। পুরো ইনিংসে রানের গতি কখনওই বাড়াতে পারেনি কিউয়িরা। ষোড়শ ওভারের চতুর্থ বলে অ্যান্ডারসনকে ফেরান বুমরাহ। অনেক ক্ষণ সময় ক্রিজে কাটালেও ৪২ বল খেলে মাত্র ৮১-র স্ট্রাইক রেটে ৩৪ রান করেন এই মারকুটে ব্যাটসম্যান। শেষ ওভারে নেহরার পর পর দু’ বলে চার আর ছয় মেরে নিউজিল্যান্ডকে কিছুটা ভদ্রস্থ স্কোরে পৌঁছে দেন লুক রঙ্কি। কুড়ি ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে ১২৬ রান করে নিউজিল্যান্ড। রঙ্কির ১১ বলে ঝড়ো ২১ রানের ইনিংসটা না থাকলে নিউজিল্যান্ড ১১০-ও হয়তো পেরোতে পারত না।

ম্যাচের সেরা মিচেল স্যান্টনার
ম্যাচের সেরা মিচেল স্যান্টনার

জবাবে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই ধাক্কা। নেথান ম্যাককালামের বলে প্রথম ওভারেই এলবিডব্লিউ হয়ে যান শিখর ধাওয়ান। শুরুর ধাক্কার পর আর মাথা তুলে দাঁড়াতে পারেনি ভারতীয় ব্যাটিং। তৃতীয় ওভারেই বাঁ হাতি স্পিনার মিচেল স্যান্টনারের বলে স্টাম্পড হন রোহিত শর্মা। তিন বল পরে প্যাভিলিয়নে ফেরেন সুরেশ রায়না। টিমের স্কোর যখন ২৬, ম্যাককালামের বলে তাঁরই হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন যুবরাজ। এরই মধ্যে কিছুটা লড়াইয়ের চেষ্টা করছিলেন বিরাট কোহলি। কিন্তু ২৭ বলে ২৩ রান করে লেগ স্পিনার ইশ সোধির বলে আউট হন কোহলি। স্কোর তখন ৫ উইকেটে ৩৯। অধিনায়ক ধোনি তখন উইকেটের এক দিকে দাঁড়িয়ে অপর দিকে একের পর এক উইকেট পতন দেখতে থাকেন। তবুও টার্গেট যে হেতু খুব বেশি ছিল না, তাই আরও এক ধোনি-স্পেশাল দেখার আশায় বুক বাঁধছিলেন দেশবাসী। যদি তিনি কোনও মিরাকেল ঘটিয়ে ফেলতে পারেন। কিন্তু ৩০ বলে ৩০ রান করে স্যান্টনারের বলে ধোনি আউট হতেই ভারতের কফিনে শেষ পেরেকটি পোঁতা হয়ে যায়। উনিশতম ওভারের প্রথম বলে অ্যাডাম মিলনের বলে নেহরা বোল্ড হতেই অসাধ্যসাধন করে নিউজিল্যান্ড। ভারত অল আউট হয় ৭৯ রানে। ৪ ওভারে ১১ রান দিয়ে ৪ উইকেট নিয়ে ম্যাচের সেরা নির্বাচিত হন স্যান্টনার। ম্যাচ শেষে ধোনি দলের জঘন্য ব্যাটিংকে দায়ী করেন। নিউজিল্যান্ড ক্যাপ্টেন উইলিয়ামসন অবশ্য তাঁর দলের পারফরম্যান্সে খুশি। ভারতের পরের ম্যাচ আগামী ১৯ মার্চ পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ক্রিকেটের নন্দনকানন ইডেন গার্ডেন্সে। সেমিফাইনালে যেতে গেলে এই ম্যাচে জেতা খুবই জরুরি।

ছবি: ক্রিকইনফো



খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন