ইংল্যান্ডেই শাপমুক্তি, ভারতকে উড়িয়ে চ্যাম্পিয়ন পাকিস্তান

0
367

পাকিস্তান: ৩৩৮-৪ (ফকর ১১৪, আজহার ৫৯, যাদব ১-২৭)

ভারত: ১৫৮ (হার্দিক ৭৬, যুবরাজ ২২, আমির ৩-১৬)

লন্ডন: ফের ফাইনালের জুজু ভর করল ভারতের ওপর। আইসিসি টুর্নামেন্টে পাকিস্তানের ওপর ভারতের আধিপত্য মাত্র একটি ম্যাচেই চুরমার হয়ে গেল। মোক্ষম ম্যাচে ভারতকে উড়িয়ে দিল পাকিস্তান।

শাপমুক্তি হল মহম্মদ আমিরের। এই ইংল্যান্ডেই সাত বছর আগে মাচ ফিক্সিং-এর অভিযোগে চরম শাস্তি নেমে এসেছিল মহম্মদ আমিরের ওপর। সেই ইংল্যান্ডেই কার্যত একার হাতে ভারতীয় ব্যাটিং-এর ঘাড় মটকে দিলেন তিনি।

শাপমুক্তি হল গোটা পাকিস্তান দলের। শুধু আমির নন, সাত বছর আগে ওই ঘটনার জেরে পাকিস্তান ক্রিকেট দলটাকেই সন্দেহের চোখে দেখতেন ক্রিকেটভক্তরা। ক্রিকেট ম্যাচ এবং গড়াপেটা, দু’টি পাকিস্তান দলের সঙ্গে ওতপ্রোত ভাবে জড়িয়ে গিয়েছিল। সেই ইংল্যান্ডের মাটিতেই বিশ্বমানের টুর্নামেন্ট জিতলেন টিম সরফরাজ।

ফর্মে থাকা ভারতীয় বোলারদের যে ভাবে শাসন করে গেলেন পাক ব্যাটসম্যানরা, সেটা কেউ ভাবতেও পারেননি। রবিবার টসে জিতে ফিল্ডিং-এর সিদ্ধান্ত নেন কোহলি। শুরুর দু’তিন ওভার পরেই দাপট দেখাতে শুরু করেন পাক ওপেনার আজহার আলি এবং ফকর জমান।

অবশ্য ভাগ্যও কিছুটা সহায় ছিল পাকিস্তানের ওপর। চতুর্থ ওভারেই বুমরাহ-এর বলে ধোনির হাতে ক্যাচ দেন ফকর, কিন্তু রিপ্লেতে দেখা যায় সেটা নো-বল। এটা ছাড়াও প্রথম পনেরো ওভারের মধ্যে বেশ কয়েকটি রান আউটের সুযোগও মিস করে ভারত। তবে রান আউটেই প্রথম আঘাত হানে ভারত। ক্রিজে জমে গিয়েছেন ফকর এবং আজহার। দু’জনকে ফেরানোর শত চেষ্টা করেও ব্যর্থ বোলাররা। আজহারের নিজের ভুলেই প্রথম উইকেটটি পায় ভারত। রান আউট হয়ে যান তিনি।

তবে আজহার আউট হলেও ফকর কিন্তু ভারতীয় বোলারদের শাসন করে যান। বাঁ হাতি ফকর পরতে পরতে সঈদ আনোয়ারের কথা মনে করিয়ে দিচ্ছিলেন। ভারতের বিরুদ্ধে নামলেই জ্বলে উঠতেন আনোয়ার। ফকরও ভারতের বিরুদ্ধে প্রথম সুযোগেই জ্বলে উঠলেন। শুধু জ্বলেই উঠলেন না, হাঁকালেন শতরান।

ফকর আউট হলেও মহম্মদ হাফিজ এবং বাবর আজমের ইনিংসের সুবাদে পাহাড়প্রমাণ রান খাড়া করে পাকিস্তান।

জবাবে ব্যাট করতে নেমে আমিরের বিধ্বংসী স্পেলেই উড়ে যায় ভারতীয় টপ অর্ডার। প্রথম তিন ওভারের মধ্যেই রোহিত এবং বিরাটকে ফেরান আমির। পিচে তখন রীতিমতো আগুন ছোটাচ্ছেন তিনি। তাঁর আগুনে পেস কোনো রকমে সামলে একটা প্রতিরোধ তৈরির চেষ্টা করেন যুবরাজ এবং ধাওয়ান। নিজের ফর্মের ঝলক যখন দেখানো শুরু করেছিলেন তখনই ফের আমিরের শিকার ধাওয়ান। প্রশংসা করতে হয় সদাব খানেরও। মাত্র আঠারো বছর বয়সি হওয়া সত্ত্বেও যে ভাবে তাঁর অধিনায়ককে জোর করিয়ে রিভিউ নেওয়ালেন এবং তাতে যুবরাজের উইকেটটা পেলেন, সেটা শিক্ষণীয়।

তবে ষষ্ঠ উইকেটের পর ভারতের জন্য ছোট্টো একটা আশা জাগিয়েছিলেন হার্দিক পাণ্ড্য। চাপমুক্ত হয়ে খেলে ছক্কার পর ছক্কা হাঁকাচ্ছিলেন তিনি। তাঁকে সঙ্গত দিয়ে যাচ্ছিলেন রবীন্দ্র জাদেজাও। তবে বিশ্রী ভাবে রান আউট হন তিনি। ৬টা ছয় এবং চারটে চারের সাহায্যে ৪৩ বলে ৭৩ করেন তিনি।

তবে হার্দিক আউট হওয়ার পর, পাকিস্তানের জয় ছিল শুধুমাত্র সময়ের অপেক্ষা।

এক ক্লিকে মনের মানুষ,খবর অনলাইন পাত্রপাত্রীর খোঁজ

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here