কানপুরে চলছে ভারতের ৫০০তম টেস্ট। একাধিক প্রাক্তন অধিনায়ক ও তারকা ক্রিকেটারদের উপস্থিতিতে যেন চাঁদের হাট গ্রিনপার্কে। কিন্তু যাঁদের জন্য এই ম্যাচ আয়োজন তারা কোথায়? হ্যাঁ, ক্রিকেটের দর্শকরা। ভারতের মাটিতে খেলছেন বিরাটরা, আর খাঁ খাঁ করছে গ্যালারি, এমন দৃশ্য খুব একটা দেখা যায় না এদেশে। সত্যিই কি তাই? নাকি কানপুরের গ্যালারি ফের একবার চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে শুধু ব্যাট-বলের সনাতন দ্বন্দ্বের ক্রিকেট নয়, মাঠে ভিড় হয় ক্রিকেটকে ঘিরে উৎসবের জেরে। চার ঘণ্টার ভরপুর অ্যাকশনে ভরা টি ২০ বা বড়োজোর একদিনের আন্তর্জাতিক, লোক সমাগমের দিকে পাল্লা ভারী নির্ধারিত ওভারেরই। দিন এগোনোর সঙ্গে সঙ্গেই টেস্ট দেখতে মাঠে লোক না আসার প্রবণতাটা যেন বৃদ্ধি পাচ্ছে।

আর উদ্ভূত পরিস্থিতি ভাবিয়ে তুলেছে সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়কে। ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অফ বেঙ্গলের সর্বময় কর্তার কপালে ভাঁজ পড়াটাই স্বাভাবিক, কারণ ভারত-নিউজিল্যান্ড টেস্ট সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচটি ইডেনে। ৩০ সেপ্টেম্বর শুরু হবে যে ম্যাচ। এমনিতেই সিএবি কর্তাদের মাথায় দুশ্চিন্তা বাড়িয়েছে পুজোর মরশুম, তার উপর টেস্টে এ হেন দর্শক সমাগম আরও ভাবিয়ে তুলেছে তাঁদের। চিন্তা সরিয়েই যদিও মহারাজ জানাচ্ছেন, “টেস্টে দর্শক সমাগম কমছে দিনে দিনে এটা ঠিক। তবে ইডেন অন্য সব জায়গার থেকে আলাদা, এখানে খেলা হলে লোক ঠিক আসবেন ক্রিকেটের টানেই।” যদিও শুধু ক্রিকেটের টানে ভরসা রাখতে নারাজ যুগ্মসচিব অভিষেক ডালমিয়া। সিজন টিকিট বিক্রি শুরু হলেও সে ভাবে সাড়া না মেলায় নতুন পরিকল্পনা সাজিয়েছেন তিনি। ক্রিকেট জোন, গেমিং জোন, ফ্যান জোনের মতো বিভিন্ন মনোরঞ্জনের ব্যবস্থা করা হচ্ছে দর্শকদের জন্য। যেখানে ফেস পেন্টিং থেকে পছন্দের ক্রিকেটারের চুলের ছাঁট, সবই মিলবে।

এ দিকে ভারতীয় দলের মিডল অর্ডারের ব্যাটিং বিপর্যয়ের কোপ সোজা এসে পড়ল ইডেনের পিচে। স্বাদের বারমুডা ঘাস এনে লাগানো হলেও, তা ছেঁটে ফেলা হয়েছে। পেসের সামান্যতম সুবিধা বিপক্ষকে না দিয়ে স্পিন সহায়ক উইকেট বিরাট-কুম্বলের হাতে তুলে দিতেই কি এই বন্দোবস্ত! যদিও উইকেট ঠিক কী রকম হতে চলেছে জানতে চাইলেও পাশ কাটাচ্ছেন প্রায় সকলেই।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here