উইম্বলডন: উইম্বলডনের ক্লাসিকে ঢুকে পড়া লড়াই দেখল ১ নম্বর কোর্ট। দেখল একটি ছোট্ট দেশের সর্বকালের সেরা টেনিস সেলেব্রিটির অতিমানব হয়ে ওঠা। দেখল টেনিসের এক কিংবদন্তির হাল না ছাড়া লড়াইয়ের শেষে অমোঘ পরাজয়।

হ্যাঁ। চতুর্থ রাউন্ডেই এবারের মতো উইম্বলডন থেকে বিদায় নিলেন রাফায়েল নাদাল। ৪ ঘণ্টা ৪৮ মিনিটের ম্যাচের শেষে তিনি হারলেন লুক্সেমবার্গের ৩৪ বছর বয়সি জিলেস মুলারের কাছে। স্কোর ৬-৩, ৬-৪, ৩-৬, ৪-৬, ১৫-১৩। ২৮ গেমের শেষ সেটটা চলল ২ ঘণ্টা ১৫ মিনিট ধরে।

নাদাল খারাপ খেলেননি আজ। ০-২ সেটে পিছিয়ে পড়েও ফিরে এসে ২-২ করেছেন। পঞ্চম সেটে ৪টি ম্যাচ পয়েন্ট বাঁচিয়েছেন। কিন্তু তাঁকে ছাপিয়ে গেছেন বিশ্বের ২৬ নম্বর, এবারের উইম্বলডনের ১৬ নম্বর বাছাই মুলার। বরফ-শীতল মুলারের সার্ভিস আর মরিয়া লড়াইয়ের উত্তর ছিল না স্প্যানিশ কিংবদন্তির কাছে। প্রতিটি ম্যাচ পয়েন্ট বাঁচিয়ে, প্রতিটি সার্ভিস গেম ধরে রেখে নাদাল যেমন উচ্ছ্বাস দেখাচ্ছিলেন, মুলার ছিলেন তার ঠিক বিপরীত। এমনকি মহাকাব্যিক ম্যাচে জয়ের পরও তাঁর প্রতিক্রিয়ায় দেখা গেল বিস্ময়ের নীরবতা।

খেলার শেষে স্পষ্টতই হতাশ নাদাল। ২০১১ সালের পর থেকে উইম্বলডনে চতুর্থ রাউন্ডের ওপরে যেতে পারেননি তিনি। ভেবেছিলেন এবার পারবেন। “আমি সুযোগ নষ্ট করলাম। এই হারকে ইতিবাচক ভাবে ব্যাখ্যা করার অবস্থায় আমি নেই”।

আরও পড়ুন: টেনিস লন রক্ষণাবেক্ষণের রোলার সারানোর খরচ তুলতে আয়োজিত হয়েছিল প্রথম উইম্বলডন

অন্যদিকে শান্ত মুলার বলছেন, “তৃতীয় ও চতুর্থ সেট হারার পরেও ভেবেছি, আমি খারাপ খেলছি না। খেলাটাকে ধরে রাখতে হবে”। খেলাটাকে ধরে রেখেই ম্যাচ শেষে হাসিমুখে কোর্ট ছাড়লেন মুলার। হেরে যাওয়া কিংবদন্তি তখন দর্শকদের অটোগ্রাফ বিলোচ্ছেন। আর ধারাভাষ্যকাররা বলছেন, ১৭ বছরের পেশাদারি টেনিস জীবনে এই প্রথম বিশ্বের প্রথম পাঁচে থাকা কাউকে হারালেন মুলার। বলছেন, ২০০৫ সালে ফরাসি ওপেন জিতে আসা নাদালকে এখানেই দ্বিতীয় রাউন্ডে হারিয়েছিলেন তিনি। বলছেন, ৩৪ বছরের মুলার গত মে মাসে বিশ্বের ২৬ নম্বর হয়েছেন, এটাই তাঁর জীবনের সেরা র‍্যাঙ্কিং।

জানিয়ে রাখা যাক, সহজেই কোয়ার্টার ফাইনালে উঠলেন ফেডেরার, মারে। অন্যদিকে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিলেন মহিলাদের শীর্ষ বাছাই অ্যাঞ্জেলিক কের্বের।

এক ক্লিকে মনের মানুষ,খবর অনলাইন পাত্রপাত্রীর খোঁজ

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here