দূষণে বাতিল ম্যাচ, ক্ষোভ দিল্লিতে বাংলার থাকা নিয়ে

0

সানি চক্রবর্তী:

মাঠে দাঁড়িয়ে থাকলেই জ্বালা করছে চোখে, অসুবিধা হচ্ছে স্বাভাবিক শ্বাস-প্রশ্বাসে। দিল্লির বায়ুদূষণের জেরে যে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে গোটা শহর জুড়ে তার প্রভাব এ রকমই। এ হেন পরিস্থিতির ধাক্কা লাগল ক্রিকেটেও। টানা দু’দিন একটিও বল খেলা না হওয়ার পরে বাতিল হয়ে গেল বাংলা-গুজরাত রনজি ম্যাচ।

ফিরোজ শাহ কোটলা স্টেডিয়ামে এমনই অবস্থা যে দেখা যাচ্ছে না ১০ ফুট দূরের জিনিস। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দৃশ্যমানতা বাড়লেও ধোঁয়ার কুপ্রভাব কাটছে না। দ্বিতীয় দিনে পর্যবেক্ষণের পরে ম্যাচ বাতিল হয়ে যাওয়ার পরে প্রথমে দুই দলকেই এক পয়েন্ট করে ভাগ করে দেওয়ার কথা জানান ম্যাচ রেফারি ও দুই আম্পায়ার। কিন্তু বেঁকে বসে দুই শিবিরই। মনোজ ও পার্থিব দুজনই এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেন। দুই দলই এই মুহূর্তে খুব ভালো জায়গায় রয়েছে, তাই এ ভাবে এক পয়েন্টের সিদ্ধান্ত সঙ্গত কারণেই মেনে নেননি কেউই। বাংলা ও গুজরাত দুই রাজ্যের তরফেই যোগাযোগ করা হয় বোর্ডের সঙ্গে। শেষ পর্যন্ত বোর্ডের মধ্যস্থতায় পরিস্থিতির মীমাংসা হয়। জানিয়ে দেওয়া হয় রনজি মরশুম শেষ হলে দিল্লির দু’টি ম্যাচেরই রিপ্লে হবে। দিল্লিতে ত্রিপুরা-হায়দরাবাদের অপর ম্যাচটিও খেলা হয়নি একই কারণে। দিল্লিতে পরবর্তী ম্যাচগুলি নিয়েও সংশয় তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতির উন্নতি না হলে দল পাঠাবে না বলে জানিয়ে দিয়েছেন সৌরাষ্ট্রের মতো সংস্থা।

তবে বাংলার ক্রিকেটাররা কিন্তু মানসিকভাবে এই মুহূর্তে কিছুটা ধাক্কা খেয়েছেন। ম্যাচ খেলতে না-পারায় নয়, দিল্লির বিষাক্ত পরিবেশে আরো দু’দিন হোটেলে বন্দি থাকতে হবে জেনে। সাধারণ মানুষের দিল্লি ছাড়ার হিড়িকে দলকে এই মুহূর্তে শহরে ফেরানো যাচ্ছে না বলে জানিয়েছে সিএবি।

সিএবি কিছু অর্থ তারা বাঁচাতে চাইছে, এমন তথ্যও সামনে এসেছে। তবে বাংলার থেকে আর্থিকভাবে দুর্বল হয়ে গুজরাত তাদের ক্রিকেটারদের ফিরিয়ে নিয়ে গেছে রবিবারই। সে রকম অবস্থায় অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে আরও দু’দিন দিল্লিতে কাটানোকে কেন্দ্র করে ক্ষোভ জমেছে খেলোয়াড়দের মনে। প্রাক্তন খেলোয়াড়রা তাঁদের পক্ষেই দাঁড়িয়েছেন। দিল্লির বিষাক্ত পরিবেশে থাকার ফলে যদি কোনো খেলোয়াড় অসুস্থ হয়ে পড়েন, তার দায় কি সংস্থা নেবে, বলে অভিযোগ তাঁদের। পাশাপাশি তাঁদের সংযোজন, অসুস্থ হলে হাসপাতালে হয়তো ভর্তি করবে সংস্থা, কিন্তু তার জেরে যদি কেরিয়ারে কোনো ক্ষতি হয়। যখন এই মরশুমে দল ভালো খেলছে, চ্যাম্পিয়নশিপের লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছেন ক্রিকেটাররা, তখন এ হেন পরিস্থিতিতে তাঁদের ছেড়ে দেওয়া, শুধু কিছু অর্থ বাঁচানোর জন্য কতটা যুক্তিসঙ্গত সেই প্রশ্নও তুলেছেন তাঁরা।

------------------------------------------------
সুস্থ, নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার স্বার্থে খবর অনলাইনের পাশে থাকুন।সাবস্ক্রাইব করুন।
সুস্থ, নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার স্বার্থে খবর অনলাইনের পাশে থাকুন।সাবস্ক্রাইব করুন।
সুস্থ, নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার স্বার্থে খবর অনলাইনের পাশে থাকুন।সাবস্ক্রাইব করুন।
সুস্থ, নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার স্বার্থে খবর অনলাইনের পাশে থাকুন।সাবস্ক্রাইব করুন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.