রেয়াল মাদ্রিদ: ৩ (রোনাল্ডো-হ্যাটট্রিক)  আতলেতিকো মাদ্রিদ: ০

সানি চক্রবর্তী:

ইউরোপের মঞ্চে মাদ্রিদ ডার্বির প্রথম পর্বে দাদাগিরি রেয়ালের। ঘরের মাঠ সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে দুরন্ত জয় ছিনিয়ে নিল তারা। চ্যাম্পিয়ন্স লিগের প্রথম লেগে রেয়াল জিতল ৩-০ ব্যবধানে। দিয়েগো সিমিওনের দল কেঁপে গেল ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোর হ্যাটট্রিক বিস্ফোরণে।

খেলার আড়মোড়া ভাঙার আগেই ১০ মিনিটের মাথায় হেডে রোনাল্ডোর গোল। আর তার জেরেই যেন লড়াই থেকেই অপ্রত্যাশিত ভাবে হারিয়ে গেলেন গ্রিজম্যান-কোকেরা। রামোসের ক্রস ভালো ভাবে ক্লিয়ার করতে পারেনি আতলেতিকোর বিখ্যাত ডিফেন্স লাইন। ফিরতি বলে ক্যাসামিরোর ড্রপ খাওয়ানো ক্রসে লাফিয়ে উঠে গোল রোনাল্ডোর। গোল খেয়ে আতলেতিকো মাদ্রিদ তেড়েফুঁড়ে লাগবে মনে করা হচ্ছিল। কিন্তু কোথায় কী। ট্যাকটিক্যাল মাস্টারক্লাসের ঝলক থাকে যাদের খেলায়, তারাই এ দিন বড্ড ছন্নছাড়া, দিশাহীন। মাঝমাঠ থেকে স্ট্রাইকিং লাইন, উইং প্লে কারোরই কোনো বোঝাপড়া নেই। আতলেতিকো-রেয়াল দ্বৈরথে একটা দুরন্ত লড়াই দেখার লক্ষ্যে যাঁরা বসেছিলেন, আসলে তাঁদের নিরাশই করল আতলেতিকোর খেলা। অন্য দিকে, চূড়ান্ত পেশাদার ও শিল্পের মতো ফুটবল খেলে কার্যত কার্ডিফের টিকিট পাকা করে ফেলল রেয়াল মাদ্রিদ।

খেলার দখল প্রথম থেকে দখলে নিয়ে নিয়েছিল রেয়াল। মাঝমাঠে ইসকো, মডরিচ, ক্রুস, ক্যাসামিরোরা আক্রমণের একের পর এক ছন্দ সাজিয়ে দিচ্ছিলেন রোনাল্ডো-বেঞ্জিমাদের জন্য। আপফ্রন্টে দাপট দেখালেও প্রথমার্ধে মাত্র একটিই গোল করতে পেরেছিল রেয়াল। দ্বিতীয়ার্ধে যদিও দু’টো মহাগুরুত্বপূর্ণ আরও দু’টি গোল তুলে নেয় তারা। হ্যাটট্রিক করেন রোনাল্ডো। সিআরসেভেন সুযোগ পাবেন, আর বিপক্ষকে পুঁতে দেবেন, এটা সত্যই আর নতুন করে বলে দেওয়ার প্রয়োজন নেই। এ দিন সেই কাজটা তিনি করতে পারলেন এসেনসিও ও বেঞ্জিমার সাহায্যে। ৭১ মিনিটে এসেনসিওর পাশ থেকে বল ক্লিয়ার করতে ডেভিড লুইজ ভুল করলেও, বাঁ পায়ে জাল কাঁপাতে ভুল হয়নি রোনাল্ডোর। এ ক্ষেত্রে বেঞ্জিমার বল ধরে রাখারও প্রশংসা করতে হয়। তৃতীয় গোলের ক্ষেত্রে অ্যাসেনসিও ও ভাসকাসের সাহায্য। পালটা আক্রমণে লোক বাড়িয়ে ঠান্ডা মাথায় ৮৬ মিনিটের মাথায় তৃতীয় গোল রোনাল্ডোর। টাচলাইন থেকে ভাসকাসের ক্রস আয়ত্তে এনে গোটা আতলেতিকো রক্ষণকে দাঁড় করিয়ে বল জালে জড়িয়ে দেন রোনাল্ডো।

চ্যাম্পিয়ন্স লিগে কয়েক দিন আগে যে রোনাল্ডোর গোল না পাওয়া নিয়ে কথা উঠছিল, সেই রোনাল্ডো ইউরোপের সেরা লিগের ৩ ম্যাচে ৮ গোল করে ফেললেন। যার মধ্যে রয়েছে বেয়ার্নের বিরুদ্ধে দুই ম্যাচে ৫ গোল। চ্যাম্পিয়ন্স লিগে আগের ১০০ গোলের মাইলফলক ছুঁয়েছিলেন, এ বার প্রথম ফুটবলার হিসেবে ইউরোপের সেরা প্রতিযোগিতার নকআউট স্তরে ৫০ গোলের দুরন্ত কীর্তিও গড়ে ফেললেন।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here