লন্ডন: এ বারের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিকে এক কথায় অঘটনের ট্রফি বললে ভুল কিছু বলা হবে না। পরপর তিন দিন আইসিসি র‍্যাঙ্কিং-এ নীচের তালিকায় থাকা দল হারিয়েছে ওপরে থাকা দলকে। যার ফলে পরিস্থিতি দাঁড়াল এই, যে গ্রুপ লিগের ম্যাচের শেষ তিন দিন ঠিক হবে কোন তিনটে দল সেমিফাইনালের পথে হাঁটা লাগাচ্ছে।

এখন পরিস্থিতি এই রকম যে, আইসিসির তালিকায় এক ও তিন নম্বর থাকা দলের একটি এবং সাত ও আট নম্বরের দলের একটি শেষ চারে উঠবে। ক্রিকেটের পক্ষে এটি খুব ভালো বিজ্ঞাপন কোনো সন্দেহই নেই, কিন্তু বিরাট কোহলির ওপরে যেন আকাশ ভেঙে পড়েছে। শ্রীলঙ্কার কাছে আকস্মিক হারে ধাক্কা খেয়েছে বিরাটদের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি অভিযান, ঠিক যেমন পাকিস্তানের কাছে হেরে ধাক্কা খেয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা।

বিরাট কোহলি এবং এবি ডেভিলিয়ার্স। রবিবার এক রাশ চিন্তা নিয়ে টস করতে নামবেন রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর দুই টিমমেট এবং বন্ধু। ভাগ্যের পরিহাস দু’জনকে এক জায়গায় এনে ফেলেছে। যিনি জিতবেন, তিনি এগোবেন, যিনি হারবেন তিনি বাড়ির দিকে পা বাড়াবেন।

এক কথায় বলা যায়, অধিনায়ক হওয়ার পর এটিই বিরাটের কাছে প্রথম শক্ত চ্যালেঞ্জ। এখনও পর্যন্ত যা ছুঁয়েছেন সবই সোনায় পরিণত করেছেন অধিনায়ক। হ্যাঁ, এটা ঠিক যে আইপিএলে তথৈবচ খেলেছিল আরসিবি, কিন্তু সেটা তো ঘরোয়া টুর্নামেন্ট ছিল। অথচ এ রকম পরিস্থিতিই আসত না, যদি না শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে ম্যাচটা ফস্কে না যেত। ম্যাচটি হেরে যাওয়ার পেছনে বোলারদের বিশ্রী বোলিং যেমন দায়ী ছিল, তেমনই ব্যাটসম্যানরাও কিছু অংশে দায়ী ছিলেন। রবিবারের ম্যাচে আরও আগ্রাসী ভূমিকা পালন করতে হবে ব্যাটসম্যানদের। কারণ এই মুহূর্তে ফর্মের ধারেকাছে না থাকলেও, ডেভিলিয়ার্স যে দিন ফর্মে ফিরবেন, একার হাতে ম্যাচ বের করে নেবেন। সেই সঙ্গে ডেভিড মিলার, কুইন্টন ডি’কক এবং হাশিম আমলা সমৃদ্ধ ব্যাটিং লাইনআপ, এই মুহূর্তে বিশ্বের অন্যতম সেরা বলে দেওয়া যায়।

আরও পড়ুন: ইংল্যান্ডের কাছে পরাস্ত অস্ট্রেলিয়া, শেষ চারে পৌঁছে ইতিহাস বাংলাদেশের

বিপক্ষ শিবিরে তিন জন বাঁ হাতি ব্যাটসম্যান। তাই রবিবার হয়তো দলে ফিরতে পারেন রবিচন্দ্রণ অশ্বিন। তবে তিনি খেললে হার্দিক পাণ্ড্য বসবেন না কি অন্য কেউ সেটা টসেই জানা যাবে।

আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে তিন বার মুখোমুখি হয়েছে ভারত এবং দক্ষিণ আফ্রিকা। তিন বারই জিতেছে ভারত। সুতরাং রেকর্ড যেমন ভারতের পক্ষে, তেমনই রবিবার আরও একটা জিনিস থাকবে ভারতের পক্ষে। তা হল দক্ষিণ আফ্রিকার ‘চোকার্স’ তকমা। আইসিসি টুর্নামেন্টে ভালো কিছু করার ইতিহাস নেই তাদের।

এখন দেখার, বিপক্ষের ওপর আধিপত্য বজায় রাখে বিরাটবাহিনী, নাকি অঘটনের ট্রফিতে আরও একটি অঘটন ঘটিয়ে নিজেদের ‘চোকার্স’ তকমা মুছে ফেলে এবি বাহিনী।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন