শৈবাল বিশ্বাস

মোটামুটি পরিষ্কার হয়ে গিয়েছে মোহনবাগান ও ইস্টবেঙ্গল এই দু’ দলকেই এ বার আইএসএলে অংশগ্রহণ করতে হবে। ইতিমধ্য‌ে দুই বড় দল এক সঙ্গে বসে স্থির করে নিজেদের অবস্থান সদস্য‌-সমর্থকদের জানিয়ে দেবে বলে ঘোষণা করেছে। যৌথ সাংবাদিক সম্মেলনের দিনক্ষণ নিয়ে এখন দু’ পক্ষের আলোচনা চলছে। তার আগে আলাদা ভাবে মোহনবাগান ও ইস্টবেঙ্গলের কর্তারা তাঁদের অবস্থান ঘোষণা করতে পারেন। তবে যৌথ সাংবাদিক সম্মেলনে আরও বিস্তারিত ভাবে সব কিছু ব্য‌াখ্য‌া করা হবে।

স্পনসরশিপ ছাড়া বড়ো অঙ্কের টাকা জোগাড় করা দুই বড় দলের পক্ষে অসম্ভব। অথচ ফ্র্য‌াঞ্চাইজি মানি ছাড়া দু’ দল যে খেলতে পারবে না তা আইএসএল কর্তৃপক্ষ স্পষ্ট ভাবে জানিয়ে দিয়েছে। আইএসএলের মোটা অঙ্কের ফ্র্য‌াঞ্চাইজি মানি কারা দেবে? জানা গিয়েছে, সেই সমস্য‌ার সমাধান করে দিয়েছে আইএসএল কতৃর্পক্ষ অর্থাৎ নীতা আম্বানিরাই। মোহনবাগান সভাপতি টুটু বোস এবং ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের অন্য‌তম কর্মকর্তা নীতু সরকারের সঙ্গে আইএসএল লিগের কথাবার্তায় স্পষ্ট প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলা হয়েছে, ভালো স্পনসর জোগাড় করে দেওয়ার ব্য‌াপারে তারা সম্পূর্ণ সহযোগিতা করবে। স্পনসরদের সামান্য‌ শর্ত মানলে মোহনবাগান বা ইস্টবেঙ্গলের মতো ব্র্য‌ান্ডের স্পনসর জোগাড় করতে অসুবিধা হবে না।

এ পর্যন্ত কথাবার্তা যে দিকে এগোচ্ছে তাতে টাটা স্টিল মোহনবাগানকে স্পনসর করতে রাজি আছে বলে আইএসএলের মাধ্য‌মেই জানানো হয়েছে। কিন্তু মোহনবাগান এই স্পনসরে রাজি নয়। ব্য‌ক্তিগত ভাবে মোহন-কর্তাদের টাটার ব্য‌াপারে কোনো অ্য‌ালার্জি নেই কিন্তু তাঁরা ভাবছেন মুখ্য‌মন্ত্রীর সার্বিক ভাবে টাটা গোষ্ঠীর সম্পর্কে অবস্থানের কথা। মোহন-কর্তাদের সঙ্গে মুখ্য‌মন্ত্রীর সম্পর্ক অত্য‌ন্ত ঘনিষ্ঠ। তিনি লোকসমক্ষে না বললেও ঘনিষ্ঠরা জানেন যাকে বলে পাঁড় মোহনবাগান সমর্থক। কাজেই তাঁকে চটিয়ে এই ক্লাবে কিছু হওয়ার নয়। সে ক্ষেত্রে বিকল্প কোন গোষ্ঠী মোহনবাগানের দায়িত্ব নিতে পারে?

শোনা যাচ্ছে,শেষমেষ রিল্য‌ায়েন্স গোষ্ঠীই এই শতাব্দী প্রাচীন ক্লাবের হাল ধরার জন্য‌ এগিয়ে এসেছে। খুব কিছু পরিবর্তন না হলে মোহনবাগানকে আগামী দিনে রিল্য‌ায়েন্স জিও লোগো পরে খেলতে দেখা যাবে। উল্লেখ্য‌ এ বার কলকাতা নাইট রাইডার্সের অফিসিয়াল পার্টনার হিসাবেও জিও যুক্ত হয়েছে। কলকাতার আরও একটি দলের সঙ্গে যুক্ত হতে তারা মুখিয়েই আছে বলা যায়।

কে হবে ইস্টবেঙ্গলের মুখ্য‌ স্পনসর?

জানা যাচ্ছে, এই দৌড়ে বেশ খানিকটা এগিয়ে আছে আদিত্য‌ বিড়লা গোষ্ঠী। এই গোষ্ঠীর অন্য‌তম পণ্য‌ আল্টাট্রেক সিমেন্টের লোগো গায়ে দিয়ে ইস্টবেঙ্গল আইএসএল খেলতে মাঠে নামতে পারে। নীতা আম্বানির পক্ষ থেকে কুমারমঙ্গলম বিড়লার সঙ্গে যোগাযোগ করে এই প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। এ ছাড়াও দু’টি টিম কিছু কো-স্পনসর ধরার চেষ্টা চালাচ্ছে। সে ক্ষেত্রে মোহনবাগানের পছন্দ অ্য‌াক্সিস ব্য‌াঙ্ক, অন্য‌ দিকে ইস্টবেঙ্গল কথাবার্তা চালাচ্ছে মুথুট ফিনান্স ও কোটাক মাহিন্দ্রা ব্য‌াঙ্কের সঙ্গে। যদিও দু’টি ক্ষেত্রেই আলোচনা একেবারে প্রাথমিক স্তরে রয়েছে।

কোন পরিস্থিতিতে এই দুই ক্লাবকে আইএসএল খেলতে বাধ্য‌ করা হল তা অবশ্য‌ দু’ তরফের কোনও কর্মকর্তাই প্রকাশ্য‌ে বলবেন না। কিন্তু জানা গিয়েছে, কেন্দ্রীয় সরকারের একটি মহল থেকে এই দুই দলের ওপরই প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি করা হয়েছে। ভারতের এন্টারটেনমেন্ট মার্কেট এ বার খেলাধূলাকে সব চেয়ে বড় পুঁজি করেছে। মুম্বইয়ের ম্য‌াক্স মার্কেটিং নামে একটি সংস্থা গত বছর একটি সমীক্ষা করে বলেছিল আগামী পাঁচ বছরে বিভিন্ন খেলাধূলায় বিনিয়োগের পরিমাণ গিয়ে দাঁড়াবে ৩০ হাজার কোটি টাকা। যার থেকে তিন গুণ মুনাফা ওঠাটাও অসম্ভব নয়। তারা জোর দিয়ে বলেছিল, ফুটবল হচ্ছে সব চেয়ে সম্ভাবনাময় বিনিয়োগ ক্ষেত্র। কাজেই ভয়ে হোক বা ভক্তিতে মোহনবাগান, ইস্টবেঙ্গল এর থেকে নিজেদের খুব একটা দূরে সরিয়ে রাখতে পারবে না।

2 মন্তব্য

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here