মেলবোর্ন: “আমার পক্ষে এর চেয়ে বেশি খুশি হওয়া সম্ভব না। শেষের দিকে সব কিছু এত তাড়াতাড়ি হয়ে গেল যে আমার কিছু বিশ্বাস হচ্ছে না। মনে হচ্ছে স্কোরবোর্ড-টা আর একবার দেখি”।

“আমি দূরতম স্বপ্নেও ভাবিনি অস্ট্রেলিয়ায় আমি এতদূর পৌঁছবো। অসাধারণ। আমি অসম্ভব খুশি”।

“নাদালের সঙ্গে ফাইনালে দেখা হলে দারুণ হবে। ৩ মাস আগে আমরা একটা প্রদর্শনী ম্যাচ খেলছিলাম। তখন আমার কার্যত একটা পা আর ও কব্জির চোটে কাবু। আমরা আলোচনা করছিলাম, বাকি দিনগুলো জুনিয়রদের প্র্যাকটিস দিয়েই কাটাতে হবে। অথচ দেখুন ৩ মাসের মধ্যে কী অবস্থা হল”।

১৯৭৪ সালে কেন রোজওয়েল ৩৯ বছর বয়সে যুক্তরাষ্ট্র ওপেনের ফাইনালে উঠেছিলেন। তারপর সবচেয়ে বেশি বয়সে কোনো গ্র্যান্ডস্লামের ফাইনালে উঠলেন তিনি। তার ওপর গত ৬ মাস হাঁটুর চোটের জন্য মাঠের বাইরে ছিলেন। খুশি হওয়ার কারণ আছে বৈকি ১৭টা গ্র্যান্ডস্লামজয়ী রজার ফেডেরারের।

৬ মাস কোর্টের বাইরে থাকায় এখন বিশ্বে তাঁর র‍্যাঙ্ক ১৭। স্বদেশের স্ট্যান ওয়ারিঙ্কা রয়েছেন ৪ নম্বরে। প্রথম দুটো সেট রজার জিতে নিয়েছিলেন। তবু মনে হচ্ছিল বয়স, চোট থাবা বসিয়েছে। প্রমাণও মিলল। তৃতীয় সেটে দারুণ ফিরে এলেন ওয়ারিঙ্কা। জিতলেন ৬-১। জিতলেন চতুর্থ সেটটাও। কিন্তু তিনি তো রজার ফেডেরার। পঞ্চম সেটটা এমন ভাবে জিতলেন, যেন ম্যাচের স্ক্রিপ্টটা আগেই লেখা ছিল, তিনি স্রেফ অভিনয় করলেন।

শেষ পর্যন্ত ফল হল- ৭-৫, ৬-৩, ১-৬, ৪-৬, ৬-৩।

এই নিয়ে ২৮ বার গ্র্যান্ডস্লামের ফাইনালে উঠলেন ফেডেরার। শেষবার ফাইনাল খেলেছিলেন ২০১৫ সালের ইউএস ওপেনে। ২০১২ সালের উইম্বলডনের পর কোনো গ্র্যান্ডস্লাম জেতেননি। এবার ?

২ বছর আগে শেষ কোনো গ্র্যান্ডস্লাম জিতেছেন নাদাল। শুক্রবার যদি তিনি সেমিফাইনালে জেতেন, রবিবার দুই তিরিশোর্ধ্বর মহাকাব্যিক লড়াই দেখবে হার্ডকোর্ট।

 

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here