বেঙ্গালুরু: সত্যরূপ সিদ্ধান্ত। গেল বছর এই সময়টা জুড়ে এই নামটাই ছিল খবরের শিরোনামে। সঙ্গে অবশ্য ছিল বাংলার ২০১৬-র এভারেস্ট অভিযানের গোটা দলটাই। এক বছরের মধ্যে সত্যরূপ আবার তৈরি। এ বার গন্তব্য ওশিয়ানিয়ার পুনাক জায়া যার অন্য নাম ‘কারস্টেনসৎজ পিরামিড’। সেই উদ্দেশেই দিন পনেরোর জন্য রওনা দিচ্ছেন নিউ গিনি। যাত্রা শুরু আগামী ২৫ মে। বেঙ্গালুরু-প্রবাসী সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার সত্যরূপের লক্ষ্য সেভেন সামিট। কারস্টেনসৎজ অভিযান সফল হলে লক্ষ্য পূরণে বাকি থাকবে আর মাত্র একটা ধাপ – ভিনসন ম্যাসিফ।

সেভেন সামিটের অর্থ পৃথিবীর সাতটা মহাদেশের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ জয়। ইউরোপ এবং অস্ট্রেলিয়ার সর্বোচ্চ শৃঙ্গ নিয়ে আবার মতভেদ রয়েছে। তাই বিতর্ক এড়াতে এই দু’টি মহাদেশের দু’টি করে শৃঙ্গই সামিট করতে চেয়েছিলেন সত্যরূপ। সেই উদ্দেশ্যেই পরবর্তী অভিযান। যে কোনো পর্বতারোহীর কাছেই ‘সেভেন সামিট’ একটা মাইলস্টোন। এভারেসটজয়ী সত্যরূপের ‘সেভেন সামিট’-এর শুরুটা হয়েছিল ২০১২ সালে, আফ্রিকার উচ্চতম শৃঙ্গ (কিলিমাঞ্জারো) দিয়ে।

কারস্টেনসৎজ অভিযানে সত্যরূপের সঙ্গী হচ্ছেন কর্নাটকের হুবলি শহরের নন্দিতা চন্দ্রশেখর। “নন্দিতার সঙ্গে আলাপ ২০১৬-এর এভারেস্ট অভিযানে, অ্যাকলেমাটাইজেশনে সমস্যা হওয়ায় ৪ নম্বর ক্যাম্প থেকে ফিরে যান নন্দিতা। আগামী কারস্টেনসৎজ এবং ভিনসন ম্যাসিফ দু’টো অভিযানেই একসঙ্গে যাচ্ছি আমরা”, খবর অনলাইনকে জানালেন সত্যরূপ। ২৫ তারিখ বেঙ্গালুরু থেকে যাচ্ছেন বালি। সেখান থেকে টিমিকা বিমানবন্দর। টিমিকা থেকেই শুরু আসল অভিযান।

ওশিয়ানিয়ায় অবস্থিত হলেও মেসনারের মতে কারস্টেনসৎজ হল অস্ট্রেলিয়ার প্লেটের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ। ‘কারস্টেনসৎজ পিরামিড’-এর উচ্চতা ৪৮৮৪ মিটার হলেও অভিযানের প্রতিটা ধাপ-ই চ্যালেঞ্জিং। দুর্গম পথ আর নিয়মিত বৃষ্টি আরও বিপদ সঙ্কুল করে তুলেছে পাহাড়ে ওঠার রাস্তা।২১ শতকে দাঁড়িয়ে শুনতে অবিশ্বাস্য মনে হলেও সেখানকার জঙ্গলে নিয়মিত অবাধ বিচরণ মানুষখেকোদের। গহন অরণ্যের মধ্যে দিয়ে বেস ক্যাম্পে পৌঁছনোর রাস্তায় কোনো বিপদ ঘটলে হেলিকপ্টারে করে উদ্ধার করারও কোনো উপায় থাকে না। আর স্বপ্ন ছোঁয়ার পথে প্রতিকূলতা যত বাড়ে, ততই বাড়তে থাকে সত্যরূপ-নন্দিতাদের মতো ব্যতিক্রমী মানুষদের অদম্য জেদ। ওদের জন্য খবর অনলাইনের পক্ষ থেকে রইল হার্দিক শুভেচ্ছা।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here