রাজকোটে কেকেআর-এর প্রথম ম্যাচে শাহরুখ।

সানি চক্রবর্তী:

৭ এপ্রিল, ১৩ মে। নাইটদের দশম আইপিএল অভিযানের অভিষেক ও ক্রিকেটের নন্দনকাননে গ্রুপপর্বের শেষ তথা মরন-বাঁচন ম্যাচ। কেকেআর শিবিরের প্রথম ম্যাচে রাজকোটে দলের খেলা দেখতে উপস্থিত হয়েছিলেন দলের মালিক শাহরুখ খান। মাঝে দীর্ঘ মাস খানেক কানাডা ও বিভিন্ন স্থানে শুটিংয়ের কাজে ব্যস্ত থাকায় দলের খেলা দেখতে আসতে পারেননি। খোঁজ রেখেছেন, নাইটদের ম্যাচ শেষ হওয়ার ঘণ্টাখানেকের মধ্যে রোজ টুইট করে পাশে থাকার বার্তাও দিয়েছেন। কিন্তু মাঠে উপস্থিত থাকতে পারেননি। শনিবার থাকবেন। মুম্বইয়ের পাঞ্জাবের কাছে হেরে যাওয়ায় চাপ বেড়েছে নাইটদের উপরে। তাই এমনিতেই শেষ ম্যাচে জিততেই হবে প্লে-অফে পৌঁছোতে। রাজকোটে লিন-ঝড় ও গম্ভীর সঙ্গতে শুরুটা দুরন্ত করেছিল নাইটরা। কিং খানের সামনে ফের একবার গ্রুপের শেষ ম্যাচেও কি তার অ্যাকশন রিপ্লে হবে! প্রত্যাশা তেমনটাই।

নাইট শিবিরের মরন-বাঁচন ম্যাচই এ বারে ইডেনে আইপিএলের শেষ ম্যাচ। তাই প্রথম থেকেই টিকিটের চাহিদা তুঙ্গে। শাহরুখের আশাটা ফুল-হাউস হওয়াতে সিলমোহর ফেলে দেওয়ার পক্ষে যথেষ্ট। কেউ যদি ভাবেন, একটা কি দু’টো টিকিট খোঁজ করে দেখলে কেমন হয়। তাঁদের জন্য একটাই পরামর্শ, বরং লটারির টিকিট কাটুন, সেটা পেলেও পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এমনিতেই বৃহস্পতিবার ক্রিকেটাররা চাপ কাটালেন ভিন্ন মেজাজে। দক্ষিণ কলকাতার এক অভিজাত গলফ ক্লাবে নাইট গলফ প্রতিযোগিতায় অংশ নিলেন গম্ভীর, ইউসুফ, কালিসরা। তার মাঝেই নাইট শিবিরের হেড কোচ ইঙ্গিত দিয়ে গেলেন শেষ ম্যাচে কিছু পরিবর্তনের। পাঞ্জাবের বিরুদ্ধে ব্যাটিং ব্যর্থতার জেরে যে হারতে হয়েছে তা একপ্রকার স্বীকার করে নিলেন তিনি। সঙ্গে নারিনকে হয়তো আর ওপেনিংকে দেখা যাবে না, সে রকম ইঙ্গিতও দিলেন। কালিস বলছিলেন, “নারিনকে যে কাজের জন্য পাঠানো হচ্ছিল, তাতে ও সফল। কিন্তু ও ওপেন করায় কিছু অসুবিধা হচ্ছিল কম্বিনেশনে। তাই আগের ম্যাচগুলো থেকে আমরা শিক্ষা নিয়েছি, এ বার সেটা করে দেখানোর সময়।” ইঙ্গিতটা লিনের সঙ্গে ফের গৌতম গম্ভীরের ওপেনিংয়ে ফেরার। আর লোয়ার অর্ডারে নারিনকে মেরে খেলার ছাড়পত্র দেওয়ার। রাজকোটেও লিন-গম্ভীর জুটিই কিং খানের মুখের হাসি চওড়া করেছিলেন। নাইটদের কম্বিনেশন বদল ও সবান্ধব শাহরুখের উপস্থিতি কি ভাগ্যদেবতাকেও প্রসন্ন করবে নাইটদের পক্ষে। অপেক্ষা আর কয়েক ঘণ্টার।

টানা ক্রিকেটের চিন্তা থেকে দূরে থাকতেই গলফে মেতে ওঠা। কিন্তু পাঞ্জাবের জয়ের পরে হয়তো এতটা ফুরফুরে ভাব থাকবে না নাইটদের শিবিরে। আগামীকাল ফিরবে কড়া অনুশীলন। কারণ কালিসের মতে, “অনুশীলনে যতটা কষ্ট করা যাবে, ম্যাচে ততই কম ঘাম ঝরবে।” এ দিকে শেষ ম্যাচে ইডেনে জমা হওয়া বর্জ্য পদার্থ রি-সাইকেলিং প্রক্রিয়ার মাধ্যমে স্টেডিয়াম পরিষ্কার করার ভাবনা নিয়েছে নাইট থিংক ট্যাঙ্ক। দলেও রি-সাইকেলিং দেখা গেলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না। গত ম্যাচে ডোবালো কলিন ডি গ্র্যান্ডহোমের স্থানে কোল্টার-নাইল ফিরতে পারেন। বা সুযোগ পেয়ে যেতে পারেন মারকুটে ক্যারিবিয়ান ব্যাটসম্যান রোভম্যান পাওয়েল।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here