ওয়েব ডেস্ক: ২৮ হাজার কিলো স্ট্রবেরি, ১০হাজার লিটার ক্রিম বরাদ্দ রয়েছে ৫ লক্ষ দর্শকের জন্য। গতবার ৪ লক্ষ ৯৩ হাজারেরও বেশি দর্শক হয়েছিল, এবার নিশ্চয় ৫ লক্ষ ছোঁবে। এমনই আশা দুনিয়ার প্রাচীনতম টেনিস টুর্নামেন্টের আয়োজকদের।

হ্যাঁ, সোমবারই শুরু হয়ে যাচ্ছে উইম্বলডন। একমাত্র গ্রান্ডস্লাম, যেটা ঘাসের কোর্ট খেলা হয়।

২০১৩, ২১০১৬-র পর আরও একবার উইম্বলডন জিতে ব্রিটিশ খেলোয়াড় হিসেবে ফ্রেড পেরিকে ছোঁয়ার লড়াই অ্যান্ডি মারের। এছাড়া ওয়ারিঙ্কা, নাদাল তো আছেনই। এবং আছেন তিনি। ঘাসের কোর্টর সেই কিংবদন্তি। ৩৫ বছরের রজার ফেডেরার। এবার জিতলে ৮ বার উইম্বলডন জয় হবে রজারের। তার জন্য গত প্রায় ১০ সপ্তাহ নিজেকে কোর্টের বাইরে রেখেছেন। খেলেননি ফারাসি ওপেনও।

সেরেনা উইলিয়ামস সন্তানসম্ভবা। তিনি নেই। এবারের মেয়েদের বিভাগটি তাই কিছুটা অন্যরকম। তবু আছেন পিলসকোভা, ভিতোভা, কোনটা এবং ভেনাস উইলিয়ামস।

থাক সেসব কথা। আসুন এই অবসরে জেনে নিই উইম্বলডন সম্পর্কে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য।

  • ১৮৭৭ সালে শুরু হয়েছিল এই টুর্নামেন্ট। আয়োজক অল ইংল্যান্ড লন টেনিস ক্লাব। লন্ডনেরই একটি জেলা এই উইম্বলডন। জায়গার নামেই টুর্নামেন্টের নাম। যদিও শুরুতে যে অঞ্চলে খেলা হত, সেখানে এখন আর হয় না। ওরপল রোড থেকে চার্চ রোডে সরে এসেছে ১৯২২ সালেই।
  • শেষ যে ব্রিটিশ খেলোয়াড়টি উইম্বলডন জিতেছেন, তিনি অ্যান্ডি মারে। ২০১৩ ও ২০১৬। চ্যাম্পিয়নশিপ ধরে রাখার জন্যই এবার কোর্টে নামবেন তিনি। মেয়েদের ক্ষেত্রে বিষয়টি ৪০ বছরের পুরোনো। ১৯৭৭ সালে ভার্জিনিয়া ওয়েড উইম্বলডন জেতার পর কোনো ব্রিটিশ মহিলা এই গ্র্যান্ডস্লামটি জিততে পারেননি।
ক্যারোল পিলসকোভা
  • ১৯৩৭ সালের ২১ জুন প্রথম টিভিতে দেখানো হয় উইম্বলডন। দেখিয়েছিল বিবিসি। উইম্বলডন দেখানোর স্বত্বাধিকার এখনও তাঁদেরই। সম্প্রতি এই স্বত্ব বাড়ানো হয়েছে ২০২৪ অবধি।
  • উইম্বলডন একমাত্র গ্র্যান্ডস্লাম, যেটা ঘাসের কোর্টে খেলা হয়।
  • এই  প্রতিযোগিতায় কোনো স্পনসর্ড বিজ্ঞাপন নেওয়া হয় না।
  • এই সময়টা ইংল্যান্ডে বৃষ্টির মরশুম। বৃষ্টির জন্য খেলা বন্ধ হওয়ার ইতিহাস এখানে চিরকালীন। তার থেকে বাঁচতে ২০০৯ সালে সেন্টার কোর্টের ওপর তৈরি হয়েছে ছাদ। এখন চলছে ১ নম্বর কোর্টের ওপর ছাদ তৈরির কাজ। ২০১৯-এর উইম্বলডনের সময় সেই ছাদ তৈরি হয়ে যাবে।
  • রাজ পরিবারের জন্য তৈরি রয়্যাল বক্সের সামনে খেলোয়াড়দের মাথা ঝুঁকিয়ে অভিবাদন জানানোর প্রথা ছিল দীর্ঘদিন। ২০০৩ সাল থেকে সেই নিয়ম তুলে দেওয়া হয়। তবে রানি ও/অথবা যুবরাজ উপস্থিত থাকলে অভিবাদন জানাতেই হবে।
  • উইম্বলডন ছাড়া সেন্টার কোর্টে বছরের কোনো সময়, কোনো খেলা হয় না। তবে নিয়মের ব্যতিক্রম হয়েছিল একবারই। ২০১২ সালে লন্ডন অলিম্পিকের সময় টেনিস বিভাগটি ওখানেই হয়েছিল।

  • লন্ডনের বিভিন্ন স্কুল ও এলাকা থেকে বাছাই করা হয় বল বয় এবং বল গার্লদের। প্রধান শিক্ষকের অনুমতি ছাড়া ছাত্রছাত্রীরা বল বয় বা গার্ল হতে পারে না। দিতে হয় লিখিত পরীক্ষা এবং ফিটনেসের প্রমাণ। এদের গড় বয়স রাখা হয় ১৫। ১৯৮৫ সাল পর্যন্ত মেয়েরা এই কাজটি করতে পারত না।
  • চ্যাম্পিয়নরা মূল ট্রফিটির চার ভাগের তিন ভাগ দৈর্ঘ্যর একটি রেপ্লিকা সঙ্গে নিয়ে যেতে পারেন।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন